‘বাজেট-জিডিপি বুঝি না, জিনিসপত্রের দাম কমুক’

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৩১ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে বাজেটের নানান অর্থনৈতিক সূচক, প্রবৃদ্ধির হার কিংবা বিনিয়োগের হিসাব সাধারণ মানুষের কাছে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাদেরপ্রত্যাশা একটাই— দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আসুক, নিত্যপণ্যের দাম কমুক। নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। রাজধানীতে দীর্ঘদিন বসবাস করেন ট্রাকচালক শহিদুল ইসলাম। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, বাজেটে কী আছে, কী নেই— সেসব বুঝি না। শুধু চাই বাজারের জিনিসপত্রের দাম কমুক। বর্তমান অবস্থায় পরিবার নিয়ে চলা খুব কঠিন হয়ে গেছে। একই ধরনের প্রত্যাশার কথা জানান ফুটপাতের ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ব্যবসার অবস্থা ভালো না। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। পরিবার গ্রামে রেখে ঢাকায় থাকি। নিত্যপণ্যের দাম কম হলে অন

‘বাজেট-জিডিপি বুঝি না, জিনিসপত্রের দাম কমুক’

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৩১ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তবে বাজেটের নানান অর্থনৈতিক সূচক, প্রবৃদ্ধির হার কিংবা বিনিয়োগের হিসাব সাধারণ মানুষের কাছে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাদেরপ্রত্যাশা একটাই— দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আসুক, নিত্যপণ্যের দাম কমুক। নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

রাজধানীতে দীর্ঘদিন বসবাস করেন ট্রাকচালক শহিদুল ইসলাম। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, বাজেটে কী আছে, কী নেই— সেসব বুঝি না। শুধু চাই বাজারের জিনিসপত্রের দাম কমুক। বর্তমান অবস্থায় পরিবার নিয়ে চলা খুব কঠিন হয়ে গেছে।

একই ধরনের প্রত্যাশার কথা জানান ফুটপাতের ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ব্যবসার অবস্থা ভালো না। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। পরিবার গ্রামে রেখে ঢাকায় থাকি। নিত্যপণ্যের দাম কম হলে অন্তত কিছুটা স্বস্তিতে থাকা যেত।

তার মতে, নতুন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হলো এমন একটি অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারবে।

রাজধানীর এক দোকানি মাসুম জাগো নিউজকে বলেন, বাজেটের খবর দেখি, অনলাইনে পড়ি। তবে আমার আগ্রহ থাকে কোন পণ্যের দাম বাড়লো আর কোনটার দাম কমলো— সেটা জানার। সবকিছুর দাম কমলে সাধারণ মানুষের জন্যই ভালো।

উবারচালক তৌহিদ বলেন, প্রতিবছর বাজেটে বিড়ি-সিগারেটের ওপর কর বাড়ানো হয়, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ে। তবে এবার বাজেট ঘোষণার আগেই এসব পণ্যের দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তৌহিদের ভাষ্য, যারা ধূমপান করেন, তারা দাম বাড়লেও কিনবেন। কিন্তু বারবার দাম বাড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের খরচই শুধু বেড়ে যায়। বাজারে আগাম মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আতোয়ার রহমান জাগো নিউজকে জানান, বাজেট ঘোষণার সময় সাধারণ মানুষের মূল প্রত্যাশা থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার। এ কারণে প্রতি বছরই তিনি বাজেট-সংক্রান্ত খবর খুঁটিয়ে পড়েন। তবে তার মতে, বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে খুব একটা প্রতিফলিত হয় না।

আতোয়ার রহমান বলেন, উচ্চমূল্যের বিলাসপণ্যের ওপর কর বাড়ানো হলেও নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে তেমন কোনো স্বস্তি পাওয়া যায় না। আমরা চাই এমন বাজেট, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমবে।

অর্থনীতির জটিল পরিসংখ্যান কিংবা প্রবৃদ্ধির হিসাবের চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় বিষয় জীবনযাত্রার ব্যয়। তাই নতুন বাজেট ঘিরে তাদের প্রত্যাশাও সীমিত— নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমুক, সংসারের খরচ কিছুটা হলেও কমে আসুক।

ইএআর/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow