বাসা থেকে ডেকে নিয়েছিলেন যারা, তারাই দেন মৃত্যুর খবর!
বাসা থেকে পরিচিত কয়েকজন ডেকে নিয়ে যান। কয়েক ঘণ্টা পর তাদেরই একজন ফোন করে জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পঞ্চম তলায় পড়ে আছে মোহাম্মদ ইমরানের মরদেহ। ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির সেই ঘটনার চার বছর পার হলেও আলোচিত ইমরান হত্যা মামলার প্রধান আসামিদের কেউ গ্রেপ্তার হননি। একের পর এক তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে তথ্যগত অসঙ্গতি ও তদন্তের দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ জানিয়েছেন মামলার বাদী এবং নিহতের পরিবার। মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি বারবার ফোন করে ইমরানকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত নেজাম উদ্দিন ওরফে নাজিম পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান, চমেক হাসপাতালে ইমরানের মরদেহ পড়ে আছে। পরিবারের দাবি, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মামলার বাদী ও নিহতের মা বিবি আছিয়া বেগমের অভিযোগ, ঘটনার পর বাকলিয়া থানায় মামলা করতে গেলে তৎকালীন ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে আদালতের নির্দেশে ২০২২ সালে বাকলিয়া থানায় হত্যা মামলা রেকর্ড হয়। তার দাবি, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা থানায় উপস্থিত থাকলেও তাদের গ্রেপ্তারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও
বাসা থেকে পরিচিত কয়েকজন ডেকে নিয়ে যান। কয়েক ঘণ্টা পর তাদেরই একজন ফোন করে জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পঞ্চম তলায় পড়ে আছে মোহাম্মদ ইমরানের মরদেহ। ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির সেই ঘটনার চার বছর পার হলেও আলোচিত ইমরান হত্যা মামলার প্রধান আসামিদের কেউ গ্রেপ্তার হননি।
একের পর এক তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে তথ্যগত অসঙ্গতি ও তদন্তের দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ জানিয়েছেন মামলার বাদী এবং নিহতের পরিবার।
মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি বারবার ফোন করে ইমরানকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত নেজাম উদ্দিন ওরফে নাজিম পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান, চমেক হাসপাতালে ইমরানের মরদেহ পড়ে আছে।
পরিবারের দাবি, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
মামলার বাদী ও নিহতের মা বিবি আছিয়া বেগমের অভিযোগ, ঘটনার পর বাকলিয়া থানায় মামলা করতে গেলে তৎকালীন ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে আদালতের নির্দেশে ২০২২ সালে বাকলিয়া থানায় হত্যা মামলা রেকর্ড হয়। তার দাবি, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা থানায় উপস্থিত থাকলেও তাদের গ্রেপ্তারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি পুলিশ।
তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২২ সালের ৩১ মে বাকলিয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাজারে যাওয়ার সময় মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে ইমরানের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৯ জুন ডিবি পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক রিপন কুমার দাশও একই ধরনের মতামত দেন। পরে ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আবু তালেবও থানা ও ডিবির প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন।
তবে এসব প্রতিবেদনের সঙ্গে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথির অসামঞ্জস্যতা রয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। চমেক হাসপাতালের মৃত্যু সনদে ইমরানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার উল্লেখ রয়েছে। একইসঙ্গে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ফুসফুস, হৃদপিণ্ড, ফুসফুসের আবরণসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের আলামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের মায়ের আরও অভিযোগ, হত্যার আগে অভিযুক্তরা ইমরানকে দিয়ে এটিএম বুথ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা উত্তোলন করান এবং ঘটনার দিন একসঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় খাবারও খান।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য, প্রধান অভিযুক্ত নেজাম উদ্দিন ওরফে নাজিম, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে খোকন এবং খোকন ইসলাম ইমরানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তারা ফুটবল ও ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও স্থানীয়দের দাবি। প্রবাসী বাবার রেখে যাওয়া কিছু সঞ্চয়ের বিষয়টি সরল প্রকৃতির ইমরান বন্ধুদের জানিয়ে ফেলেছিলেন। সেই টাকায় বিনিয়োগের জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। প্রথমে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পর আরও টাকা না পেয়ে কৌশলে তাকে বাসা থেকে ডেকে নেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।
এদিকে মামলার তদন্তে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রধান আসামির পরিচয় নিয়ে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে মামলার এক নম্বর আসামি নেজাম উদ্দিনকে সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, নেজাম বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আবু তালেব কালবেলাকে বলেন, থানা থেকে নেজাম উদ্দিনকে সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছিল। সে কারণেই তাকে হাজির করার জন্য একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। যদি এক নম্বর আসামিকে সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়ে থাকে, সেটি ভুল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিহত ইমরান অটিস্টিক ছিলেন। বাদী তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। কোনো হত্যার প্রমাণ বা প্রয়োজনীয় নথি না পেলে কাউকে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে তদন্ত শেষ হতে এত সময় লাগার কারণ জানতে চাইলে সিআইডির উপপরিদর্শক মো. আবদুল করিম বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে আমরা সময় নিচ্ছি। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আসুক এবং একজন মা তার ছেলে হত্যার ন্যায়বিচার পান।
মামলার আইনজীবী ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিক আহমদ বলেন, মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে এক নম্বর আসামিকে সাক্ষী করার সুযোগ নেই। বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে কাউকে রাজসাক্ষী করা যেতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি, নিহতের পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়।
এদিকে চার বছরে চারবার সংবাদ সম্মেলন করেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ নিহতের পরিবার। বিবি আছিয়া বেগমের অভিযোগ, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, প্রভাবশালীদের তদবির এবং অর্থের প্রভাবের কারণে মামলাটি সঠিকভাবে এগোচ্ছে না। মামলা প্রত্যাহারের জন্য অজ্ঞাত নম্বর থেকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তার।
What's Your Reaction?