বাংলাদেশ আজাদ পার্টির আত্মপ্রকাশ

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সংযোজন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আজাদ পার্টি (বিএপি)। ‘জান দেবো, জুলাই দেবো না’ স্লোগানকে সামনে রেখে দলটি ইনসাফ, নৈতিকতা ও গণতন্ত্রভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। দলটির ঘোষিত নীতি ও আদর্শে রাষ্ট্রীয় কাঠামো, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি এবং সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১৭ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে দলটির আত্মপ্রকাশ। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এ দলটির আত্মপ্রকাশ হয়। নতুন এ পার্টির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান এবং মুখপাত্র হিসেবে রয়েছেন কবির হোসেন, এমদাদ বাবু ও আল আমিন। নতুন এ দলটির একটি নীতিনির্ধারণী উপদেষ্টা কমিটি এবং নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ধীরে ধীরে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির এবং

বাংলাদেশ আজাদ পার্টির আত্মপ্রকাশ

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সংযোজন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আজাদ পার্টি (বিএপি)। ‘জান দেবো, জুলাই দেবো না’ স্লোগানকে সামনে রেখে দলটি ইনসাফ, নৈতিকতা ও গণতন্ত্রভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে।

দলটির ঘোষিত নীতি ও আদর্শে রাষ্ট্রীয় কাঠামো, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি এবং সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১৭ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে দলটির আত্মপ্রকাশ।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এ দলটির আত্মপ্রকাশ হয়।

নতুন এ পার্টির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান এবং মুখপাত্র হিসেবে রয়েছেন কবির হোসেন, এমদাদ বাবু ও আল আমিন। নতুন এ দলটির একটি নীতিনির্ধারণী উপদেষ্টা কমিটি এবং নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ধীরে ধীরে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান।

বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট তানজিনা ফেরদৌস, অধ্যাপক আমেনা রহমান, ডা. নাবিলা নাদিয়া, ন্যাশনাল গণধারা কেন্দ্রীয় নেতা মাজহারুল ইসলাম শিহাব, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড কনক বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির প্রতিনিধি শান্ত রাজু, ইনকিলাব মুভমেন্টের কমরেড মনিরুল, নাঈম প্রমুখ।

বাংলাদেশ আজাদ পার্টি তাদের ঘোষণায় একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। নতুন এই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের ঘোষণা
দলটি ১৯৭২ সালের সংবিধান সংস্কার করে নতুন গণমুখী সংবিধান প্রণয়নের কথা বলেছে। পাশাপাশি গণভোটের ভিত্তিতে জনগণের মতামত প্রতিফলন এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সুশাসন ও বিচারব্যবস্থায় জোর
বাংলাদেশ আজাদ পার্টি স্বাধীন বিচার বিভাগ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা এবং অতীতের গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতি ও সার্বভৌমত্ব
দলটি স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করে বিদেশি আধিপত্যবিরোধী অবস্থান গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও তাদের নীতিতে রয়েছে।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা
সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন এবং নাগরিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি সামরিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান
দলটি সুদমুক্ত ও অংশীদারত্বভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেছে। বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এককালীন অর্থসহায়তা এবং গ্রামভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

কৃষি, শিল্প ও শ্রমিক কল্যাণ
কৃষিকে অগ্রাধিকার খাত ঘোষণা করে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রণোদনা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

নারী উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার
নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যৌতুক ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রযুক্তি, পরিবেশ ও জ্বালানি
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলা এবং ই-শাসনব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার ও বিকেন্দ্রীকরণ
গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু এবং স্থানীয় সরকারকে আরও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দলটি।

ইএআর/এসএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow