বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমাধানে ‘জাতীয় নীতিমালা’ প্রণয়নের দাবি জামায়াতের

অবিলম্বে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের জন্য একটি ‘জাতীয় নীতিমালা’ দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দলীয়করণের সর্বনাশা পথ পরিহার করে সরকারের উচিত দেশের অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো। দ্রুত সময়ের মধ্যে নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সমস্যা সমাধান করার দাবি জানান।  সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান সরকার সংবিধান নিয়ে অতিমাত্রায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর যখন জনগণ একটি বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রতিজ্ঞায় মগ্ন, তখন সরকার ও তাদের মন্ত্রী মিনিস্টাররা সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তিমূলক কাজে লিপ্ত রয়েছে। দেশের মূল সমস্যা জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এখন আর তাদের কাছে কোনো মাথাব্যথা নয়।  তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে গৃহস্থালি, শিল্পকারখানা ও ব্যবসা–বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত

বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমাধানে ‘জাতীয় নীতিমালা’ প্রণয়নের দাবি জামায়াতের

অবিলম্বে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের জন্য একটি ‘জাতীয় নীতিমালা’ দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দলীয়করণের সর্বনাশা পথ পরিহার করে সরকারের উচিত দেশের অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো। দ্রুত সময়ের মধ্যে নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সমস্যা সমাধান করার দাবি জানান। 

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান সরকার সংবিধান নিয়ে অতিমাত্রায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর যখন জনগণ একটি বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রতিজ্ঞায় মগ্ন, তখন সরকার ও তাদের মন্ত্রী মিনিস্টাররা সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তিমূলক কাজে লিপ্ত রয়েছে। দেশের মূল সমস্যা জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এখন আর তাদের কাছে কোনো মাথাব্যথা নয়। 

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে গৃহস্থালি, শিল্পকারখানা ও ব্যবসা–বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার দাবি, এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও গ্যাসের সরবরাহ কমছে এবং নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নেই।

বিদ্যুৎ খাতের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দুই দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতি মাসে ডিমান্ড চার্জ আদায় এবং জুন–জুলাইয়ের বিদ্যুৎ বিল সমন্বয়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি বিল আদায় করে এক প্রকার লুটপাটের বন্দোবস্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, কাঁচামরিচ, চাল, মসুর ডাল, চিনি ও রসুনের মতো পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ বিলে এখনো সার্ভিস চার্জ ও ডিমান্ড চার্জ আদায় করা হচ্ছে, যা তিনি ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’। প্রতি মাসে কেন ডিমান্ড চার্জ কাটবে?

তিনি বলেন, অর্থবছরের শেষে সিস্টেম লস কম দেখাতে জুনে অনুমাননির্ভর কম বিল করা হয়, পরে জুলাইয়ে অতিরিক্ত বিলের বোঝা গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়। সরকার ভর্তুকি দিয়ে ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলোকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি বিল আদায় করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

গ্যাস খাত প্রসঙ্গে নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, মহেশখালীর এফএসআরইউ দীর্ঘদিন অচল থাকায় গ্যাসনির্ভর শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও কূপ খননে সরকারের কার্যকর বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow