বাসায় বসেই পরিষদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৭ নম্বর চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ভুট্টুর বিরুদ্ধে পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিতির পরিবর্তে নিজ বাসা থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এতে জন্মনিবন্ধন, প্রত্যয়নপত্র, বিভিন্ন সনদসহ প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষর নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত অনেক চেয়ারম্যান আত্মগোপনে চলে যান। তাদের মধ্যে অনেকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও যান। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অনেক ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় প্যানেল চেয়ারম্যান, প্রশাসক কিংবা বিকল্প ব্যবস্থাপনায়।
এর ধারাবাহিকতায়, হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং-১৯২৬৩/২০২৫-এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ৩ মার্চের আদেশে চেয়ারম্যান পদে বহাল হন ৭ নম্বর চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ভুট্টু। তবে অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে বহাল হওয়ার পরও তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে না বসে শহরের নিজ বাসা কিংবা বাড়িতে মাঝেমধ্যে অবস্থান করে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৭ নম্বর চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ভুট্টুর বিরুদ্ধে পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিতির পরিবর্তে নিজ বাসা থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এতে জন্মনিবন্ধন, প্রত্যয়নপত্র, বিভিন্ন সনদসহ প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষর নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত অনেক চেয়ারম্যান আত্মগোপনে চলে যান। তাদের মধ্যে অনেকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও যান। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অনেক ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় প্যানেল চেয়ারম্যান, প্রশাসক কিংবা বিকল্প ব্যবস্থাপনায়।
এর ধারাবাহিকতায়, হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং-১৯২৬৩/২০২৫-এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ৩ মার্চের আদেশে চেয়ারম্যান পদে বহাল হন ৭ নম্বর চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ভুট্টু। তবে অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে বহাল হওয়ার পরও তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে না বসে শহরের নিজ বাসা কিংবা বাড়িতে মাঝেমধ্যে অবস্থান করে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার বাসায় নিয়ে গিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে আনতে হচ্ছে। এতে সেবা পেতে অযথা বিলম্ব হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
স্বাক্ষরের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আসা মো. সুরুজ্জামান বলেন, ‘সকাল থেকে চেয়ারম্যানের জন্য অপেক্ষা করছি। পরে জানতে পারলাম তিনি পরিষদে আসেন না, শহরের বাসায় গিয়ে স্বাক্ষর নিতে হবে। অতিরিক্ত যাতায়াতের খরচ ও সময়ের ক্ষতির দায় কে নেবে?’
একই অভিযোগ করেন সেবাপ্রত্যাশী জাকিয়া জান্নাত। তিনি বলেন, ‘আজই জরুরি ভিত্তিতে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তিনি পরিষদে না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’
অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ভুট্টু বলেন, ‘আমি ওখানে গ্যানজাম করতে যামু? রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন মিছিল করে, মিটিং করে। ওখানে গেলেই পায়ে পাড়া দিয়ে মামলা করব, আমি আমার নেতাকর্মীদের হয়রানির মধ্যে ফালামু। সে কারণে বাড়ি বা বাসা থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছি। আমার দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
তবে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, চেয়ারম্যান কেন পরিষদে আসেন না তা তাদের বোধগম্য নয়। তাকে কোনো ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে না। চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্য বানোয়াট ও মিথ্যা বলে দাবি করেন তারা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র একত্র করে তার বাসায় নিয়ে গিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে আনি। তবে চেয়ারম্যান পরিষদে না বসায় সাধারণ মানুষ সময়মতো স্বাক্ষরসহ অন্যান্য জরুরি সেবা পাচ্ছেন না, ফলে তাদের ভোগান্তি বাড়ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বাসায় বসে পরিচালনার কোনো বিধান বা সুযোগ নেই।’
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা এবং জনসেবায় কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটাতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।