বর্ষায় বাইকের কিছু অংশে জং ধরতে পারে, আপনার যা করণীয়

  বর্ষাকাল এলেই বাইক ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়ে নতুন এক ঝামেলা জং ধরা। প্রতিদিন অফিস, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত কাজে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক সময় বৃষ্টির মধ্যে চলাচল করতেই হয়। তবে অনেকেই জানেন না, বৃষ্টির পানি ও আর্দ্রতা ধীরে ধীরে বাইকের বিভিন্ন ধাতব অংশের ক্ষতি করতে পারে। শুরুতে সামান্য মরিচা মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সেটি বড় ধরনের সমস্যায় পরিণত হতে পারে। ফলে বাইকের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কমে যেতে পারে পারফরম্যান্স ও স্থায়িত্বও। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পানি সরাসরি যতটা ক্ষতি করে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হলো বৃষ্টির পর জমে থাকা কাদা, ধুলা ও আর্দ্রতা। এগুলো দীর্ঘসময় বাইকের ধাতব অংশে লেগে থাকলে ধীরে ধীরে অক্সিডেশন শুরু হয় এবং সেখান থেকেই জং তৈরি হয়। নিয়মিত পরিষ্কার ও যত্ন না নিলে এই সমস্যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে বাইকের চেইন ও স্প্রকেট। কারণ এই অংশ সবসময় খোলা থাকে এবং চলাচলের সময় পানি ও কাদা সরাসরি সেখানে লাগে। চেইনে ঠিকমতো লুব্রিকেন্ট ব্যবহার না করলে দ্রুত মরিচা পড়ে, যা পরে চেইন শক্ত হয়ে যাওয়া বা শব্দ করার কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে চেইনের কার্যকারিতাও কমে

বর্ষায় বাইকের কিছু অংশে জং ধরতে পারে, আপনার যা করণীয়

 

বর্ষাকাল এলেই বাইক ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়ে নতুন এক ঝামেলা জং ধরা। প্রতিদিন অফিস, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত কাজে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক সময় বৃষ্টির মধ্যে চলাচল করতেই হয়। তবে অনেকেই জানেন না, বৃষ্টির পানি ও আর্দ্রতা ধীরে ধীরে বাইকের বিভিন্ন ধাতব অংশের ক্ষতি করতে পারে। শুরুতে সামান্য মরিচা মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সেটি বড় ধরনের সমস্যায় পরিণত হতে পারে। ফলে বাইকের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কমে যেতে পারে পারফরম্যান্স ও স্থায়িত্বও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পানি সরাসরি যতটা ক্ষতি করে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হলো বৃষ্টির পর জমে থাকা কাদা, ধুলা ও আর্দ্রতা। এগুলো দীর্ঘসময় বাইকের ধাতব অংশে লেগে থাকলে ধীরে ধীরে অক্সিডেশন শুরু হয় এবং সেখান থেকেই জং তৈরি হয়। নিয়মিত পরিষ্কার ও যত্ন না নিলে এই সমস্যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে বাইকের চেইন ও স্প্রকেট। কারণ এই অংশ সবসময় খোলা থাকে এবং চলাচলের সময় পানি ও কাদা সরাসরি সেখানে লাগে। চেইনে ঠিকমতো লুব্রিকেন্ট ব্যবহার না করলে দ্রুত মরিচা পড়ে, যা পরে চেইন শক্ত হয়ে যাওয়া বা শব্দ করার কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে চেইনের কার্যকারিতাও কমে যায়।

বৃষ্টির সময় সাইলেন্সার বা এক্সহস্ট পাইপেও জং ধরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে বাইক ভিজে যাওয়ার পর যদি তা দ্রুত শুকানো না হয়, তাহলে এক্সহস্টের বাইরের অংশে মরিচা তৈরি হতে শুরু করে। অনেক সময় ভেতরেও আর্দ্রতা জমে ক্ষতি করতে পারে। একইভাবে নাট-বল্টু, ফুটরেস্ট, সাইড স্ট্যান্ড এবং ডিস্ক ব্রেকের কিছু ধাতব অংশেও জং দেখা দিতে পারে।

অনেক বাইক ব্যবহারকারী একটি বড় ভুল করেন বৃষ্টিতে ভেজা বাইক সরাসরি কভার দিয়ে ঢেকে রাখেন। এতে বাইকের ভেতরে আর্দ্রতা আটকে যায় এবং জং ধরার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে বাইক ভালোভাবে শুকিয়ে তারপর কভার ব্যবহার করা উচিত।

শুধু বাইকের বাইরের অংশ নয়, ব্যাটারির টার্মিনালেও মরিচা বা সাদা আস্তরণ জমতে পারে। এতে বিদ্যুৎ সংযোগ দুর্বল হয়ে স্টার্ট সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত ব্যাটারির সংযোগ পরীক্ষা করাও জরুরি।

জং থেকে বাইককে সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস কার্যকর হতে পারে। বৃষ্টিতে ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব শুকনো কাপড় দিয়ে বাইক মুছে ফেলা ভালো। সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়া উচিত। চেইনে নিয়মিত লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করলে মরিচা পড়ার ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি অ্যান্টি-রাস্ট স্প্রে বা ওয়াক্স ব্যবহার করলে ধাতব অংশে সুরক্ষা স্তর তৈরি হয়।

বাইক কোথায় রাখা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। খোলা জায়গায় দীর্ঘসময় ভিজে থাকলে জং দ্রুত ছড়ায়। তাই সম্ভব হলে ছাউনিযুক্ত বা শুকনো স্থানে বাইক পার্ক করা ভালো। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই অভ্যাস বাইকের আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।

অনেকেই মনে করেন, নতুন বা দামি বাইকে সহজে জং ধরবে না। বাস্তবে কিন্তু যে কোনো বাইকই আর্দ্রতা ও অবহেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বর্ষাকালে একটু বাড়তি যত্নই বাইককে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow