বাফটায় বাজিমাত করল লিওনার্দোর সিনেমা
ব্রিটিশ একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টস (বাফটা) পুরস্কারে এবার একক আধিপত্য দেখিয়েছে ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ সিনেমা। এবারের ৭৯তম আসরে মনোনয়নে এগিয়ে থাকা হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনীত এ সিনেমাটি একাই দখলে নেয় ৬টি পুরস্কার। সিনেমার নির্মাতা পল টমাস অ্যান্ডারসন একাই নিয়েছেন তিন পুরস্কার (সেরা প্রযোজক, সেরা পরিচালক ও সেরা রূপান্তরিত চিত্রনাট্য)। রাজনৈতিক থ্রিলার সিনেমাটিতে দুর্নীতিগ্রস্ত সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল স্টিভেন জে. লকজো চরিত্রের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হয়েছেন আমেরিকান তারকা শন পেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য বিতর্ক ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করা এ অভিনেতার কাছে এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। সিনেমাটি যুদ্ধ-পরবর্তী মানবিক টানাপড়েনকে যেভাবে ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির সঙ্গে মিলিয়ে দেখিয়েছে, তা সমালোচক ও দর্শকের মন জয় করেছে।
এবারের আসরে নজর কাড়ে ‘সিনার্স’ সিনেমাটি। এটিও তিন বিভাগে (সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য, পার্শ্ব অভিনেত্রী ও মৌলিক সংগীত) পুরস্কার অর্জন করে নেই। এ সিনেমা দিয়ে বাফটার ইতিহাসে মৌলিক চিত্রনাট্য বিভাগে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ বিজয়ী হিসেবে নাম লেখান নির্
ব্রিটিশ একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টস (বাফটা) পুরস্কারে এবার একক আধিপত্য দেখিয়েছে ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ সিনেমা। এবারের ৭৯তম আসরে মনোনয়নে এগিয়ে থাকা হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনীত এ সিনেমাটি একাই দখলে নেয় ৬টি পুরস্কার। সিনেমার নির্মাতা পল টমাস অ্যান্ডারসন একাই নিয়েছেন তিন পুরস্কার (সেরা প্রযোজক, সেরা পরিচালক ও সেরা রূপান্তরিত চিত্রনাট্য)। রাজনৈতিক থ্রিলার সিনেমাটিতে দুর্নীতিগ্রস্ত সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল স্টিভেন জে. লকজো চরিত্রের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হয়েছেন আমেরিকান তারকা শন পেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য বিতর্ক ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করা এ অভিনেতার কাছে এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। সিনেমাটি যুদ্ধ-পরবর্তী মানবিক টানাপড়েনকে যেভাবে ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির সঙ্গে মিলিয়ে দেখিয়েছে, তা সমালোচক ও দর্শকের মন জয় করেছে।
এবারের আসরে নজর কাড়ে ‘সিনার্স’ সিনেমাটি। এটিও তিন বিভাগে (সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য, পার্শ্ব অভিনেত্রী ও মৌলিক সংগীত) পুরস্কার অর্জন করে নেই। এ সিনেমা দিয়ে বাফটার ইতিহাসে মৌলিক চিত্রনাট্য বিভাগে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ বিজয়ী হিসেবে নাম লেখান নির্মাতা রায়ান কুগলার। উনমি মোসাকু পেয়েছেন সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার ও সেরা আবহ সংগীত বিভাগে পুরস্কার জিতেছেন সুইডিশ সুরকার লুদভিগ ইয়োরানসন।
লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনীত সিনেমা ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ এবারের আসরে আধিপত্য বিস্তার করতেও সেরা অভিনেতা বিভাগে নাম আসেনি এ অভিনেতার। চমক দেখিয়ে এবারের আসরে সেরা অভিনেতার পুরস্কার বাগিয়ে নেয় রবার্ট অ্যারামায়ো। ‘আই সয়্যার’ সিনেমার জন্য এ পুরস্কার তার হাতে ওঠে। এদিকে ‘হ্যামনেট’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন জেসি বাকলি। একই সঙ্গে ‘হ্যামনেট’ সেরা ব্রিটিশ সিনেমার পুরস্কারও জিতে নিয়েছে। অ-ইংরেজি ভাষার সেরা সিনেমা হয়েছে নরওয়ের ইয়োকিম ট্রিয়ারের ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’। মানবিক গল্প বলার শক্তি যে কত গভীর, তার প্রমাণ মিলেছে এ সিনেমায়।
সেরা প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার পেয়েছে ‘মিস্টার নোবডি অ্যাগেইনস্ট পুতিন’। রাজনৈতিক পটভূমিতে ব্যক্তির অবস্থানকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটি সমসাময়িক বাস্তবতার এক তীক্ষ্ণ প্রতিফলন। অ্যানিমেশন বিভাগে জয় পেয়েছে ‘জুটোপিয়া ২’, আর শিশু ও পারিবারিক চলচ্চিত্র বিভাগে সম্মানিত হয়েছে ‘বুং’। লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী পরিচালিত মণিপুরি সিনেমা ‘বুং’-এর অন্যতম প্রযোজক বলিউড অভিনেতা-নির্মাতা ফারহান আখতার। ‘বুং’ মণিপুরি একটি শব্দ, এর বাংলা অর্থ ‘ছোট ছেলে’। মণিপুরের উত্তপ্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থানীয় এক কিশোরের দিনলিপি তুলে ধরা হয়েছে এ সিনেমায়। বাফটায় পুরস্কার জয় উত্তর-পূর্ব ভারতের আঞ্চলিক চলচ্চিত্রের জন্য একটি মাইলফলক বলা যায়।
কারিগরি বিভাগে নজর কেড়েছে গিয়ের্মো দেল তোরের ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’। প্রোডাকশন ডিজাইন, মেকআপ ও কস্টিউম ডিজাইনে তাদের সৃজনশীলতা আলাদা করে প্রশংসিত হয়েছে। ভিজ্যুয়াল এফেক্টসে পুরস্কার জিতেছে জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার : ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’।
২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বিভিন্ন দেশের সিনেমার মধ্য থেকে সেরা কাজগুলো স্বীকৃতি পেয়েছে এবারের আসরে। টেবিল টেনিস ভিত্তিক সিনেমা ‘মার্টি সুপ্রিম’ ১১টি মনোনয়ন পেলেও ফিরেছে শূন্য হাতে।
লন্ডনের সাউথব্যাংক সেন্টারের রয়েল ফেস্টিভ্যাল মিলনায়তনে ২২ ফেব্রুয়ারি বসে ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টসের (বাফটা) এবারের আয়োজন। এদিন বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্রিটিশ অভিনেতা অ্যালান কামিং। তার রসবোধে ভরপুর উপস্থাপনায় একদিকে যেমন হাসির রোল উঠেছে, অন্যদিকে শিল্পীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে সময়ের রাজনৈতিক উত্তাপ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্যের প্রশ্ন।