বগুড়ায় ফলাফল সিটে আগাম স্বাক্ষর, ভুল স্বীকার করলেন প্রিসাইডিং অফিসার

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম ও ভোটার উপস্থিতির চরম সংকটের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণে চলছে। বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের নগণ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও ভেতরের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের প্রার্থী। বিশেষ করে মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফলাফল সিটে আগে থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রার্থী, ভোটার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।  জানা যায়, মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ চলাকালে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করেন, ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফল সিট অর্থাৎ ফরম ১৬-তে আগাম স্বাক্ষর গ্রহণ করছিলেন।  নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনার ভিত্তিতে এই ফরম পূরণ করে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা থাকলেও তা সকালেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়।  অভিযুক্ত কর্মকর্তা নূর ইসলাম, যিনি পেশায় সরকারি আজিজুল হক কলেজের রসায়ন বিভাগের একজন শিক্ষক, তিনি এ

বগুড়ায় ফলাফল সিটে আগাম স্বাক্ষর, ভুল স্বীকার করলেন প্রিসাইডিং অফিসার

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম ও ভোটার উপস্থিতির চরম সংকটের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণে চলছে। বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের নগণ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও ভেতরের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের প্রার্থী। বিশেষ করে মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফলাফল সিটে আগে থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রার্থী, ভোটার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

জানা যায়, মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ চলাকালে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করেন, ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফল সিট অর্থাৎ ফরম ১৬-তে আগাম স্বাক্ষর গ্রহণ করছিলেন। 

নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনার ভিত্তিতে এই ফরম পূরণ করে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা থাকলেও তা সকালেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়। 

অভিযুক্ত কর্মকর্তা নূর ইসলাম, যিনি পেশায় সরকারি আজিজুল হক কলেজের রসায়ন বিভাগের একজন শিক্ষক, তিনি এই কাজটির পেছনে অদ্ভুত এক যুক্তি প্রদর্শন করেন। শুরুতে তিনি দাবি করেন, কাজের চাপ কমাতে এবং সময় সাশ্রয় করতে তিনি কেবল আগেভাগে স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছিলেন। 

তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এবং ম্যাজিস্ট্রেট ও সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি মেনে নেন ফলাফল নির্ধারণের আগেই সিটে স্বাক্ষর নেওয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার পরিপন্থি।

এই ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ওই কেন্দ্রে উপস্থিত হন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হক। তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে বিতর্কিত সেই ফরম জব্দ করেন এবং উপস্থিত সবার সামনে সেগুলো ছিঁড়ে ফেলেন। 

ম্যাজিস্ট্রেট স্পষ্টভাবে জানান, আগাম স্বাক্ষর নেওয়ার এ ঘটনা একটি গুরুতর প্রশাসনিক বিচ্যুতি। তিনি ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন। 

বগুড়া সদর নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা জায়েদ ইবনে আবুল ফজল বলেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। এটি একটি ভুল মাত্র।পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আনেন জামায়াতের পক্ষ থেকে। 

জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার এই বিতর্কিত আচরণের বিস্তারিত বিবরণ ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছে। কমিশন থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা প্রশাসন এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow