‘বাংলা-শেপ’ প্রকল্পে যুক্ত কৃষকদের গড় আয় বেড়েছে ২৪ শতাংশ

কৃষি বিপণনে ক্ষুদ্র কৃষকদের যুক্ত করতে ‘বাংলা-শেপ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এতে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের গড় আয় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) পরিচালিত প্রকল্পটির ফলাফল উপস্থাপন ও পর্যালোচনা কর্মশালা হয়েছে মঙ্গলবার (১২ মে)। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের মুখ্য প্রতিনিধি টাকাহাশি জুনকো। এছাড়া বার্কের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুস সালাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব শাহীন আখতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের পরিচালক সৈয়দুজ্জামান, বাংলা-শেপ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হুমায়ুন কবির, টিম লিডার মাসাহিরো কাওয়ামুরা ও এআর মালিক সিডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউস সোপান মালিক উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয় ও ডিএইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, এনজিও, উন্নয়ন সহ

‘বাংলা-শেপ’ প্রকল্পে যুক্ত কৃষকদের গড় আয় বেড়েছে ২৪ শতাংশ

কৃষি বিপণনে ক্ষুদ্র কৃষকদের যুক্ত করতে ‘বাংলা-শেপ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এতে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের গড় আয় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) পরিচালিত প্রকল্পটির ফলাফল উপস্থাপন ও পর্যালোচনা কর্মশালা হয়েছে মঙ্গলবার (১২ মে)। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের মুখ্য প্রতিনিধি টাকাহাশি জুনকো। এছাড়া বার্কের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুস সালাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব শাহীন আখতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের পরিচালক সৈয়দুজ্জামান, বাংলা-শেপ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হুমায়ুন কবির, টিম লিডার মাসাহিরো কাওয়ামুরা ও এআর মালিক সিডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউস সোপান মালিক উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয় ও ডিএইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী প্রকল্প, মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, তদারককারী ও প্রকল্পভুক্ত কৃষকরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে টাকাহাশি জুনকো বলেন, বাংলা-শেপ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনের গুরুত্ব বুঝতে শিখেছেন, যা তাদের আয় ও জীবনমানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই প্রকল্প অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষকদের চিন্তাধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করছে।

বক্তারা জানান, প্রকল্পের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় জাইকা বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে ‘শেপ’ পদ্ধতি সম্প্রসারণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতিমালায় এ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্তি, সরকারি কৃষি কার্যক্রমে এর বিস্তার, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার এবং কৃষকদের অর্থায়ন ও বাজারসুবিধা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৃষি অংশীদারত্বে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

জাইকার কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত ‘মার্কেট-অরিয়েন্টেড এগ্রিকালচার প্রমোশন প্রজেক্ট ফর স্মল-হোল্ডার হর্টিকালচার ফার্মার্স থ্রু মাল্টি-স্টেকহোল্ডার পার্টনারশিপস’ বা বাংলা-শেপ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষি বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করা। এর আওতায়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘শেপ’ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের যথাযথ ধারণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রচলিত ‘উৎপাদন করে বিক্রি’ ধারা থেকে সরে এসে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ‘বিক্রির জন্য উৎপাদন’ পদ্ধতিতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়।

বাংলা-শেপ প্রকল্পে দুই হাজার ৮১৪ জনেরও বেশি ক্ষুদ্র কৃষক অংশ নেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী রয়েছেন। এছাড়া, বাজারমুখী কৃষিচর্চায় ১১২টিরও বেশি কৃষক গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের গড় আয় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, কৃষিকাজ ও বাজার কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, পারিবারিক আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সরাসরি ভূমিকা এবং আয় ও সঞ্চয়ের সুযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তাসহ বিভিন্ন ভূমিকা পালন করেছে।

ইএইচটি/একিউএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow