বিএনপি নেতার ৫০ লাখ টাকা ছিনতাই, ড্রাইভারসহ গ্রেপ্তার ৯

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পারাইরচক লালমাটিয়া এলাকায় টাকাবাহী গাড়ি থেকে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনের বিকাশ এজেন্টের ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা ডাকাতির ঘটনায় বিকাশ কোম্পানির সুপারভাইজার, ড্রাইভার ও নিরাপত্তাকর্মীসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৮ মে) রাত ও শনিবার সকালে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, দক্ষিণ সুরমা শেখপাড়ার শাহেদ (৪২), কমলগঞ্জের কামাল হোসেন (৩৫), কানাইঘাটের আদনান (৩৮) ও আবু তাহের(২৬), জকিগঞ্জের রূপায়ণ বিশ্বাস (৪০), দক্ষিণ সুরমার রোমান আহমদ (৪৪), রাজনগরের সালমান আহমদ (২৮), বিশ্বনাথের গোলাম শহীদ (২৯) এবং কানাইঘাটের জুনায়েদ (২২)। তাদের মধ্যে শাহেদ আহমদ বিকাশের সিলেট অঞ্চলের সুপারভাইজার, আদনান আবু তাহের (২৬) ও রূপায়ণ বিশ্বাস (৪০) ডিএসও। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার আসামিরা অজ্ঞাত ডাকাত দলের সঙ্গে যোগসাজশ করে টাকাবাহ

বিএনপি নেতার ৫০ লাখ টাকা ছিনতাই, ড্রাইভারসহ গ্রেপ্তার ৯

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পারাইরচক লালমাটিয়া এলাকায় টাকাবাহী গাড়ি থেকে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনের বিকাশ এজেন্টের ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা ডাকাতির ঘটনায় বিকাশ কোম্পানির সুপারভাইজার, ড্রাইভার ও নিরাপত্তাকর্মীসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৮ মে) রাত ও শনিবার সকালে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, দক্ষিণ সুরমা শেখপাড়ার শাহেদ (৪২), কমলগঞ্জের কামাল হোসেন (৩৫), কানাইঘাটের আদনান (৩৮) ও আবু তাহের(২৬), জকিগঞ্জের রূপায়ণ বিশ্বাস (৪০), দক্ষিণ সুরমার রোমান আহমদ (৪৪), রাজনগরের সালমান আহমদ (২৮), বিশ্বনাথের গোলাম শহীদ (২৯) এবং কানাইঘাটের জুনায়েদ (২২)।


তাদের মধ্যে শাহেদ আহমদ বিকাশের সিলেট অঞ্চলের সুপারভাইজার, আদনান আবু তাহের (২৬) ও রূপায়ণ বিশ্বাস (৪০) ডিএসও।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার আসামিরা অজ্ঞাত ডাকাত দলের সঙ্গে যোগসাজশ করে টাকাবাহী গাড়ির গতিবিধি সম্পর্কে আগাম তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। এছাড়া ঝুঁকির বিষয়টি জানার পরও গাড়ির গতি কমিয়ে ডাকাতির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।

পুলিশ জানায়, সিলেট মহানগর বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি নাসিম হোসাইন মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের সিলেট বিভাগীয় ডিস্ট্রিবিউটর। ব্যাংক বন্ধ থাকায় শুক্রবার সকালে নিজের কর্মীদের দিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জসহ সেই এলাকার ব্যবসায়ীদের দিতে ৮১ লাখ ২০ টাকা নিয়ে প্রাইভেটকারে করে পাঠান নাসিম। পরে তারা ফেঞ্চুগঞ্জের বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের কাছে পৌঁছে দিতে রওনা দেন কোম্পানির সুপারভাইজার শাহেদ আহমদ, ড্রাইভার কামাল হোসেন ও আরও ৩ কর্মী।

সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে মোগলাবাজার থানার পারাইরচক লালমাটিয়া এলাকায় পৌঁছালে তিন আরোহীর একটি মোটরসাইকেল গাড়িটিকে থামার সংকেত দেয়। এসময় গাড়ির গতি কমালে মোটরসাইকেল আরোহীরা গাড়িটি থামিয়ে ভয়ভীতি ও মারধর করে ৫টি ব্যাগে থাকা ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় মোগলাবাজার থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা যায়, টাকাবাহী গাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্কর্ট সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক তদন্তে অজ্ঞাত ডাকাত দলের সঙ্গে যোগসাজশের তথ্য পাওয়ার পর শুক্রবার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিকাশের বিভাগীয় ডিস্ট্রিবিউটর নাসিম হোসাইন বলেন, ব্যাংক বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা পৌঁছে দিতে কর্মকর্তারা রওনা দেন। পথে পারাইরচক এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে একদল ছিনতাইকারী গাড়ির গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে টাকা ছিনিয়ে নেয়। এঘটনায় মোগলাবাজার থনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এসএমপির এডিসি (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার বাদী এজাহারে আটক ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সময় কেন নিশ্চুপ ছিলেন, তার সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় তাদের সম্পৃক্ততার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সরাসরি জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow