বাবার মৃত্যুর দিনে ভিন্ন এক সুখবর শুনলেন মেসি!

বিশ্বকাপের সময়ই খুব অসুস্থ ছিলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই মেসি ছুটে যান নিজের জন্ম শহর রোজারিওয়। সেখানে বাবাকে দেখেই চলে আসেননি। কয়েকদিন থেকে বাবার সান্নিধ্যে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে কয়েকদিন আগেই ফিরলেন আমেরিকার ফ্লোরিডায়। খেলতে নামলেন ইন্টার মিয়ামির জার্সি গায়ে। কিন্তু গতকাল রাতেই তিনি খবর পেলেন, তার সেই বাবা আর নেই। মৃত্যুবরণ করেছেন। রোজারিওর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। বাবার মৃত্যুর দিনেই আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন থেকে ভিন্ন একটি সুখবর পেলেন মেসি। আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া জানিয়ে দিয়েছেন, অবসরের বিষয়ে তারা কোনোভাবেই মেসির ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন না। মেসি নিজে যা চান, সেটাই হবে। অর্থ্যাৎ, মেসি যদি চান খেলে যাবেন নিঃশঙ্ক চিত্তে খেলে যেতে পারবেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন মেসির ওপর চাপ সৃষ্টি করা তো দূরে থাক, এমন কোনো পরিবেশও তৈরি কার হবে না, যাতে করে নিজের বিদায়ের কথা চিন্তা করেন বিশ্বসেরা এই ফুটবলার। ২০২২ বিশ্বকাপের পরও উঠেছিল একই প্রশ্ন, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেও ছিল সংশয়- এবারও কি শেষ? কিন্তু বয়স ৩৯ পেরিয়েও বিশ্বমঞ্চে মে

বাবার মৃত্যুর দিনে ভিন্ন এক সুখবর শুনলেন মেসি!

বিশ্বকাপের সময়ই খুব অসুস্থ ছিলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই মেসি ছুটে যান নিজের জন্ম শহর রোজারিওয়। সেখানে বাবাকে দেখেই চলে আসেননি। কয়েকদিন থেকে বাবার সান্নিধ্যে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে কয়েকদিন আগেই ফিরলেন আমেরিকার ফ্লোরিডায়। খেলতে নামলেন ইন্টার মিয়ামির জার্সি গায়ে।

কিন্তু গতকাল রাতেই তিনি খবর পেলেন, তার সেই বাবা আর নেই। মৃত্যুবরণ করেছেন। রোজারিওর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।

বাবার মৃত্যুর দিনেই আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন থেকে ভিন্ন একটি সুখবর পেলেন মেসি। আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া জানিয়ে দিয়েছেন, অবসরের বিষয়ে তারা কোনোভাবেই মেসির ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন না। মেসি নিজে যা চান, সেটাই হবে।

অর্থ্যাৎ, মেসি যদি চান খেলে যাবেন নিঃশঙ্ক চিত্তে খেলে যেতে পারবেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন মেসির ওপর চাপ সৃষ্টি করা তো দূরে থাক, এমন কোনো পরিবেশও তৈরি কার হবে না, যাতে করে নিজের বিদায়ের কথা চিন্তা করেন বিশ্বসেরা এই ফুটবলার।

২০২২ বিশ্বকাপের পরও উঠেছিল একই প্রশ্ন, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেও ছিল সংশয়- এবারও কি শেষ? কিন্তু বয়স ৩৯ পেরিয়েও বিশ্বমঞ্চে মেসির পারফরম্যান্স যেন সেই প্রশ্নের উত্তর বারবার পিছিয়ে দিচ্ছে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়ারও তাই মেসিকে অবসরের দিকে ঠেলে দেওয়ার কোনো তাড়া নেই।

আর্জেন্টিনার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাপিয়া বলেন, মেসির অবসর নিয়ে অন্য কারও সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। ফুটবলকে আরও কতদিন উপভোগ করবেন, সেটি মেসিই ঠিক করবেন।

‘এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাকে একটু স্বস্তিতে থাকতে দিতে হবে। ২০২২ সালে আমরা জানতামই না, সে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে কি না। তখন সে বলেছিল, এক ম্যাচ করে এগোতে চায়। আর এবার আমরা বিশ্বকাপে লিওর অসাধারণ একটি সংস্করণ দেখেছি- হয়তো তার সেরা সংস্করণই,’ বলেন তাপিয়া।

তার মতে, মেসিকে এখনই ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য চাপ দেওয়া উচিত নয়। ‘তাকে ফুটবল খেলা উপভোগ করতে দিতে হবে। এরপর সে নিজের জন্য যেটাকে সঠিক মনে করবে, সেই সিদ্ধান্তই নেবে,’ যোগ করেন এএফএ প্রধান।

বয়স ৩৯, তবু থামেনি মেসির জাদু

গত ২৪ জুন ৩৯ বছরে পা দিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করার মাত্র দুই দিন আগে ছিল তার জন্মদিন। বয়সের ভার যে তার পারফরম্যান্সে খুব একটা ছাপ ফেলেনি, সেটাই প্রমাণ করেছেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে।

২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে আট গোল করেছেন মেসি, সঙ্গে ছিল চারটি অ্যাসিস্ট। শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। কিন্তু দল শিরোপা না পেলেও মেসির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।

তাপিয়ার চোখে, এই বিশ্বকাপে মেসিই ছিলেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। ‘লিওর জন্য এটা দারুণ একটি বিশ্বকাপ ছিল। আমরা অনেক উপভোগ করেছি, আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। আমি তার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। কোনো সন্দেহ নেই, এই বিশ্বকাপে সে দলের সবচেয়ে বড় নেতা ছিল,’ বলেন তিনি।

মেসির পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে তাপিয়া আরও বলেন, ‘আমার কাছে সে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ছিল। একের পর এক ম্যাচে সে রেকর্ড ভেঙেছে।’

রেকর্ডে মেসি, তবে এগিয়ে গেলেন এমবাপে

২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন একটি রেকর্ডও গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারে ১৬ গোলের মাইলফলক পেরিয়ে তিনি জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ভেঙেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে তাকে ছাড়িয়ে যান। টুর্নামেন্ট শেষে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২২-এ।

তবু ৩৯ বছর বয়সে মেসির এমন পারফরম্যান্সই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে—আর কতদিন তাকে দেখা যাবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে?

২০৩০ বিশ্বকাপেও কি খেলবেন মেসি?

যদি মেসি ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলেন, তখন তার বয়স হবে ৪৩। সেই বয়সে বিশ্বকাপ খেলা অবশ্যই হবে বিরল এক ঘটনা। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে মাঠে নামা সবচেয়ে বেশি বয়সী নন-গোলকিপার হলেন ক্যামেরুনের রজার মিলা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে তার বয়স ছিল ৪২ বছর ৩৯ দিন।

এবারের বিশ্বকাপেও বয়সকে হার মানিয়ে খেলেছেন আরেক কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে ৪১ বছর বয়সে মাঠে নেমেছেন তিনি। ফলে মেসির ক্ষেত্রেও বয়স একেবারে অসম্ভব কোনো বাধা নয়—যদি তিনি নিজে খেলতে চান।

তবে এখনই ২০৩০ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা করেননি মেসি। এমনকি আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে কবে সরে দাঁড়াবেন, সে বিষয়েও কোনো নির্দিষ্ট ইঙ্গিত দেননি তিনি। ইন্টার মায়ামির হয়ে ক্লাব ফুটবল আর কতদিন চালিয়ে যাবেন, সেটিও অনিশ্চিত।

পরের ম্যাচেই কি বিদায়ের মঞ্চ?

আর্জেন্টিনার পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচি সেপ্টেম্বরের ২১ থেকে ২৯ তারিখের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে। ওই সময়ে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা থাকলেও এখনো প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত হয়নি।

এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, দেশের মাটিতে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী ম্যাচটি কি মেসির জন্য বিদায়ী ম্যাচ? তবে এএফএ সভাপতি তাপিয়ার বক্তব্য সেই সম্ভাবনাকে আপাতত আরও অনিশ্চিত করে দিল। কারণ, মেসি নিজে সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত আর্জেন্টিনা তাকে বিদায়ের পথে ঠেলে দিতে চায় না।

২০২৮ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখার মিশনেও নামবে আর্জেন্টিনা। ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়নরা সেই টুর্নামেন্টে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকবে। যদিও এখনো আসরের আয়োজক দেশ চূড়ান্ত হয়নি।

ফলে মেসির সামনে সময়ের হিসেবে একাধিক সম্ভাবনা খোলা। তিনি চাইলে খুব শিগগিরই জাতীয় দলকে বিদায় বলতে পারেন, আবার চাইলে আরও কয়েক বছর আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলতে পারেন। কিন্তু একটি বিষয় এখন পরিষ্কার—মেসির শেষ ম্যাচের সময়সূচি অন্য কেউ লিখবে না। সেই শেষ সিদ্ধান্তটা থাকবে শুধুই মেসির হাতে।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow