বর্জ্য ফেলার জায়গা নেই, বাতাসে ছড়াচ্ছে বিষ
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলায় দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই যোগাযোগ মাধ্যমটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। কালকিনি ও রাজৈর পৌরসভার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় মহাসড়কের পাশে খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে শত শত টন ময়লা-আবর্জনা। এতে তীব্র দুর্গন্ধে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও পথচারীদের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আশপাশের কয়েক হাজার বাসিন্দা ফুসফুসের জটিলতা, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ নানা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। জমি সংকটের অজুহাতে বছরের পর বছর ধরে চলা এই পরিবেশ দূষণ বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যত কোনো কার্যকর ভূমিকা না থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। পদ্মা সেতু হওয়ার পর এই সড়কের ব্যস্ততা আরও বেড়ে গেছে। সড়কটি দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ চলাচল করেন। অথচ এই সড়কের পাশেই ফেলা হচ্ছে মাদারীপুরের কালকিনি ও রাজৈর পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা। মাদারীপুর জেলায় পৌরসভার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এই সড়কের পাশেই। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ পরিবেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হ
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলায় দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই যোগাযোগ মাধ্যমটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। কালকিনি ও রাজৈর পৌরসভার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় মহাসড়কের পাশে খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে শত শত টন ময়লা-আবর্জনা। এতে তীব্র দুর্গন্ধে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও পথচারীদের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আশপাশের কয়েক হাজার বাসিন্দা ফুসফুসের জটিলতা, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ নানা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।
জমি সংকটের অজুহাতে বছরের পর বছর ধরে চলা এই পরিবেশ দূষণ বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যত কোনো কার্যকর ভূমিকা না থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। পদ্মা সেতু হওয়ার পর এই সড়কের ব্যস্ততা আরও বেড়ে গেছে। সড়কটি দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ চলাচল করেন। অথচ এই সড়কের পাশেই ফেলা হচ্ছে মাদারীপুরের কালকিনি ও রাজৈর পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা। মাদারীপুর জেলায় পৌরসভার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এই সড়কের পাশেই। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ পরিবেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’
সূত্র জানায়, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক। পদ্মা সেতু হওয়ার পর এই সড়কের ব্যস্ততা আরও বেড়ে গেছে। সড়কটি দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ চলাচল করেন। অথচ এই সড়কের পাশেই ফেলা হচ্ছে মাদারীপুরের কালকিনি ও রাজৈর পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা। মাদারীপুর জেলায় পৌরসভার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এই সড়কের পাশেই। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ পরিবেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ গোপালপুর এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশেই দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দিনদিন বড় হচ্ছে ময়লার স্তূপ। এমনকি সড়কের ওপরেও উঠে গেছে ময়লা-আবর্জনা। একটু বৃষ্টি নামলেও গড়িয়ে তা সড়কে চলে আসে।
স্থানীয়রা জানান, এমনিতেই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কটি সরু। তাই এই স্থান দিয়ে গাড়ি চলাচলের পাশাপাশি ময়লার স্তূপের কারণে সাইড দিতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ফলে ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে।

ক্লিন কুয়াকাটায় কক্সবাজারের ‘সাম্পান’

খুলনার রাজবাঁধ যেন ময়লার পাহাড়

‘নির্মল বাতাসের শহর’ রাজশাহী এখন শুধু অতীত কথা
সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকার হাজী হাসমত ফিলিং স্টেশনের সামনে সড়কের পাশে রাজৈর পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। মহাসড়কের পাশেই এখানে টিন দিয়ে বেড়া ও চাল দিয়ে বানানো ঘরে ময়লা ফেলার স্থান বানানো হয়েছে। প্রতিদিন সকাল হলেই এই তিন ওয়ার্ডের ময়লা-আবর্জনা ভ্যানগাড়িতে করে এনে এই স্থানে রাখা হয়। রাজৈর-কোটালীপাড়া সড়কের চৌয়ারীবাড়িতেও ফেলা হচ্ছে বর্জ্য।
আমাদের পৌরসভার ময়লা ফেলার কোনো জায়গা নেই। মাদারীপুরের কোথাও ময়লা ফেলার জায়গা নেই। ময়লা ফেলার জন্য জমি কেনার ব্যাপারে কথা হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চেষ্টা করা হচ্ছে’
এর আগে দীর্ঘ চার বছর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের বড়মেহের এলাকায় মাদারীপুর পৌরসভার ময়লা ফেলা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর স্থানীয়দের চাপের মুখে পড়ে এই স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধ করে পৌর কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়ক থেকে ময়লা-আবর্জনা সরাতে বারবার সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিলেও কোনো সমাধান পাননি। ফলে বছরের পর বছর ধরে ময়লা-আবর্জনার কারণে বায়ু দূষণ চরম আকার ধারণ করেছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক হিসেবেই পরিচিত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের ৪৮ কিলোমিটার অংশের দুই স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সচেতনমহল।
স্থানীয় মেহেদী হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্জ্য নিষ্কাশনে অব্যবস্থাপনার ফলে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনায় পরিবেশ চরমভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে। দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি চরমভাবে বায়ু ও পানি দূষণ হচ্ছে। আমরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি চাই।’
কালকিনির দক্ষিণ গোপালপুরের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘দুর্গন্ধের কারণে এখানে থাকাই দায়। নাক মুখ চেপে চলাচল করতে হয়। মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলা বন্ধ না করলে পরিবেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

ময়লার ভাগাড়ে জিম্মি নগরবাসী, ২২ বছরেও হয়নি সমাধান

সোয়া দুই কোটি টাকার প্রকল্প অচল, ময়লার স্তূপে বাড়ছে দুর্ভোগ

বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন
ট্রাকচালক মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমি প্রায় প্রতি সপ্তাহে বরিশাল থেকে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও খুলনা মাল আনা নেয়া করি। এই স্থানে এলে দুর্গন্ধে খুব কষ্ট হয়। মহাসড়কের পাশে এভাবে ময়লা ফেলা চরম দায়িত্বহীনতা বলে আমি মনে করি।’
‘মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলার কারণে পথচারীরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলায় ওই এলাকার মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রভাব পড়ছে। ভবিষ্যতে এটা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে’
পেশায় একজন অটোরিকশাচালক সৈকত হাসান। তিনি বলেন, ‘বাতাসে প্রচণ্ড দুর্গন্ধে চলাচল করাই মুশকিল।’
মহাসড়ক থেকে ভাগাড় দ্রুত অপসারণের দাবি জানান রাজৈরের বাসিন্দা সোহেল হাসান। তিনি বলেন, ‘এই পথ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাফেরা করেন। সড়কে পাশে ময়লা-আবর্জনার কারণে একদিকে তারা যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে থাকেন, তেমনি মারাত্মক দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।’
এ বিষয়ে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহফুজুল হক বলেন, ‘আমাদের পৌরসভার ময়লা ফেলার কোনো জায়গা নেই। মাদারীপুরের কোথাও ময়লা ফেলার জায়গা নেই। ময়লা ফেলার জন্য জমি কেনার ব্যাপারে কথা হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চেষ্টা করা হচ্ছে।’
কালকিনি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফিন বলেন, ‘ময়লা ডাম্পিং করার জন্য জায়গা কিনতে চাইলেও তা পাওয়া যায়নি। জায়গা কিনতে পারলে সেখানে ময়লা ফেলা হবে।’
মাদারীপুরের সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ খলিলুজ্জামান সরদার বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলার কারণে পথচারীরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলায় ওই এলাকার মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রভাব পড়ছে। ভবিষ্যতে এটা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।’
এওয়াইএসএ/এসআর/জেআইএম
What's Your Reaction?