বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বড় ব্যবধান রয়েছে: বিলস

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বড় ব্যবধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জাতীয় বাজেটে শ্রমিকের ন্যায্য হিস্যা, বাজেট-২০২৬-২৭ এর পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংগঠনটি এ মন্তব্য করে। বিলস জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে সময় অতিবাহিত করছে। প্রতিনিয়ত আমরা কারখানা বন্ধের এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের খবর পাচ্ছি। বকেয়া মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের রাস্তায় অবরোধ করতে হচ্ছে। লাখ লাখ আউটসোর্সিং ও দৈনিকভিত্তিক কর্মচারী জীবিকা ও চাকরির চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। দেশে ৮৫ শতাংশের বেশি শ্রমিক কোনো প্রকার আইনি সুরক্ষা ছাড়া এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন। সংগঠনটি বলছে, এমন পরিস্থিতিতে সরকারের প্রথম বাজেট ব্যাপক প্রত্যাশা সৃষ্টি করবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বরাবরের মতোই এ বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ করা হয়নি। বিশেষ করে সাড়ে সাত কোটি শ্রমজীবী মানুষ বা তাদের প্রতি

বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বড় ব্যবধান রয়েছে: বিলস

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বড় ব্যবধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)।

শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জাতীয় বাজেটে শ্রমিকের ন্যায্য হিস্যা, বাজেট-২০২৬-২৭ এর পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংগঠনটি এ মন্তব্য করে।

বিলস জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে সময় অতিবাহিত করছে। প্রতিনিয়ত আমরা কারখানা বন্ধের এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের খবর পাচ্ছি। বকেয়া মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের রাস্তায় অবরোধ করতে হচ্ছে। লাখ লাখ আউটসোর্সিং ও দৈনিকভিত্তিক কর্মচারী জীবিকা ও চাকরির চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। দেশে ৮৫ শতাংশের বেশি শ্রমিক কোনো প্রকার আইনি সুরক্ষা ছাড়া এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন।

সংগঠনটি বলছে, এমন পরিস্থিতিতে সরকারের প্রথম বাজেট ব্যাপক প্রত্যাশা সৃষ্টি করবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বরাবরের মতোই এ বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ করা হয়নি। বিশেষ করে সাড়ে সাত কোটি শ্রমজীবী মানুষ বা তাদের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

‘ফলে বাজেটের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দসমূহের কার্যকর ব্যবহার এবং বর্তমান শ্রমক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যে সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, তার যথাযথ প্রতিফলন এ বাজেটে দেখা যায় না।’

বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ ব্রিফিংয়ে সূচনা বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ। পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন গবেষণা বিভাগের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন বিলস উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেসবাহউদ্দীন আহমেদ।

এসময় বিলসের গবেষণা বিভাগের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম শ্রমিকবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বিলস এর পক্ষ থেকে ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হলো—বাজেট প্রণয়নে গণতান্ত্রিক চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া নিশ্চিত করা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে টিন-এর বাধ্যবাধকতা শ্রমজীবী মানুষের জন্য প্রত্যাহার করা, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে শ্রমিকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি এবং বেকার ও অসহায় শ্রমিকদের জন্য ‘শ্রমিক কার্ড’ প্রণয়ন করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী সমন্বিত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সব শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে নিম্নআয়ের শ্রমিকদের সুযোগ বাড়ানো, শিল্প এলাকায় ন্যায্যমূল্যে রেশন শপ চালু, বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন এবং নারী শ্রমিকদের জন্য ডরমিটরি নির্মাণের ব্যবস্থা করা এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন করে পুনরায় চালু করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

ব্রিফিংয়ে বিলস ও জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএএস/এমকেআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow