বাংলাদেশের জ্বালানি খাত আমদানি নির্ভরতার কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে, আর এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও টেকসই পরিকল্পনা জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কৃষি জমি, স্বাস্থ্য ও জীবিকার ক্ষতি করছে। আবার ভুল সমাধানের পথে এগোনো দেশকে আরও বিপদে ফেলতে পারে।
শনিবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বনানীর হোটেল পার্লে ‘ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। যৌথভাবে সভার আয়োজন করে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক এশিয়া।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি ইনিশিয়েটিভের স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার হার্জিত সিং।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে অন্য দেশকে পথ দেখিয়েছে। কিন্তু আমরা এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ ও নানা জটিলতায় এগোনো কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া টেকসই রূপান্তর সম্ভব নয়।
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, বিদ্যুৎ খাতে সক্ষমতা তৈরি হলেও কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে কৃষি, লবণ চাষ ও জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। সঠিকভাবে পরিবেশ সমীক্ষা না করায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের অধিকার ও সুশাসন কর্মসূচি পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে আলোচনা হলেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মতামত নেওয়া হয় না। অথচ তাদের জীবনের ওপরই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে।
ইনস্টিটিউট ফর অ্যানার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স অ্যানালাইসিসের প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, আমদানি নির্ভরতার কারণে বারবার জ্বালানির দাম বাড়াতে হচ্ছে। তবুও চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের পুরো জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা দরকার।
ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি ইনিশিয়েটিভের এশিয়া ক্যাম্পেইনার শিবায়ন রাহা বলেন, আমরা ভুল সমাধানের পথে এগোচ্ছি। কয়লা থেকে আবার অ্যামোনিয়া নির্ভর কয়লা প্রকল্পে যাওয়া এর উদাহরণ। বাংলাদেশ ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি’র ১৭ দেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মো. জিয়াউল হক বলেন, বর্তমানে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার অংশ ২৩ শতাংশ। এ হার কোনোভাবেই বাড়ানো যাবে না। আগামী ১৫ বছরে অবস্থা আরও কঠিন হবে যদি কারিগরি ও আর্থিক উৎস নিশ্চিত না করা যায়।
সেন্টার ফর রিনিউএবল অ্যানার্জি সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভর্তুকির দাবি করা হলেও দায়িত্ব নেওয়ার পর তা ভুলে যাওয়া হয়। তবে আমদানি শুল্ক কমালে এ খাতকে উৎসাহিত করা যাবে।
আরএএস/এমআরএম/জেআইএম