বাংলাদেশে সিআইপি হবেন কীভাবে?

ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার প্রতি বছর ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা সিআইপি মর্যাদা দেয়। ২০২৭ সালের জন্যও সিআইপি নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সিআইপি ঘোষণার জন্য অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছে। ১ আগস্ট আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে, চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। সিআইপি হবেন কীভাবে? বেশি রপ্তানি করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিআইপি হওয়া যায় না। কোন পণ্য বা সেবা খাতে কত রপ্তানি আয় হয়েছে, সেই আয়ের অর্থ দেশে প্রত্যাবাসিত হয়েছে কি না, কর ও ভ্যাট পরিশোধের অবস্থা, ব্যাংকঋণ খেলাপি কি না- এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয় এ পুরস্কারের জন্য। এবারের আবেদনেও সিআইপি হওয়ার জন্য এসব তথ্য দিতে হবে আগ্রহীদের। প্রথম শর্ত রপ্তানি আয় সিআইপি (রপ্তানি ও ট্রেড) নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী রপ্তানি খাতকে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৩৫টি খাতে ভাগ করা হয়েছে। ফলে সব রপ্তানিকারকের জন্য একই পরিমাণ রপ্তানি আয়ের শর্ত নেই। যে খাতে ব্যবসা করছেন, সেই খাতের নির্ধারিত ন্যূনতম রপ্তানি আয় করতে হবে। আরও পড়ুন নতুন অর্থবছরেও সুখবর

বাংলাদেশে সিআইপি হবেন কীভাবে?

ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার প্রতি বছর ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা সিআইপি মর্যাদা দেয়। ২০২৭ সালের জন্যও সিআইপি নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সিআইপি ঘোষণার জন্য অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছে। ১ আগস্ট আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে, চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

সিআইপি হবেন কীভাবে?

বেশি রপ্তানি করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিআইপি হওয়া যায় না। কোন পণ্য বা সেবা খাতে কত রপ্তানি আয় হয়েছে, সেই আয়ের অর্থ দেশে প্রত্যাবাসিত হয়েছে কি না, কর ও ভ্যাট পরিশোধের অবস্থা, ব্যাংকঋণ খেলাপি কি না- এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয় এ পুরস্কারের জন্য। এবারের আবেদনেও সিআইপি হওয়ার জন্য এসব তথ্য দিতে হবে আগ্রহীদের।

প্রথম শর্ত রপ্তানি আয়

সিআইপি (রপ্তানি ও ট্রেড) নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী রপ্তানি খাতকে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৩৫টি খাতে ভাগ করা হয়েছে। ফলে সব রপ্তানিকারকের জন্য একই পরিমাণ রপ্তানি আয়ের শর্ত নেই। যে খাতে ব্যবসা করছেন, সেই খাতের নির্ধারিত ন্যূনতম রপ্তানি আয় করতে হবে।

এবার সবচেয়ে বেশি ন্যূনতম রপ্তানি আয়ের শর্ত রাখা হয়েছে তৈরি পোশাক খাতে। আবেদনের জন্য ওভেন পোশাক ও নিট পোশাকের জন্য কমপক্ষে ৭ কোটি মার্কিন ডলার আয় থাকতে হবে। এছাড়া হোম ও স্পেশালাইজড টেক্সটাইলের জন্য ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, সুতা (ডেনিম ব্যতীত) ৩ কোটি ডলার, ম্যানমেড ফিলামেন্টস এবং স্ট্যাপল ফাইবার আড়াই কোটি, ডেনিম ফেব্রিকস ও ডেনিম তৈরি পোশাক, বেসিক ক্যামিক্যালস, কাগজ ও কাগজের পণ্য ২ কোটি ডলার, টেক্সটাইল ফেব্রিকস দেড় কোটি ডলার আয় থাকতে হবে।

হিমায়িত খাদ্য, পাটজাত দ্রব্য, চামড়া (ক্রাস্ট বা ফিনিশড)- এই তিন খাতে আয় থাকতে হবে কমপক্ষে ১ কোটি ডলার। এছাড়া ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং পণ্য এবং গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ পণ্য- এই তিন খাতে ৮০ লাখ ডলার; হালকা প্রকৌশল, ওষুধ পণ্য এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি খাতে ৫০ লাখ ডলার; সিরামিক ও সব ফুটওয়্যার খাতে ৪০ লাখ ডলার; প্লাস্টিক ও মেলামাইন এবং আসবাবে ৩০ লাখ ডলার আয় থাকতেই হবে।

এদিকে চামড়াজাত পণ্য, কম্পিউটার সেবা এবং তামাক ছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্যে ২০ লাখ ডলার আয় থাকতে হবে। আর কাঁকড়া, গরুর নাড়িভুঁড়ি ইত্যাদি অপ্রচলিত পণ্য, নারী উদ্যোক্তা ও তামাক ছাড়া কৃষিপণ্যে থাকতে হবে ১০ লাখ ডলার। হস্তশিল্পজাত পণ্য রপ্তানিতে দরকার ৫ লাখ ডলার রপ্তানি আয়।

এভাবে প্রায় প্রতিটি খাতের জন্য রপ্তানি ন্যূনতম রপ্তানি আয়ের সীমা পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ, একজন রপ্তানিকারকের প্রথম কাজ হলো নিজের পণ্য বা সেবা কোন সিআইপি খাতে পড়ে এবং সেই খাতের ন্যূনতম রপ্তানি আয়ের সীমা কত- তা নিশ্চিত করা।

শুধু রপ্তানি করলেই হবে না সিআইপি হওয়ার ক্ষেত্রে রপ্তানি আয়ের হিসাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হলো ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রত্যাবাসনের তথ্য। আবেদনকারীর রপ্তানি আয়ের তথ্য প্রডিউস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) এবং ই-পিআরসি দিয়ে প্রমাণ করতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের সঙ্গে এসব তথ্য যাচাই করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশে পণ্য পাঠিয়েছে বলেই সেই রপ্তানি আয় সিআইপি নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট নয়; রপ্তানি আয়ের অর্থ দেশে যথাযথভাবে প্রত্যাবাসিত হয়েছে- এমন প্রমাণ থাকতে হবে।

কর-ভ্যাটে অনিয়ম থাকলে বাদ

আবেদনের সঙ্গে আয়কর পরিশোধের সনদ এবং ভ্যাট পরিশোধ সংক্রান্ত সনদ দিতে হয়। ফলে রপ্তানি আয় বেশি হলেও কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূরণ না করলে সিআইপি হওয়ার সুযোগ থাকবে না। একইভাবে ব্যাংকঋণ খেলাপি হওয়া বা অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টিও বড় বাধা। নীতিমালায় ঋণ ও করখেলাপিদের সিআইপি হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে। আবেদনকারীর এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়। অর্থপাচারের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও সিআইপি হওয়ার সুযোগ নেই।

পরিবেশের ছাড়পত্রও গুরুত্বপূর্ণ

সিআইপি হওয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিষয়টিও এখন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি পরিবেশদূষণের অপরাধে দণ্ডিত হলে তিনি সিআইপি হতে পারবেন না। কোনো প্রতিষ্ঠান পরিবেশদূষণের জন্য দায়ী হলে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের ক্ষেত্রেও একই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য। দণ্ডাদেশের পর পাঁচ বছর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা থাকে।

একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক পণ্য হলে পৃথক আবেদন

কোনো প্রতিষ্ঠান একাধিক পণ্য বা সেবা রপ্তানি করলে সব রপ্তানি আয় একসঙ্গে দেখিয়ে একটি খাতে আবেদন করার সুযোগ নেই। পণ্য ও সেবাভিত্তিক, এমনকি প্রয়োজন অনুযায়ী এইচএস কোডভিত্তিক পৃথক আবেদন করতে হয়।

একই মালিকানাধীন একাধিক প্রতিষ্ঠান একই ক্যাটাগরির পণ্য বা সেবা রপ্তানি করলেও আবেদনের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত রয়েছে। ২০২৫ সালের সিআইপি নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তিতেও এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

আবেদনের পুরো প্রক্রিয়াই অনলাইনে

সিআইপি (রপ্তানি)-২০২৭ নির্বাচনের জন্য এবার আবেদন নেওয়া হচ্ছে অনলাইনে। ইপিবির ২৯ জুলাইয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘সমন্বিত ডিজিটাল সেবা বাতায়ন’-এ সিআইপি মডিউলের মাধ্যমে আবেদন নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইপিবি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য সংযোজন, সংশোধনের সুযোগ এবং বিভিন্ন ফাইল ডাউনলোডের সুবিধা যুক্ত করার জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সিআইপি হলে কী সুবিধা

সিআইপি মর্যাদা মূলত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হলেও এর সঙ্গে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধাও যুক্ত। এর মধ্যে সরকারি যানবাহনে আসন সংরক্ষণ, বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনে সুপারিশ, সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি এবং সরকারি হাসপাতালের ভিআইপি লাউঞ্জ বা কেবিন ব্যবহারের মতো সুবিধা রয়েছে। সিআইপির (রপ্তানি) মেয়াদ এক বছর। তবে এক বছর পার হওয়ার পরে পরবর্তী বছরে সিআইপি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সিআইপির মেয়াদ বলবৎ থাকে।

এনএইচ/ইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow