বর্ষায় দেয়ালে নোনা ধরলে যা করবেন
বর্ষাকালে বাড়ির সবচেয়ে পরিচিত সমস্যাগুলোর একটি হলো দেয়ালে নোনা ধরা। দেয়ালের গায়ে সাদা দাগ, রং খসে পড়া, প্লাস্টার ফুলে ওঠা কিংবা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ হওয়া নোনা ধরার লক্ষণ। অনেকেই শুধু নতুন রং করে সমস্যার সমাধান করতে চান। কিন্তু মূল কারণ দূর না করলে কিছুদিন পর আবারও একই সমস্যা ফিরে আসে। তাই বর্ষায় দেয়ালে নোনা দেখা দিলে আগে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সবচেয়ে আগে ছাদ ও বাইরের দেয়াল পরীক্ষা করুন। অনেক সময় ছাদে ছোট ফাটল বা বাইরের দেয়ালে চিড় থাকলে সেখান দিয়ে বৃষ্টির পানি ধীরে ধীরে ভেতরে প্রবেশ করে। এই আর্দ্রতাই দেয়ালের ভেতরে লবণ জমিয়ে নোনা তৈরি করে। যদি এমন ফাটল থাকে, তাহলে ওয়াটারপ্রুফ কোটিং বা বিশেষ রাসায়নিক দিয়ে দ্রুত মেরামত করুন। এতে ভবিষ্যতে পানি ঢোকার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। পাইপের লিকেজও হতে পারে বড় কারণ শুধু বৃষ্টির পানি নয়, দেয়ালের ভেতর দিয়ে যাওয়া পানির পাইপেও যদি লিকেজ থাকে, তাহলে সেখান থেকেও নোনা ধরতে পারে। যদি বর্ষা ছাড়াও বছরের অন্য সময় দেয়াল ভেজা থাকে বা রং উঠে যেতে শুরু করে, তাহলে পাইপ পরীক্ষা করানো জরুরি। প্রয়োজনে দেয়ালের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ খুলে পাইপ মেরামত করতে হবে। শুধু নতুন রং করলেই এ
বর্ষাকালে বাড়ির সবচেয়ে পরিচিত সমস্যাগুলোর একটি হলো দেয়ালে নোনা ধরা। দেয়ালের গায়ে সাদা দাগ, রং খসে পড়া, প্লাস্টার ফুলে ওঠা কিংবা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ হওয়া নোনা ধরার লক্ষণ। অনেকেই শুধু নতুন রং করে সমস্যার সমাধান করতে চান। কিন্তু মূল কারণ দূর না করলে কিছুদিন পর আবারও একই সমস্যা ফিরে আসে। তাই বর্ষায় দেয়ালে নোনা দেখা দিলে আগে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
সবচেয়ে আগে ছাদ ও বাইরের দেয়াল পরীক্ষা করুন। অনেক সময় ছাদে ছোট ফাটল বা বাইরের দেয়ালে চিড় থাকলে সেখান দিয়ে বৃষ্টির পানি ধীরে ধীরে ভেতরে প্রবেশ করে। এই আর্দ্রতাই দেয়ালের ভেতরে লবণ জমিয়ে নোনা তৈরি করে। যদি এমন ফাটল থাকে, তাহলে ওয়াটারপ্রুফ কোটিং বা বিশেষ রাসায়নিক দিয়ে দ্রুত মেরামত করুন। এতে ভবিষ্যতে পানি ঢোকার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
পাইপের লিকেজও হতে পারে বড় কারণ
শুধু বৃষ্টির পানি নয়, দেয়ালের ভেতর দিয়ে যাওয়া পানির পাইপেও যদি লিকেজ থাকে, তাহলে সেখান থেকেও নোনা ধরতে পারে। যদি বর্ষা ছাড়াও বছরের অন্য সময় দেয়াল ভেজা থাকে বা রং উঠে যেতে শুরু করে, তাহলে পাইপ পরীক্ষা করানো জরুরি। প্রয়োজনে দেয়ালের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ খুলে পাইপ মেরামত করতে হবে। শুধু নতুন রং করলেই এই সমস্যা দূর হবে না।
বাথরুমের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করলে নোনা ধরার প্রবণতা কমে
বাথরুমের পাশের দেয়ালে বেশি সতর্ক থাকুন
বাথরুমের দেয়ালে সারাক্ষণ পানি ও জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি থাকে। তাই এই অংশে নোনা ধরার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে দোতলার বাথরুমের নিচের ঘরের ছাদেও অনেক সময় এমন সমস্যা দেখা দেয়। গোসলের পর বাথরুম শুকনো রাখুন, এক্সহস্ট ফ্যান চালু করুন এবং সম্ভব হলে জানালা খুলে দিন, যাতে ভেতরের আর্দ্রতা দ্রুত বের হয়ে যেতে পারে।
ঘরের আর্দ্রতা কমানো জরুরি
দেয়ালে নোনা ধরার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত আর্দ্রতা। তাই বর্ষায় যতটা সম্ভব ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। সুযোগ পেলেই দরজা-জানালা খুলে দিন। এতে ঘরের ভেজাভাব কমবে এবং দেয়ালে আর্দ্রতা জমে থাকার সম্ভাবনাও কমে যাবে।
এসির ড্রাই মোড বা ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন
যেসব ঘরে সবসময় স্যাঁতসেঁতে ভাব থাকে, সেখানে এসির ড্রাই মোড ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি বাতাসের অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প শোষণ করে ঘর শুকনো রাখতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। ছোট ঘরের জন্য সিলিকা জেল প্যাকেটও কার্যকর হতে পারে।
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই বর্ষায় ঘর ভালো রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়
নোনা পরিষ্কার না করে নতুন রং না করা
অনেকেই নোনা ধরা দেয়ালের ওপর সরাসরি রং করে ফেলেন। এতে কিছুদিনের জন্য দেয়াল ভালো দেখালেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার একই সমস্যা ফিরে আসে। তাই প্রথমে নোনা ধরা অংশ স্ক্র্যাপার দিয়ে পরিষ্কার করুন, দেয়াল পুরোপুরি শুকাতে দিন। এরপর অ্যান্টি-ড্যাম্প বা ওয়াটারপ্রুফ প্রাইমার ব্যবহার করে তারপর রং করুন।
জলাশয়ের পাশে বাড়ি হলে বাড়তি যত্ন নিন
যেসব বাড়ি পুকুর, খাল বা জলাশয়ের পাশে, সেসব বাড়ির নিচের অংশে নোনা ধরার প্রবণতা বেশি থাকে। মাটি থেকে আর্দ্রতা উঠে এসে দেয়ালে জমতে পারে। তাই মেঝে শুকনো রাখা এবং নিয়মিত ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নোনা পরিষ্কার করবেন যেভাবে
প্রথমে একটি শুকনো বা শক্ত নাইলন ব্রাশ দিয়ে দেয়ালের ওপর জমে থাকা সাদা গুঁড়োর মতো নোনা আলতো করে ঝেড়ে ফেলুন। কাজ করার সময় মাস্ক ও হাতে দস্তানা ব্যবহার করুন, যাতে ধুলো শ্বাসের সঙ্গে শরীরে না যায়।
দেয়াল পরিষ্কার করতে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করবেন না। ভেতরের দেয়ালে কখনোই প্রেশার ওয়াশার ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে নোনা গলে দেয়ালের আরও গভীরে ঢুকে সমস্যা বাড়তে পারে।

আর্দ্র আবহাওয়ায় বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে
ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করার পর এক ভাগ সাদা ভিনেগার ও চার ভাগ পরিষ্কার পানি মিশিয়ে একটি দ্রবণ তৈরি করুন। নরম কাপড় বা স্পঞ্জ দিয়ে সেই মিশ্রণ আলতোভাবে নোনা ধরা জায়গায় মুছে নিন। এরপর শুকনো কাপড় দিয়ে চেপে চেপে ভালোভাবে মুছে দিন, যাতে দেয়ালে কোনো ভেজাভাব না থাকে।
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান
দেয়ালে নোনা ধরার সমস্যা একদিনে তৈরি হয় না, আবার একদিনে দূরও হয় না। নিয়মিত ছাদ, দেয়াল, পাইপলাইন ও বাথরুম পরীক্ষা করলে বড় ক্ষতি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। বর্ষা শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় মেরামত করে রাখলে পুরো মৌসুমজুড়ে ঘরের দেয়াল থাকবে সুন্দর, শুকনো এবং নোনা-মুক্ত।
বর্ষায় নোনা ধরা সমস্যাকে অবহেলা না করে শুরুতেই কারণ শনাক্ত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছাদ, দেয়াল, পাইপলাইন এবং ঘরের আর্দ্রতা-এই চারটি বিষয় নিয়মিত নজরে রাখলে নোনা ধরা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে শুধু দেয়ালের সৌন্দর্যই নয়, পুরো বাড়ির স্থায়িত্বও দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।
সূত্র: ম্যজিক ব্রিকস, দ্য স্প্রুস
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?
