বান্দরবানে কমছে বন্যার পানি

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে থাকা বান্দরবান পার্বত্য জেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। পানি কমার সঙ্গে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে থেকে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বান্দরবান পৌরসভার আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, ক্যাচিংঘাটা, মেম্বার পাড়া, বালাঘাটা বাজার, কালাঘাটা এলাকার সড়কের পানি নেমে গেছে। সড়কের চারপাশে কাদায় পরিপূর্ণ। রাস্তার আশপাশে পড়ে আছে ময়লার স্তূপ। ড্রেনগুলো কাদায় পরিপূর্ণ । বন্যার্তরা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে এসে আবারও নিজের ঘর পরিষ্কার করছেন। কেউ কেউ পরিষ্কারের পরে মালামাল ঘরে নিয়ে আসছেন। বন্যার পানিতে আসবাবপত্র, বইখাতা, খাদ্যসামগ্রী, নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো পচে গন্ধ বের হচ্ছে। বান্দরবান পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পানি নেমে যাওয়ার পর পরই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এলাকা পরিষ্কার কাজে নেমেছেন। সকাল থেকে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতার গাড়ি সড়কে নামানো হয়েছে। বান্দরবান পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর দিদারুল হক চৌধুরী বলেন, দুর্যোগকবলিত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পৌরসভার অনেকে অব্যাহত আছে। এছাড়া

বান্দরবানে কমছে বন্যার পানি
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে থাকা বান্দরবান পার্বত্য জেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। পানি কমার সঙ্গে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে থেকে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বান্দরবান পৌরসভার আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, ক্যাচিংঘাটা, মেম্বার পাড়া, বালাঘাটা বাজার, কালাঘাটা এলাকার সড়কের পানি নেমে গেছে। সড়কের চারপাশে কাদায় পরিপূর্ণ। রাস্তার আশপাশে পড়ে আছে ময়লার স্তূপ। ড্রেনগুলো কাদায় পরিপূর্ণ । বন্যার্তরা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে এসে আবারও নিজের ঘর পরিষ্কার করছেন। কেউ কেউ পরিষ্কারের পরে মালামাল ঘরে নিয়ে আসছেন। বন্যার পানিতে আসবাবপত্র, বইখাতা, খাদ্যসামগ্রী, নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো পচে গন্ধ বের হচ্ছে। বান্দরবান পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পানি নেমে যাওয়ার পর পরই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এলাকা পরিষ্কার কাজে নেমেছেন। সকাল থেকে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতার গাড়ি সড়কে নামানো হয়েছে। বান্দরবান পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর দিদারুল হক চৌধুরী বলেন, দুর্যোগকবলিত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পৌরসভার অনেকে অব্যাহত আছে। এছাড়াও জনবল ও লজিস্টিক সংকটের কারণে বর্জ্য অপসারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। খুব দ্রুততম সময়ে পৌর এলাকার বর্জ্য অপসারণের চেষ্টা করব। জেলা শহরের ইসলামপুরের বাসিন্দা জামাল হোসেন জানান, আমাদের এলাকায় নৌকা চলছে। সকাল থেকে পানি নেই। পুরো ঘর পানিতে ডোবা। চারপাশে গন্ধ। বন্যায় বৌ বাচ্চা নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছিলাম। পানি নেমে যাওয়ায় আজ সকাল বাসায় এসেছি। এখন পরিষ্কার করছি। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। সাঙ্গু নদীর পানি ১২ দশমিক ৮০ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ১১ দশমিক ১৬ মিটারে নেমে এসেছে। বৃষ্টিপাত না বাড়লে পানি আরও কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় (১৩ জুলাই সকাল ৯টা পর্যন্ত) জেলায় ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতিভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে পড়ে। তবে উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে। বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাসান বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এ পর্যন্ত সরকারি উদ্যোগে সাড়ে তিন হাজার মানুষকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, পানি নেমে যাওয়ায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow