বিএনপির ইতিহাস প্রতারণার, প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী তারা: নাহিদ ইসলাম

বিএনপি প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী হলেও পরে আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার থেকে সরে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিএনপির ইতিহাস প্রতারণার ইতিহাস। বিএনপি প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী এবং প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নির্বাচনের পর তারা গণভোট নিয়েও প্রতারণা করেছে।’ শনিবার বিকেলে রংপুর নগরীর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ-ইন’ বন্ধ এবং উত্তরাঞ্চলের জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর সবার দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই সরকারের অধীনেই বিএনপি ক্ষমতায় এসে পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে অস্বীকার করেছিল। এর ফলেই গত ১৬ বছর বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করতে হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, গণভোট, সংস্কার ও জুলাই সনদের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা পেলেও বিএনপি পরে সেসব প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। তার ভাষায়, ‘বিএনপি গণভোটে

বিএনপির ইতিহাস প্রতারণার, প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী তারা: নাহিদ ইসলাম

বিএনপি প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী হলেও পরে আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার থেকে সরে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিএনপির ইতিহাস প্রতারণার ইতিহাস। বিএনপি প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী এবং প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নির্বাচনের পর তারা গণভোট নিয়েও প্রতারণা করেছে।’

শনিবার বিকেলে রংপুর নগরীর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ-ইন’ বন্ধ এবং উত্তরাঞ্চলের জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর সবার দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই সরকারের অধীনেই বিএনপি ক্ষমতায় এসে পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে অস্বীকার করেছিল। এর ফলেই গত ১৬ বছর বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করতে হয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, গণভোট, সংস্কার ও জুলাই সনদের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা পেলেও বিএনপি পরে সেসব প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে।

তার ভাষায়, ‘বিএনপি গণভোটের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, ৩১ দফার সঙ্গে প্রতারণা করেছে, জুলাই সনদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং গণতন্ত্রের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে।’

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই সফরের অর্জন শূন্য। তিস্তা মহাপরিকল্পনা কিংবা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। দেশে জাতীয় ঐক্য না থাকলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও পাওয়া কঠিন হবে।’

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কারের অঙ্গীকার থেকে সরকার সরে গেলে আন্তর্জাতিক মহলও সহযোগিতায় আগ্রহী হবে না।

রংপুর বিভাগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চল বৈষম্যের শিকার। নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেও রংপুরকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

তার অভিযোগ, ‘রংপুর বিভাগের বেশিরভাগ আসন বিরোধী দলের হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলের জন্য কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প রাখা হয়নি।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘বরাদ্দ সব যাচ্ছে বগুড়ার শিবগঞ্জে। গোপালগঞ্জের জায়গায় এখন শিবগঞ্জ এসেছে। অথচ প্রকৃত বৈষম্যের শিকার রংপুরবাসী উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

তিনি রংপুরের জন্য বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ এবং দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকারি দলের এমপিরা যে বরাদ্দ পান, বিরোধী দলের এমপিরা তার তিন ভাগের এক ভাগও পান না। আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ থাকলে বেতন বন্ধ করুন, কিন্তু জনগণের অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই।’

বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এ বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই। ব্যাংক খাতের সংস্কার, অর্থ পাচার রোধ কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে সরকারের কার্যকর পরিকল্পনা দেখা যায়নি।’

তিনি বলেন, দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি দেশে ফিরবেন কি না, সেটি ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের বিষয়। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত তাকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান। এছাড়া ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য দেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow