পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বুধবার বন্যার পানিতে শিখদের অন্যতম পবিত্র স্থাপনা ডুবে যাওয়ার পর পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ চেনাব নদীর কাদিরাবাদ বাঁধের তীররক্ষা অংশে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে। খবর এএফপির
ভারতে প্রবল বর্ষণের কারণে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলের আন্তঃসীমান্ত তিন নদী চেনাব, রাভি ও সুতলেজ নদীতে অস্বাভাবিকভাবে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর ফলে পাকিস্তানের সাড়ে ২৫ কোটি মানুষের প্রায় অর্ধেকের আবাসস্থল পাঞ্জাব প্রদেশ জুড়ে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চেনাব, রাভি এবং শতদ্রু নদীর কাছাকাছি থাকা লোকজন এবং গবাদি পশুদের সরিয়ে নিতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষ অন্যত্র চলে গেছে। বুধবার চেনাব নদীর কাদিরাবাদ বাঁধের পানির স্তর বেড়ে যাওয়ার কারণেই কর্তৃপক্ষ সেখানে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটায়।
পাঞ্জাবের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র মাজহার হোসেন বলেন, বাঁধের অবকাঠামো বাঁচাতে আমরা ডানপাশের তীররক্ষা বাঁধ ধ্বংস করে দিয়েছি। এতে পানির চাপ কিছুটা কমবে।
১৫৩৯ সালে শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানকের মৃত্যু হওয়ার স্থানটি কর্তারপুর মন্দির হিসেবে চিহ্নিত। ওই স্থাপনা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। প্রায় ১০০ জন আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারের জন্য পাঁচটি নৌকা ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বলেছে, ভারতের দিক থেকে উজানের বাঁধগুলোর পানি ছেড়ে দেওয়ায় পানি প্রবাহ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ভারত বাঁধের জলকপাট খোলার আগে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে অগ্রিম নোটিশ দিয়েছিল। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
- আরও পড়ুন:
- জম্মু-কাশ্মীরে বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৩০
- ভারতের ওপর শুল্ক কার্যকর, কী করবেন মোদী?
- আজ থেকেই ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর
পাঞ্জাবের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান ইরফান আলি বলেন, বন্যার পানির ঢল আজ রাত ও আগামীকাল সকালে লাহোর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি বর্ষার মোসুমে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান। দেশটিতে গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বর্ষণের পর ভূমিধস ও বন্যায় এরই মধ্যে ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
টিটিএন