বগুড়ায় সড়কে প্রতি মাসে ১০ জনেরও বেশি প্রাণ হারান

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে বগুড়া জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৪৯ জন। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১৩ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ১০ জন, মার্চ মাসে ১৪ জন ও এপ্রিল মাসে ১২ জন নিহত হন।  এর আগে ২০২৫ সালের ১২ মাসে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আরও ১২০ জন মানুষ। এ নিয়ে গত ১৬ মাসে জেলায় সড়কে প্রাণ হারিয়েছে ১৬৯ জন। এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিমাসে গড়ে বগুড়ায় ১০ জনেরও বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। নিহতদের মধ্যে একটি উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক কিশোর, তরুণ ও শিক্ষার্থী। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণরা বেপরোয়া গতিতে মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিহত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) জেলা পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনার কারণে গত ১৬ মাসে বগুড়া সদর থানায় ৩৪টি, শাজাহানপুর থানায় ২৯টি, শিবগঞ্জ  থানায় ২১টি, সোনাতলা থানায় ৬টি, গাবতলি থানায় ৪টি, সারিয়াকান্দি থানায় ১টি, আদমদিঘী থানায় ৫টি, দুপচাঁচিয়া থানায় ৪টি, নন্দীগ্রাম থানায় ১৬টি, কাহালু থানায় ৮টি, শেরপুর থানায় ৩১টি ও ধুনট থানায় ১টি মামল

বগুড়ায় সড়কে প্রতি মাসে ১০ জনেরও বেশি প্রাণ হারান
বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে বগুড়া জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৪৯ জন। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১৩ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ১০ জন, মার্চ মাসে ১৪ জন ও এপ্রিল মাসে ১২ জন নিহত হন।  এর আগে ২০২৫ সালের ১২ মাসে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আরও ১২০ জন মানুষ। এ নিয়ে গত ১৬ মাসে জেলায় সড়কে প্রাণ হারিয়েছে ১৬৯ জন। এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিমাসে গড়ে বগুড়ায় ১০ জনেরও বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। নিহতদের মধ্যে একটি উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক কিশোর, তরুণ ও শিক্ষার্থী। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণরা বেপরোয়া গতিতে মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিহত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) জেলা পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনার কারণে গত ১৬ মাসে বগুড়া সদর থানায় ৩৪টি, শাজাহানপুর থানায় ২৯টি, শিবগঞ্জ  থানায় ২১টি, সোনাতলা থানায় ৬টি, গাবতলি থানায় ৪টি, সারিয়াকান্দি থানায় ১টি, আদমদিঘী থানায় ৫টি, দুপচাঁচিয়া থানায় ৪টি, নন্দীগ্রাম থানায় ১৬টি, কাহালু থানায় ৮টি, শেরপুর থানায় ৩১টি ও ধুনট থানায় ১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১৬০টি  সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬৯ জন মারা গেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলেন, বগুড়ায় সড়কে মৃত্যুর ঘটনা আরও বেশি। সব তথ্য পুলিশ পায় না। অনেক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গেলেও তা পুলিশকে জানানো হয় না। পুলিশকে জানালে আইনি প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে যেতে হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় এই কারণে স্বজনরা পুলিশকে সব সময় জানায় না। অনেক সময় স্বজনরা আইনি ঝামেলা এড়াতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানাতে চায় না। স্বজনরা পুলিশকে না জানিয়েই লাশ দাফন করে ফেলে। এ জন্য সব সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ টিআই (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খাঁন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণগুলো হলো, ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, হেলমেট ব্যবহার না করে বেপরোয়া গতিতে মোটর সাইকেল চালানো, বাস ও ট্রাকে অতিরিক্ত যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন, ট্রাফিক আইন না মানা, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা ও অসতর্কতা ও পথচারীদের রাস্তা পারাপারে অসচেতনতা, যেখানে যেখানে যাত্রী ওঠানামা করাসহ নানাবিধ কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।  তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন মানলে এবং এ ব্যাপারে গণসচেতনতা বাড়াতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে। সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বগুড়া জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মাছুদার রহমান হেলাল বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগ জরুরি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow