‘বাচ্চা না হলে সংসার ছেড়ে চলে যেতে হবে’

8 hours ago 2

খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্স। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় দানবাক্স খোলা হয়। সেই দানবাক্সে পাওয়া এক চিঠিতে দেখা যায় মনের আকুতি জানিয়ে চিঠি লিখেছেন এক নারী।

তিনি লিখেন, ‘১২ বছর আগে আমার বিয়ে হয়েছে। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, পাশাপাশি তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ি এবং রোজাও রাখি। কিন্তু এই ১২ বছরে আমার গর্ভে দুটি তিন থেকে চার মাসের বাচ্চা নষ্ট হয়েছে। আমার কোনো বাচ্চা নেই। এখন আল্লাহর রহমতে বর্তমানে আমি আড়াই মাসের গর্ভবতী। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আমি যেন একটি সুস্থ সন্তানের মা হতে পারি।’

তিনি আরও লিখেন, ‘আমার পাশে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই। আমি একজন অসহায় নারী। যদি আমার বাচ্চা না হয় তাহলে আমার সংসার থেকে চলে যেতে হবে। যদি আল্লাহ আমার মনের আশা পূর্ণ করেন, তাহলে আমি আমার সন্তান নিয়ে এই মসজিদে একটি সোনার চাঁদ দেব। ইনশাআল্লাহ। আমার মনের আশা যেন পূরণ হয় সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’ পাগলা মসজিদের দান বাক্সে নামে-বেনামে এরকম অসংখ্য চিঠি পাওয়া যায়।

৪ মাস ১৮ দিন পর মসজিদের ১৩টি দান বাক্স থেকে ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এখন চলছে গণনা কার্যক্রম। তবে প্রতিবার টাকা, স্বর্ণ-রুপার পাশাপাশি আলোচনায় থাকে মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া চিঠি নিয়ে। এসব চিঠিতে লোকজন জীবনের প্রাপ্তি, বিরহ-বেদনা, আয়-উন্নতির ফরিয়াদ, চাকরির প্রত্যাশা, মনের মানুষকে কাছে পাওয়া, পরীক্ষায় ভালো ফলালের আশা, রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে আকুতি প্রকাশ করে থাকেন।

টাকা গণনায় ৩৪০ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, জেলা প্রশাসনের ১৮ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩৩ শিক্ষক ও স্টাফ, ৯ সেনাসদস্য, ৩০ পুলিশ সদস্য, ৫ জন আনসার ব্যাটালিয়ান, ১০ জন আনসার সদস্য, ১০০ জন ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। প্রতিবার তিন মাস পর খোলা হলেও এবার ৪ মাস ১৮ দিন পর খোলা হয়েছে।

দেশি টাকার পাশাপাশি সেখানে ছিল স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রাও। জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তায় দানবাক্স খোলা হয়েছে। এ ছাড়াও সেনা, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন।

Read Entire Article