বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান মো. হাসান জাফির তুহিন বলেছেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের জীবন-জীবিকা পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই পানির প্রতিটি ফোঁটার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পানির উৎস সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে কম পানি ব্যবহার করে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করতে আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ও পানি সাশ্রয়ী কৃষি পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজশাহী নগরীর একটি রেস্তোরাঁর হলরুমে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পরামর্শের ফলাফল যাচাই-বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএমডিএ ও এডিবি যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (এসএএফ) ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন।
মো. হাসান জাফির তুহিন বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকের উৎপাদন বাড়াতে সেচ সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে কৃষির উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করা সম্ভব নয়। কোথায় কী পরিমাণ পানি ব্যবহার হচ্ছে, পানির উৎস কী এবং ভবিষ্যতে পানির প্রাপ্যতা কেমন হবে- এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সেচ পরিকল্পনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু জমিতে পানি পৌঁছে দিলেই হবে না; কম পানি ব্যবহার করে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য। এ জন্য আধুনিক সেচ প্রযুক্তি, পানি সাশ্রয়ী কৃষি পদ্ধতি এবং ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো ও আয় বাড়ানোর বিষয়টি পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে।
বিএমডিএর চেয়ারম্যান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের বাস্তবতা দেশের অন্য এলাকার তুলনায় ভিন্ন। এখানকার মাটি, জলবায়ু, পানির প্রাপ্যতা ও কৃষি ব্যবস্থাকে বিবেচনায় নিয়েই প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। বিদেশি অভিজ্ঞতা বা পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষক ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
‘কাগজে-কলমে প্রকল্প সফল হলেই হবে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রকল্পের সুফল সরাসরি কৃষকের মাঠে পৌঁছাতে হবে। কৃষক যেন কম খরচে পর্যাপ্ত পানি পান, উৎপাদন বাড়াতে পারেন এবং আয় বৃদ্ধি করতে পারেন- প্রকল্পের সাফল্য সেখানেই।
এডিবির পরামর্শ ও গবেষণালব্ধ তথ্য কাজে লাগিয়ে বরেন্দ্র প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বাস্তবভিত্তিকভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান হাসান জাফির তুহিন। তিনি বলেন, পানি ও কৃষিকে ঘিরে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও বরেন্দ্র প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট মো. হারুন-অর-রশিদ। বক্তব্য দেন বিএমডিএ পরিচালনা বোর্ডের সদস্য মো. শফিকুল আলম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. আজিজুর রহমান, এসএএফ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মো. ফরহাদ জামিল, গেইন’র হেড অব পলিসি ড. মোহাম্মাদ মোনিরুল হাসান, এডিবির সিনিয়র কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. নূর খন্দকার, অধ্যাপক ড. ই.জি. নিয়ামুল বারি, ড. মোহাম্মদ হোসেন, বিএমডিএ সচিব মো. মেহেদি হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নাজিরুল ইসলাম ও মো. আব্দুল লতিফ।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম।
কর্মশালায় বরেন্দ্র প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং কৃষকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে এডিবির পরামর্শ ও গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক যাচাই ও মতামত গ্রহণ করা হয়।