বিদ্যালয় ভবনের সিঁড়ি পর্যন্ত উঠে গেছে পানি। আশপাশেও জলাবদ্ধতা। প্যান্ট-পায়জামা কিছুটা ওপরে তুলে ধরে স্যান্ডেল-জুতা হাতে পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। ছুটি শেষেও একই দৃশ্য দেখা গেলো।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরফ্যাশন-দক্ষিণ আইচা মূল সড়কের পাশে অবস্থিত উত্তর চর আইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে গিয়ে এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েছে। হাঁটুসমান পানি পাড়ি দিয়ে তাদের বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই পা পিছলে পানিতে পড়ে আহত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ভেজা পোশাকে ক্লাস করায় জ্বর ও ঠান্ডায় অসুস্থ হচ্ছে তারা। বিকল্প সড়ক না থাকায় এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
‘জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েছে। হাঁটুসমান পানি পাড়ি দিয়ে তাদের বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই পা পিছলে পানিতে পড়ে আহত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ভেজা পোশাকে ক্লাস করায় জ্বর ও ঠান্ডায় অসুস্থ হচ্ছে তারা। বিকল্প সড়ক না থাকায় এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।’
সরেজমিন দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক থেকে শুরু করে চারদিকে অথৈ পানি। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ না থাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বিদ্যালয়ে প্রবেশের কোনো বিকল্প পথ না থাকায় পানি মাড়িয়েই বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েরা আক্তার ও রোদেলা আক্তার জাগো নিউজকে বলে, ‘বিদ্যালয়ের চারপাশে অনেক পানি। পানির মধ্যেই বিদ্যালয়ে আসতে হয়। জামা-কাপড় ভিজে যায়। ভেজা কাপড়েই ক্লাস করতে হয়।’
- আরও পড়ুন:
বৃষ্টিতে ঘরে হাঁটুপানি, খাট থেকে পড়ে প্রাণ গেলো ৬ মাসের শিশুর
বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে মালোপাড়াবাসী
নিয়ম না মেনে স্থাপনা নির্মাণ চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ
দুই মাস ধরে পানিবন্দি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫০ পরিবার
বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় আদালত চত্বর
বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা-যানজট, জনজীবনে ভোগান্তি
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিয়া আক্তার ও মো. শুভ জানায়, তারা বিদ্যালয়ে ঢোকার সময় পা পিছলে পানিতে পড়ে হাত ও পায়ে ব্যথা পেয়েছ। পরে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবাকে জানালে তারা ডাক্তার দেখান।
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী আকলিমা বেগমের ভাষ্য, ‘প্রতিদিন পানির মধ্যে জামা-কাপড় ভিজে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করি। ভেজা কাপড় গায়ে শুকায়। এতে অনেক সময় জ্বর ও ঠান্ডা হয়। পানির জন্য আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।’
‘বিদ্যালয়ের এক পাশে মূল সড়ক ও তিন দিকে বাড়ি থাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ নেই। গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার এই দুর্ভোগ ভোগ করছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। বিষয়টি আমি মৌখিক ও লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি।’
আরাফাত হোসেন নামের একজন অভিভাবক জাগো নিউজকে বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে ছেলে বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। এ কারণে তাকে বিদ্যালয়ের বারান্দা পর্যন্ত পৌঁছে দেই। এই সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’
স্থানীয় মোজাম্মেল হক জানান, তার নাতি শিশুশ্রেণিতে পড়ে। তবে পানির কারণ কয়েকদিন বিদ্যালয়ে পাঠান না। বলেন, পানিতে পড়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নেবে?
এ বিষয়ে উত্তর চর আইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুফিয়া বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের এক পাশে মূল সড়ক ও তিন দিকে বাড়ি থাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ নেই। গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার এই দুর্ভোগ ভোগ করছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। বিষয়টি আমি মৌখিক ও লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি।
তিনি আরও জানান, তার বিদ্যালয়ের শিশুশ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩১৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক আটজন।
- আরও পড়ুন:
ঢাকায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ
তিস্তার পানিতে কৃষকের সর্বনাশ
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা শূন্যে নামিয়ে আনার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
মুখ খুললেই মেয়র বলতেন ‘ব্যাডা তুমি বেশি বুঝো?’
সহকারী শিক্ষক মো. নূরন্নবী জানান, পানিতে পড়ে প্রতিদিনই ৩-৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। পানি মাড়িয়ে আসতে হয় বলে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান না। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুশ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৩-৪ জনের বেশি আসে না।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসনা শারমিন মিথি বলেন, আপাতত ৩-৪ দিনের মধ্যে পাইপ বসিয়ে পানি দূরের খালে নিষ্কাশন করা হবে। পরে প্রকল্প হাতে নিয়ে এর স্থায়ী সমাধান করা হবে।
এসআর/জেআইএম