বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

দেশজুড়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার একই সঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন—এই তিনটি পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রবল বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলায় জনজীবনে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নেমে এসেছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন এবং তার বিভিন্ন টিমের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। গতকাল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জন এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি কীভাবে জনগণের পাশে থাকতে হবে এবং কীভাবে

বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

দেশজুড়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার একই সঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন—এই তিনটি পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রবল বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলায় জনজীবনে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন এবং তার বিভিন্ন টিমের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। গতকাল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জন এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি কীভাবে জনগণের পাশে থাকতে হবে এবং কীভাবে তাদের সহায়তা করতে হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।

মাহদী আমিন বলেন, আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাদের মতামত নেবেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। উদ্ধার কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সব স্তরের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইউএনও থেকে শুরু করে ডিসি, এসপি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ওসি পর্যন্ত সবাইকে এই কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একটি সমন্বিত উদ্যোগের আওতায় কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি সরাসরি তদারকি করছেন। চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় ছুটে গেছেন। রাজনৈতিক নেতারাও তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদেরও আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা সাধারণ মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা স্থানীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে অর্থনৈতিক অনুদান নিশ্চিত করেছেন। দুই কোটি টাকারও বেশি অর্থ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসামগ্রী প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে এবং যারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কাছে চাল পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ডকে, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবিকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলায় সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পূর্ণ উদ্যমে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বন্যার পর পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় মেডিকেল টিমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সাপের দংশনের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত সড়ক ও রেলপথ সংস্কারের জন্য এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, খুব দ্রুত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশু খাতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কে সমস্যার কারণে যোগাযোগে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও স্থানীয় নেতাকর্মী, সরকার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণের সুরক্ষায় কাজ করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার একই সঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে যা যা করণীয়, তা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা, আন্তরিকতা ও মমত্ববোধ নিয়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানসহ সারাদেশে বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ, খাদ্য, পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন স্বস্তি পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে। সরকার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রতিটি মানুষের পাশে রয়েছে।

কেএইচ/এমআইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow