বাসা না ছাড়লে সাবেক উপদেষ্টাদের প্রতি যে নির্দেশনা সরকারের
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সরকারি বাসভবনে দীর্ঘদিন থাকতে দিতে চায় না গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। চলতি মাসের মধ্যেই তাদের সরকারি বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কারও বিশেষ অসুবিধা হয়, তাহলে সর্বোচ্চ তাকে এক থেকে দুই মাস সময় দেওয়া হবে। তবে কেউ নির্ধারিত সময়ের পর সরকারি বাসায় অবস্থান করলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। আবাসন পরিদপ্তর সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ মাসের ভাড়া নেওয়া হবে না। তবে ফেব্রুয়ারির পর সরকারি বাসায় থাকতে চাইছেন—এমন কোনো আবেদন সাবেক উপদেষ্টা বা অন্যদের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়ে ঢাকার গুলশানে নিজের বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে। আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের যেমন নীতিমালা রয়েছে, উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে সে রকম নীতিমালা নেই। তারা কোনো পেনশন সুবিধাও পান না। সে কারণে বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছ
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সরকারি বাসভবনে দীর্ঘদিন থাকতে দিতে চায় না গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। চলতি মাসের মধ্যেই তাদের সরকারি বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কারও বিশেষ অসুবিধা হয়, তাহলে সর্বোচ্চ তাকে এক থেকে দুই মাস সময় দেওয়া হবে। তবে কেউ নির্ধারিত সময়ের পর সরকারি বাসায় অবস্থান করলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
আবাসন পরিদপ্তর সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ মাসের ভাড়া নেওয়া হবে না। তবে ফেব্রুয়ারির পর সরকারি বাসায় থাকতে চাইছেন—এমন কোনো আবেদন সাবেক উপদেষ্টা বা অন্যদের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।
একই সঙ্গে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়ে ঢাকার গুলশানে নিজের বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে।
আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের যেমন নীতিমালা রয়েছে, উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে সে রকম নীতিমালা নেই। তারা কোনো পেনশন সুবিধাও পান না। সে কারণে বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সবাই চলতি মাসের মধ্যেই বাসা ছেড়ে দেবেন। বিশেষ প্রয়োজন হলে এক মাস সময় নেওয়া যেতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে ভাড়া দিতে হবে। যেহেতু ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হয়েছে। এই মাসের ভাড়া তাদের কাছ থেকে নেওয়া হবে না।
জানা গেছে, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে ২৪টি বাংলো বাড়ি ও ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এর বাইরে বিরোধীদলীয় নেতার জন্য আরেকটি বাসভবন রয়েছে। এগুলো দ্রুত মেরামত করে এক মাসের মধ্যেই তাদের বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে সেসব স্থাপনায় অবস্থান করা সাবেক সরকারের কর্তাব্যক্তিদের গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের কেউ চলতি মাসের বাইরে থাকতে চাওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেননি।
আবাসন পরিদপ্তরের লক্ষ্য, মার্চের মধ্যেই নতুন বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করা।
আবাসন পরিদপ্তর আশা করছে, চলতি মাসে বাসাগুলো খালি হলে সেগুলো মেরামত করে পর্যায়ক্রমে নতুন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীদের বরাদ্দ দেওয়া হবে। মার্চের মধ্যেই এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে আবাসন পরিদপ্তর চেষ্টা করছে একই সঙ্গে সবাইকে বাসা বরাদ্দের।
ইতোমধ্যে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ২১ জন বাসার জন্য আবেদন করেছেন। কোন বাংলো বা অ্যাপার্টমেন্ট কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। পরে আবেদনগুলো নবনিযুক্ত গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের দপ্তরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। আবেদনকারীরা কোন বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্টে থাকতে আগ্রহী, সেটি তাদের সরেজমিনে পরিদর্শন করে মন্ত্রীর দপ্তরকে জানাতে বলা হয়েছে। আবেদনকারীদের কয়েকজন পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ৪৯ জন। এ ছাড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা-বিশেষ সহকারী আছেন আরও ১০ জন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন একজন। মন্ত্রী মর্যাদায় বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপও রয়েছেন। পাশাপাশি মন্ত্রী মর্যাদায় সরকারদলীয় চিফ হুইপ ও প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় হুইপও থাকবেন একাধিক। কিন্তু বরাদ্দ দেওয়ার মতো মোট বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট আছে ৩৭টি। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য আপাতত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকে দেওয়া হবে।
জানা গেছে, এ তালিকায় খোদ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরও রয়েছেন।
এ অবস্থায় সবার আবাসনের ব্যবস্থা আবাসন পরিদপ্তর করতে পারবে কিনা– সে প্রসঙ্গে পরিদপ্তরের পরিচালক বলেন, সবাই তো আর সরকারি বাসা বরাদ্দ চাইবেন না। কাজেই সেটা সমস্যা হবে না।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন অনুবিভাগ) আকনুর রহমান এ বিষয়ে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আইনে এ ধরনের কিছু আছে কিনা, সেটি পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। তার আগে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।
সূত্র: সমকাল
What's Your Reaction?