বিদ্যুৎ টাওয়ারের চূড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক, ৫ ঘণ্টা তুলকালাম

2 days ago 2

পিরোজপুরের নেছারাবাদে একটি বিদ্যুতের টাওয়ারের ৩৪০ ফুট উঁচু চূড়ায় উঠে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান করছিল মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক। এতে উপজেলায় পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। তাকে নামাতে নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর স্থানীয় চার যুবকের প্রচেষ্টায় ওই যুবকটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবকের নাম শঙ্কর বেপারী বাহাদুর (৩৮)। তিনি উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের দুর্গাকাঠি গ্রামের মৃত নিকুঞ্জ বেপারীর ছেলে। তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া যুবকরা হলেন- কাউখালি থানার মো. হাফিজুর রহমানের ছেলে মো. শাহ আলম ওরফে কালু মিয়া, একই উপজেলার মো. ইমাম হোসেনের ছেলে মো. রিপন মিয়া, নেছারাবাদ উপজেলার জগৎপট্টি গ্রামের মো. জবান আলী হাওলাদারের ছেলে মো. কালাম হোসেন, কামারকাঠি গ্রামের মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে মো: রুবেল হোসেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সেনাক্যাম্প সংলগ্ন উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড় এবং পূর্বপাড়ের বিদ্যুৎ সংযোগে দুইপাড়ে দুইটি উঁচু টাওয়ার করা হয়েছে। যে টাওয়ার দিয়ে উপজেলার বিদ্যুতের মেইনলাইন টানা হয়েছে। সকালে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক ওই টাওয়ারের নিচে আসে। সবার অগোচরে সে টাওয়ারের উঁচুতে ওঠে। এসময় স্থানীয়রা তাকে দেখে নামতে বললে সে ক্রমেই টাওয়ারের চূড়ায় উঠে যায়। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা বিদ্যুৎ বিভাগ খবর পেয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে নামানোর জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

যুবক শংকর বেপারীর মা আলো রানী বেপারী জানান, আমার ছেলে ছোটবেলায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় সবসময় চোখে চোখে রাখি। কিন্তু হঠাৎ আজ সকালে তাকে ঘরে না দেখে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছিলাম। পরবর্তীতে নেছারাবাদ থানার পুলিশ হঠাৎ জানালে বিষয়টি জানতে পারি। আমি আমার ছেলেকে পেয়ে চিন্তা মুক্ত হয়েছি।

নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম জানান, আমরা দুপুর ১২টার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। ৫ ঘণ্টা পর স্থানীয় কিছু যুবকদের সাহসী প্রচেষ্টায় তাকে নামানো হয়েছে। তাকে নেছারাবাদ থানায় নেওয়া হয়েছে।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বনি আমিন বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।

নেছারাবাদ পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জানে আলম জানান, আমরা তাকে নামানোর জন্য ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রেখেছিলাম। যেহেতু টাওয়ার দিয়ে মেইন লাইন গেছে তাই বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করায় পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। একটা হইহুল্লোড় কাণ্ড হয়েছে।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরে ওখানে উপস্থিত হয়েছিলাম। কিছু সাহসী ছেলের তৎপরতায় তাকে উদ্ধার করা গেছে। তাদের এই দুঃসাহসী কাজের জন্য একটি প্রাণ বেঁচে গেলো। উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করা যুবকদের অফিসে ডেকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

মো. তরিকুল ইসলাম/এমএন/জেআইএম

Read Entire Article