বাসি হলেই বেড়ে যায় যেসব খাবারের স্বাদ

আমাদের অনেকে মনে কিছু খাবার বাসি হলেই ভালো লাগে। কথাটি সব খাবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হলেও কিছু রান্না সত্যিই একদিন পর খেতে ভালো লাগে। কারণ, রান্না ঠান্ডা হয়ে কিছু সময় বিশ্রামে থাকলে মসলা, চর্বি, ঝোল ও অন্যান্য উপাদানের স্বাদ একে অপরের সঙ্গে আরও ভালোভাবে মিশে যায়। ফলে খাবারের ফ্লেভার হয় আরও ভারসাম্যপূর্ণ । তবে মনে রাখতে হবে, বাসি খাবার সুস্বাদু হওয়ার অর্থ এই নয় যে তা দীর্ঘ সময় বাইরে রেখে খাওয়া নিরাপদ। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে নিচের কয়েকটি খাবার পরের দিন আরও বেশি সুস্বাদু লাগতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া যাক বাসি হলে কোন খাবার খেতে ভালো লাগে- ১. গরুর মাংসের ঝোল গরুর মাংসের ঝোল এমন একটি খাবার, যা অনেকেই রান্নার দিন নয়, বরং পরের দিন খেতে বেশি পছন্দ করেন। ফ্রিজে রাখার পর মসলা ও ঝোলের স্বাদ ধীরে ধীরে মাংসের ভেতরে আরও ভালোভাবে প্রবেশ করে। একই সঙ্গে ঝোলের চর্বিও অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে মিশে স্বাদকে আরও সমৃদ্ধ করে। পরের দিন ধীরে ধীরে গরম করলে ঝোল আরও ঘন লাগে এবং মাংসও অনেক সময় আরও নরম ও রসালো মনে হয়। গরম ভাত, পরোটা বা নানের সঙ্গে এই ঝোলের স্বাদ যেন আরও বেড়ে যায়। ২. খিচুড়ি বর্ষার দিনে ধোঁয়া ওঠা খি

বাসি হলেই বেড়ে যায় যেসব খাবারের স্বাদ

আমাদের অনেকে মনে কিছু খাবার বাসি হলেই ভালো লাগে। কথাটি সব খাবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হলেও কিছু রান্না সত্যিই একদিন পর খেতে ভালো লাগে। কারণ, রান্না ঠান্ডা হয়ে কিছু সময় বিশ্রামে থাকলে মসলা, চর্বি, ঝোল ও অন্যান্য উপাদানের স্বাদ একে অপরের সঙ্গে আরও ভালোভাবে মিশে যায়। ফলে খাবারের ফ্লেভার হয় আরও ভারসাম্যপূর্ণ ।

তবে মনে রাখতে হবে, বাসি খাবার সুস্বাদু হওয়ার অর্থ এই নয় যে তা দীর্ঘ সময় বাইরে রেখে খাওয়া নিরাপদ। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে নিচের কয়েকটি খাবার পরের দিন আরও বেশি সুস্বাদু লাগতে পারে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক বাসি হলে কোন খাবার খেতে ভালো লাগে-

jago

১. গরুর মাংসের ঝোল

গরুর মাংসের ঝোল এমন একটি খাবার, যা অনেকেই রান্নার দিন নয়, বরং পরের দিন খেতে বেশি পছন্দ করেন। ফ্রিজে রাখার পর মসলা ও ঝোলের স্বাদ ধীরে ধীরে মাংসের ভেতরে আরও ভালোভাবে প্রবেশ করে। একই সঙ্গে ঝোলের চর্বিও অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে মিশে স্বাদকে আরও সমৃদ্ধ করে।

পরের দিন ধীরে ধীরে গরম করলে ঝোল আরও ঘন লাগে এবং মাংসও অনেক সময় আরও নরম ও রসালো মনে হয়। গরম ভাত, পরোটা বা নানের সঙ্গে এই ঝোলের স্বাদ যেন আরও বেড়ে যায়।

২. খিচুড়ি

বর্ষার দিনে ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ির তুলনা নেই। তবে অনেকের মতে, পরের দিনের খিচুড়ির স্বাদ আরও বেশি জমে। চাল, ডাল, ঘি ও মসলার স্বাদ একসঙ্গে আরও ভালোভাবে মিশে গিয়ে একটি সমৃদ্ধ ফ্লেভার তৈরি করে।
অনেকে পরের দিন সামান্য ঘি বা সরিষার তেল দিয়ে খিচুড়ি গরম করে কিংবা হালকা ভেজে খান। এতে স্বাদ ও ঘ্রাণ আরও বেড়ে যায়।

jago

৩. কোরমা ও রেজালা

বাদাম, দই, ঘি ও সুগন্ধি গরম মসলায় তৈরি কোরমা ও রেজালার মতো খাবার সময়ের সঙ্গে আরও সুস্বাদু হয়ে ওঠে। রান্নার কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই এর ফ্লেভারে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। পরের দিন গরম করলে ঝোল আরও ঘন লাগে এবং বাদাম, দই ও মসলার স্বাদ একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায়, যা প্রথম দিনের তুলনায় অনেকের কাছেই বেশি উপভোগ্য মনে হয়।

৪. ডাল

ভাজা পেঁয়াজ, রসুন, শুকনা মরিচ কিংবা কাঁচামরিচের ফোড়ন দেওয়া ডাল পরের দিন খেতে ভালো লাগে। ফ্রিজে রাখার পর ডাল কিছুটা ঘন হয়ে যায় এবং ফোড়নের সুবাস পুরো পাত্রজুড়ে আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরের দিন গরম ভাত, ভর্তা কিংবা ভাজির সঙ্গে এই ডাল অনেকেরই প্রিয় খাবার।

৫. বিরিয়ানি

বিরিয়ানির আসল জাদু অনেক সময় পরের দিন বোঝা যায়। চাল, মাংস, ঘি, জাফরান ও মসলার সুবাস রাতভর একসঙ্গে মিশে আরও সমৃদ্ধ স্বাদ তৈরি করে। পরের দিন অল্প আঁচে বা স্টিম দিয়ে গরম করলে চালের প্রতিটি দানায় মাংস ও মসলার সুগন্ধ আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিরিয়ানি বারবার গরম করা উচিত নয়, এতে স্বাদ যেমন নষ্ট হয়, তেমনি খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

jago

খাবার সংরক্ষণে যেসব বিষয় মনে রাখবেন

বাসি খাবার সুস্বাদু লাগলেও নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রান্না করা খাবার দুই ঘণ্টার বেশি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা ঠিক নয়। যত দ্রুত সম্ভব ঠান্ডা করে বায়ুরোধী পাত্রে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
খাওয়ার আগে খাবার ভালোভাবে গরম করুন এবং একই খাবার বারবার গরম করা এড়িয়ে চলুন। যদি খাবারের গন্ধ, রং বা স্বাদে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য চিকেন ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow