বাজেটে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর জোর দাবি চিকিৎসকদের

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দেশে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং তরুণদের ধূমপানে আসক্তি কমাতেই মূলত তাদের এই দাবি। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে তারা দাবির পক্ষে নানা যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটে অসংক্রামক রোগে, যার অন্যতম মূল কারণ তামাকের সহজলভ্যতা। কম দামের কারণে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা অর্থনৈতিক ক্ষতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির হিসাব দিয়ে বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে অকালে মারা যান এবং ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা সরকারের পাওয়া রাজস্বের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এই ক্ষতি কমাতে চিকিৎসকরা বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ন্যূনতম ১০০ টাকা এবং উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের দাম যথাক্রমে ১৫০ ও ২০০ টাকা করার

বাজেটে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর জোর দাবি চিকিৎসকদের

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দেশে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং তরুণদের ধূমপানে আসক্তি কমাতেই মূলত তাদের এই দাবি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে তারা দাবির পক্ষে নানা যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটে অসংক্রামক রোগে, যার অন্যতম মূল কারণ তামাকের সহজলভ্যতা। কম দামের কারণে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা অর্থনৈতিক ক্ষতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির হিসাব দিয়ে বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে অকালে মারা যান এবং ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা সরকারের পাওয়া রাজস্বের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।

এই ক্ষতি কমাতে চিকিৎসকরা বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ন্যূনতম ১০০ টাকা এবং উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের দাম যথাক্রমে ১৫০ ও ২০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন।

সেমিনারে বক্তারা তামাকের ক্ষতিকর দিক এবং দাম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য পেশ করেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, অসংক্রামক রোগ বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ এবং তরুণ বয়সে তামাকের আসক্তি শুরু হলে পরবর্তী জীবনে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই আসন্ন বাজেটে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো জরুরি।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন জানান, তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি উভয় ক্ষেত্রেই লাভজনক এবং কর কাঠামোর সংস্কার করা হলে সরকার বর্তমানের তুলনায় আরও ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব পেতে পারে।

জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মো. আখতারউজ-জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে তামাকপণ্যের কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দাম বাড়লে বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের প্রবণতা কমে আসে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে প্যাকেটের মূল্য কমপক্ষে ১০০ টাকা নির্ধারণ করা উচিত, এতে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে সিগারেটের সহজলভ্যতা কমবে।

সবশেষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী জানান, প্রস্তাবিত কর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ছাড়বে, তিন লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

এসইউজে/একিউএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow