বাজেটে নিষিদ্ধ নিকোটিন পাউচ ও ই-সিগারেটকে বৈধতা: বাটা-বিএনটিটিপি
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের দাম প্রত্যাশিত হারে না বাড়ানো এবং নতুন দুই ধরনের তামাকপণ্যকে করের আওতায় এনে কার্যত বৈধতা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট উপস্থাপনের পর রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায় বাটা ও বিএনটিটিপি। প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় সংগঠন দুটি বলেছে, তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বৃদ্ধি করা হয়নি। একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচ এবং হিটেড টোব্যাকো পণ্য (ই-সিগারেট, ভেপ ইত্যাদি) করের আওতায় এনে কার্যত বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের বৈধকরণ এবং তামাকজাত দ্রব্যের সামান্য মূল্য বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রথমে আইন থেকে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্য নিষিদ্ধের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে। তারপর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও পরামর্শ উপেক্ষা করে করের আওতায় এনে এসব
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের দাম প্রত্যাশিত হারে না বাড়ানো এবং নতুন দুই ধরনের তামাকপণ্যকে করের আওতায় এনে কার্যত বৈধতা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট উপস্থাপনের পর রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায় বাটা ও বিএনটিটিপি।
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় সংগঠন দুটি বলেছে, তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বৃদ্ধি করা হয়নি। একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচ এবং হিটেড টোব্যাকো পণ্য (ই-সিগারেট, ভেপ ইত্যাদি) করের আওতায় এনে কার্যত বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের বৈধকরণ এবং তামাকজাত দ্রব্যের সামান্য মূল্য বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রথমে আইন থেকে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্য নিষিদ্ধের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে। তারপর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও পরামর্শ উপেক্ষা করে করের আওতায় এনে এসব পণ্যকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতিসহ দেশের কোটি কিশোর-তরুণ নতুন নেশার ফাঁদে আটকে পড়বে। শুধু রাজস্ব আয় বিবেচনায় নিয়ে এমন ক্ষতিকর নেশাকে বৈধতা দেওয়ায় মানুষ হতাশ হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় তামাকজাত দ্রব্যে অ্যাডভেলরেমের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট করারোপের দাবি জানিয়েছিলেন দেশের জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সরকার কেবল সিগারেটের যৎসামান্য মূল্য বাড়িয়েছে। সিগারেটের ১০ শলাকার মূল্য নিম্ন স্তরে ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৮০ টাকা থেকে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অতিউচ্চ স্তরে ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা করা হয়েছে। বাজারে সিগারেটের প্রায় ৭৫ শতাংশ বিক্রি হয় নিম্ন স্তরের সিগারেট। এই স্তরের মূল্যমাত্র ২ টাকা বা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে। তাই সামান্য মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন স্তরের সিগারেটকে আরো সহজলভ্য করবে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনা ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর সরকার তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য ও কর হার বৃদ্ধি করে থাকে। কিন্তু নিম্ন স্তরের সিগারেটের নামমাত্র মূল্যবৃদ্ধিতে ধূমপানের হার বাড়বে পাশাপাশি অন্যান্য স্তরের সিগারেটের ভোক্তারা নিম্ন স্তরের সিগারেট সেবন শুরু করবে। ফলে ধূমপানের প্রবণতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। বহুল ব্যবহৃত সিগারেটের সামান্য মূল্যবৃদ্ধি সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যকেও পূরণ করবে না বরং সুনির্দিষ্ট কর আরোপ না করায় তামাক কোম্পানির মুনাফা অযাচিতভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বাজেট প্রস্তাবনা থেকে ‘ও তদূর্ধ্ব’ শব্দটি বাতিল না করায় মূল্য কারসাজির মাধ্যমে তামাক কোম্পানির রাজস্ব ফাঁকি ও মুনাফা বৃদ্ধির সুযোগ থেকে যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্ন স্তরের সিগারেটের নামমাত্র মূল্য বৃদ্ধি, ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচকে বৈধতা দেওয়া, বিড়ি, জর্দা ও গুলের মূল্য বৃদ্ধি না করা জনস্বাস্থ্যে প্রশ্নে আমাদের পেছনের দিকে চলার উদাহরণ হয়ে থাকবে। এসব সিদ্ধান্ত অত্যন্ত হতাশাজনক এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে নেতিবাচক।
তবে সিগারেটের ট্যাক্স স্ট্যাম্পে কিউআর কোড ব্যবহার, ডিজিটাল ট্রাক ও ট্রেস ব্যবস্থার প্রচলন, সিগারেট ও বিড়ির কাগজের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ কয়েকটি প্রস্তাবের প্রশংসা করে তারা বলেন, এসব পদক্ষেপ সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধের মাধ্যমে কর ফাঁকি প্রতিরোধ ও সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে কার্যকর অবদান রাখবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তামাকজাত দ্রব্যের করারোপে অ্যাডভেলরেম পদ্ধতির পাশাপাশি ‘সুনির্দিষ্ট কর’ আরোপ করা হলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি, তামাকের ব্যবহার হ্রাস ও কর ফাঁকি প্রতিরোধেও কার্যকর অবদান রাখতো এবং নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো বৈধতা দেওয়া না হলে কোটি তরুণ সুরক্ষিত থাকতো। তামাকের ক্ষেত্রে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে জনস্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এজন্য তারা এনবিআরকে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের কর প্রস্তাব অনুসারে বাজেট প্রস্তাব সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছেন।
ইএইচটি/এমএএইচ/
What's Your Reaction?