বিধানসভায় মমতাপন্থি তৃণমূল নেতাকে দেখে ‘চোর চোর’ স্লোগান

পশ্চিমবঙ্গের অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন ঘিরে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণ নিয়ে আলোচনার দিনে বিধানসভার ভেতরেই তৃণমূলের এক বিধায়ককে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এদিন কলকাতার বেলেঘাটা কেন্দ্রের মমতাপন্থি বিধায়ক কুণাল ঘোষ রাজ্যপালের ভাষণের ওপর বক্তব্য রাখতে উঠলে বিরোধী শিবিরের একাংশ তাকে লক্ষ্য করে এই স্লোগান দেওয়া শুরু করে। এ সময় বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু স্লোগান দেওয়া সদস্যদের থামানোর চেষ্টা করেন। আরও পড়ুন মমতা-অভিষেককে বাদ দিয়ে বিদ্রোহীদের নতুন কর্ম সমিতি গঠন অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় কুণাল ঘোষ বলেন, ‘নামের একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু আছে। বন্ধুরা ভালো বলবেন এবং শত্রুরা খারাপ বলবেন, কিন্তু কেউ উপেক্ষা করতে পারবেন না। নামটা মনে রাখবেন—কুণাল কুমার ঘোষ।’ তার এই মন্তব্যের পরপরই বিধানসভার ভেতরে তুমুল হইহট্টগোল শুরু হয় এবং বিরোধীরা ‘চোর চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন। তবে এই পরিস্থিতিতেও কুণাল ঘোষকে হাসিমুখে এর জবাব দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘আমাকে এতখানি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আপনাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’ পরিস্থিতি নিয়ন্

বিধানসভায় মমতাপন্থি তৃণমূল নেতাকে দেখে ‘চোর চোর’ স্লোগান

পশ্চিমবঙ্গের অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন ঘিরে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণ নিয়ে আলোচনার দিনে বিধানসভার ভেতরেই তৃণমূলের এক বিধায়ককে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এদিন কলকাতার বেলেঘাটা কেন্দ্রের মমতাপন্থি বিধায়ক কুণাল ঘোষ রাজ্যপালের ভাষণের ওপর বক্তব্য রাখতে উঠলে বিরোধী শিবিরের একাংশ তাকে লক্ষ্য করে এই স্লোগান দেওয়া শুরু করে। এ সময় বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু স্লোগান দেওয়া সদস্যদের থামানোর চেষ্টা করেন।

অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় কুণাল ঘোষ বলেন, ‘নামের একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু আছে। বন্ধুরা ভালো বলবেন এবং শত্রুরা খারাপ বলবেন, কিন্তু কেউ উপেক্ষা করতে পারবেন না। নামটা মনে রাখবেন—কুণাল কুমার ঘোষ।’

তার এই মন্তব্যের পরপরই বিধানসভার ভেতরে তুমুল হইহট্টগোল শুরু হয় এবং বিরোধীরা ‘চোর চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন। তবে এই পরিস্থিতিতেও কুণাল ঘোষকে হাসিমুখে এর জবাব দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘আমাকে এতখানি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আপনাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু যেমন স্লোগান দেওয়া সদস্যদের শান্ত করার চেষ্টা করেন, তেমনি কুণাল ঘোষকেও মূল বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো প্রসঙ্গ না তোলার জন্য অনুরোধ করেন। এর মধ্যেই স্পিকারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন রাজ্যের সাবেক কৃষিমন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

উত্তেজনার রেশ ধরে কুণাল ঘোষ আরও বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি অন্য বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। কিন্তু ওনারা আমাকে যেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন, তাহলে তো সারদা-নারদার ভিডিও ফুটেজের নামের তালিকা বলতে হয়।’

তার এই মন্তব্যের পরেও বিধানসভায় ‘চোর চোর’ স্লোগান চলতে থাকে। তখন নিজস্ব স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘আপনাদের পার্টি অফিস থেকেই তো ওটা দেখানো হয়েছিল।’

এরপরই হস্তক্ষেপ করে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু বলেন, ‘উনি নারদার যে নাম উল্লেখ করেছেন, তা বিধানসভার নথিতে (রেকর্ডে) যাবে না। এটা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।’

পাল্টা জবাবে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘আমি নির্দিষ্ট করে কোনো নাম উল্লেখ করিনি। তবে আমি সত্যিই আপ্লুত। প্রথমবার বিধায়ক হয়ে এসে বিধানসভায় বক্তব্য রাখছি। আমাকে বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি মাননীয় স্পিকার সাহেব, মুখ্যমন্ত্রী এবং পরিষদীয় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

রাজ্যপালের ভাষণ প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ আরও যোগ করেন, ‘নতুন একটা সরকার এসেছে। তাদের কাজ করার জন্য কিছুদিন সময় পাওয়া উচিত। আমরা শুধু বিরোধিতা করার খাতিরে বিরোধিতা করব না, আমরা গঠনমূলক বিরোধিতা করব। আপনাদের সঙ্গে আমাদের মতাদর্শের লড়াই বা ঝগড়া হতেই পারে, কিন্তু সরকার ভালো কিছু করতে গেলে সেটাকে ঢালাওভাবে খারাপ বলার রাজনীতি আমরা করব না।’

ডিডি/কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow