বিএনপি প্রার্থী ভরসাকে গ্রেপ্তারের দাবি আখতার হোসেনের
রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা ও তার নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন এ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। নির্বাচনের পর এনসিপির নেতাকর্মীদের মারধর ও তাদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে তিনি এ দাবি করেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হারাগাছ পৌরসভা এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর রংপুরে এসে প্রথমে হারাগাছে যান আখতার। সেখানে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ভাঙচুরের শিকার এনসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমনের বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন। আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের পরের দিন থেকে বিএনপি প্রার্থী ভরসার লোকজন এনসিপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। ভরসার নেতাকর্মীদের ভয়ে পালিয়ে থাকা এনসিপির বহু নেতাকর্মী ও সমর্থক আজ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। কিন্ত হামলার ১০দিন পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এসময় তিনি হামলার শিকার নেতাকর্মীদের নাম-পরিচয় তুলে ধরে তাদের ওপর সংঘটিত ঘটনার বিবর
রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা ও তার নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন এ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। নির্বাচনের পর এনসিপির নেতাকর্মীদের মারধর ও তাদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে তিনি এ দাবি করেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হারাগাছ পৌরসভা এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর রংপুরে এসে প্রথমে হারাগাছে যান আখতার। সেখানে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ভাঙচুরের শিকার এনসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমনের বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন।
আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের পরের দিন থেকে বিএনপি প্রার্থী ভরসার লোকজন এনসিপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। ভরসার নেতাকর্মীদের ভয়ে পালিয়ে থাকা এনসিপির বহু নেতাকর্মী ও সমর্থক আজ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। কিন্ত হামলার ১০দিন পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এসময় তিনি হামলার শিকার নেতাকর্মীদের নাম-পরিচয় তুলে ধরে তাদের ওপর সংঘটিত ঘটনার বিবরণ সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, হারাগাছ এলাকায় ২২ হাজার ভোট বেশি পেলেও এই এলাকার মানুষের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার-নির্যাতন করছেন বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল। শনিবার সন্ধ্যায় তারা মাইকিং করে হুমকি দিয়েছে— দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা যাবে না। তারা মানুষের রুটিরুজির উপর টান দিয়েছে।
আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে প্রথম ডাকা হরতাল একজন বিরোধীদলীয় নেতার বিরুদ্ধে ডেকেছে। আজকের দিনেও হরতাল ডেকেছে যদিও তারা তা প্রত্যাহার করেছেন, তাদের এ কর্মকাণ্ড সরকারি দলের চরিত্রের সঙ্গে যায় না। আওয়ামী লীগের সময়ে এসব হতো। আওয়ামী লীগের লোকেরা তাদের মধ্যকার গ্যাঞ্জামের কারণে অবরোধ করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিত। আর এখানে সরকারি দলের একজন পরাজিত প্রার্থী বিরোধী দলের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হরতাল ডেকে বসে আছেন।
নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব বিএনপিকে নিতে হবে দাবি করে তিনি বলেন, হারাগাছে হামলার শিকার নেতাকর্মীদের পরিবার তাদের আমার হাতে তুলে দিয়েছেন। কিন্ত যেখানে রাষ্ট্র ফাংশনাল, সেখানে প্রত্যেকের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। নিরাপত্তার দায়িত্ব ভরসাকে নিতে হবে। কারণ, তার কারণেই হারাগাছ অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। এ দায়িত্ব বিএনপিকে নিতে হবে। কারণ, বিএনপির হাইকমান্ডের প্রশ্রয়ে হারাগাছে ভরসায সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে। ভরসা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এদিকে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে এবং আখতার হোসেনের সফরকে কেন্দ্র করে হারাগাছ পৌর এলাকায় বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টার হরতাল ঘোষণা করে পৌর বিএনপি। একই সঙ্গে তাকে হারাগাছে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়।
শনিবার বিকেলে মাইকিং করে হরতালের আহ্বান জানানো হলেও পরে রমজানে জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হরতাল প্রত্যাহার করে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। রাত ১১টার দিকে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে অবস্থান কর্মসূচিও প্রত্যাহার করা হয়।
তবে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা দাবি করেন, আখতার হোসেনের সফর ঘিরে তার পক্ষ থেকে কোনো হরতাল বা অবস্থান কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। রোববার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে জানান, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য পরিবারসহ তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং হারাগাছে তার কোনো কর্মসূচি নেই।
What's Your Reaction?