বান্দরবানে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি, এখনো পানিবন্দি হাজারো পরিবার

বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর উজানে টানা ৬ দিন ধরে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো জেলার হাজারো পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। পাশাপাশি সড়ক, সেতু ও কৃষি খাতে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। এসময় স্থানীয়দের মাছ ধরতে দেখা যায়। অনেকেই বন্যায় ডুবে যাওয়া বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কাদামাটি পরিষ্কার করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে নিচু এলাকার হাজারো বসতবাড়ি এখনো পানি থাকায় দুর্ভোগ কাটেনি। বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ২টি পৌরসভা ও ২৯টি ইউনিয়ন কমবেশি বন্যাকবলিত হয়েছে। এরমধ্যে বান্দরবান সদর, লামা ও আলিকদম উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ও লামা-বান্দরবান দুটি পৌরসভার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশী। দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলার ২০২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হ

বান্দরবানে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি, এখনো পানিবন্দি হাজারো পরিবার

বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর উজানে টানা ৬ দিন ধরে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো জেলার হাজারো পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। পাশাপাশি সড়ক, সেতু ও কৃষি খাতে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে।

এসময় স্থানীয়দের মাছ ধরতে দেখা যায়। অনেকেই বন্যায় ডুবে যাওয়া বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কাদামাটি পরিষ্কার করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে নিচু এলাকার হাজারো বসতবাড়ি এখনো পানি থাকায় দুর্ভোগ কাটেনি। বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ২টি পৌরসভা ও ২৯টি ইউনিয়ন কমবেশি বন্যাকবলিত হয়েছে। এরমধ্যে বান্দরবান সদর, লামা ও আলিকদম উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ও লামা-বান্দরবান দুটি পৌরসভার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশী। দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলার ২০২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ৬০০ এর বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।

বান্দরবান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল জানান, শনিবার বিকেল ৩টা থেকে রোববার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে পড়ে।

বন্যায় জেলায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যাপকভকবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিভাগের আওতাধীন প্রায় ৫৫ কিলোমিটার সড়ক, তিনটি আরসিসি সেতু এবং সাতটি বেইলি সেকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ভারী বৃষ্টিপাত না হলে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের দুধপুকুরিয়া ব্রিজঘাটা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি সেতু সচল করতে অন্তত সাতদিন সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান জানান, বন্যায় এলজিইডির আওতাধীন ২১ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৪টি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অবকাঠামো সংস্কারে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে সড়ক সংস্কারে প্রায় ২৬ কোটি এবং সেতু-কালভার্ট সংস্কারে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

এবারে বন্যায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, বন্যায় জেলার প্রায় ১ হাজার ৪৮১ হেক্টর কৃষিজমির ফসল ও ফলদ বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে আমন ও আউশ ধান, বীজতলা, বিভিন্ন ধরনের সবজি, আদা, হলুদ ও পেঁপের বাগান।

তিনি বলেন, বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব নিরূপণ করা হবে এবং প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। তবে প্রাথমিকভাবে বলা যায়, এবারের বন্যায় বান্দরবানের কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

নয়ন চক্রবর্তী/এনএইচআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow