বিএনপি নেতার ছেলে ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত এক চিকিৎসককে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার ছেলে, ভাইসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (০৬ জুলাই) রাতে আহত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল কামালের স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার ছেলে মো. সুমন (৪০), ভাই বিল্লাল হোসেন (৫৮), বিল্লালের ছেলে মনির হোসেন (৩৫), সোহান (২৮), সিফাত (২৫) ও পারভেজ (২৫)-কে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন কালবেলাকে বলেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ জুলাই সকাল ৮টা থেকে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিল্লাল

বিএনপি নেতার ছেলে ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত এক চিকিৎসককে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার ছেলে, ভাইসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (০৬ জুলাই) রাতে আহত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল কামালের স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার ছেলে মো. সুমন (৪০), ভাই বিল্লাল হোসেন (৫৮), বিল্লালের ছেলে মনির হোসেন (৩৫), সোহান (২৮), সিফাত (২৫) ও পারভেজ (২৫)-কে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন কালবেলাকে বলেন, ঘটনায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ জুলাই সকাল ৮টা থেকে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিল্লাল হোসেন তার অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাইরে থেকে একটি ইনজেকশন আনতে বলা হয়। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দুই রোগীকে জরুরি বিভাগে আনা হলে চিকিৎসক তাদের চিকিৎসায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরে ইনজেকশন প্রয়োগে বিলম্বকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে একদল লোক হাসপাতালে প্রবেশ করে চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল কামালের ওপর হামলা চালায় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে হাসপাতালের আরও কয়েকজন কর্মীও আহত হন। বর্তমানে আহত চিকিৎসক ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া কালবেলাকে বলেন, ‘হাসপাতালে যাওয়ার সময় জরুরি বিভাগে কোনো গুরুতর রোগীর চাপ ছিল না। চিকিৎসক তাদের বাইরে থেকে ইনজেকশন কিনে আনতে বলেন। ইনজেকশন নিয়ে ফিরে আসার পরও সেটি প্রয়োগ না করে রোগীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। এ নিয়ে রোগীর স্বামী কারণ জানতে চাইলে চিকিৎসক তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে জরুরি বিভাগ থেকে বের করে দেন। পরে ওই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।’

ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল কামাল বর্তমানে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow