বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ, ৪৮ বছর পর পাওনা পরিশোধ করলেন মফিজুল

দীর্ঘদিন ধরে বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ করেছেন। তখন কিছু মনে হয়নি। ৪৮ বছর পর এ বিষয়ে এসেছে অনুশোচনা। সেই অনুশোচনা থেকে ট্রেনের টিকিটের মূল্য হিসেবে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন মফিজুল ইসলাম (৬০) নামের এক বৃদ্ধ। মফিজুল ইসলাম গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান বেপারির ছেলে। বর্তমানে তিনি বেপারিবাড়ী ফাতেমাতুজ যাহরা (রা.) নামের একটি মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে পরিচালনা করছেন। বৃদ্ধ মফিজুল ইসলামের ভাষ্যমতে, ১৯৭৮ সালের দিকে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত কাজে তিনি বহুবার ট্রেনে ভ্রমণ করতেন। যেতেন বিনা টিকিটে, ফিরতেনও বিনা টিকিটে। প্রায় অর্ধ শতাব্দী পর তার অনুশোচনা শুরু হয় বিনা টিকিটে ভ্রমণ নিয়ে। তিনি বিনা টিকিটে ভ্রমণ করার সেই টাকা পরিশোধ করার উপায় খুঁজছিলেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) গাজীপুরের শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের কাছে রেল ভ্রমণের ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তিনি বলেন, ‘২-৩ বছর টিকিট ছাড়াই যাতায়াত করেছি। দায়িত্বরতদের হাতে টাকা দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ তো আমার কাছে টাকা পায়। অনেকদিন ধরেই মনে হচ্ছিল, এই টাকাটা আমার পরিশোধ করা দরকার। বিবেকের কাছে আমি দায়বদ্ধ ছিলাম। কিন্তু ক

বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ, ৪৮ বছর পর পাওনা পরিশোধ করলেন মফিজুল

দীর্ঘদিন ধরে বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ করেছেন। তখন কিছু মনে হয়নি। ৪৮ বছর পর এ বিষয়ে এসেছে অনুশোচনা। সেই অনুশোচনা থেকে ট্রেনের টিকিটের মূল্য হিসেবে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন মফিজুল ইসলাম (৬০) নামের এক বৃদ্ধ।

মফিজুল ইসলাম গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান বেপারির ছেলে। বর্তমানে তিনি বেপারিবাড়ী ফাতেমাতুজ যাহরা (রা.) নামের একটি মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে পরিচালনা করছেন।

বৃদ্ধ মফিজুল ইসলামের ভাষ্যমতে, ১৯৭৮ সালের দিকে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত কাজে তিনি বহুবার ট্রেনে ভ্রমণ করতেন। যেতেন বিনা টিকিটে, ফিরতেনও বিনা টিকিটে। প্রায় অর্ধ শতাব্দী পর তার অনুশোচনা শুরু হয় বিনা টিকিটে ভ্রমণ নিয়ে। তিনি বিনা টিকিটে ভ্রমণ করার সেই টাকা পরিশোধ করার উপায় খুঁজছিলেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) গাজীপুরের শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের কাছে রেল ভ্রমণের ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

তিনি বলেন, ‘২-৩ বছর টিকিট ছাড়াই যাতায়াত করেছি। দায়িত্বরতদের হাতে টাকা দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ তো আমার কাছে টাকা পায়। অনেকদিন ধরেই মনে হচ্ছিল, এই টাকাটা আমার পরিশোধ করা দরকার। বিবেকের কাছে আমি দায়বদ্ধ ছিলাম। কিন্তু কত টাকা পরিশোধ করবো, বুঝে উঠতে পারছিলাম না। পরে নিজে নিজেই হিসেব কষে ২০ হাজার টাকার কম হবে বলে ধারণা হয়। পরে সেই টাকা পরিশোধ করেছি। এখন নিজের কাছে অনেক স্বস্তি লাগছে।’

শ্রীপুর রেলস্টেশন মাস্টার মো. সাইদুর রহমান ২০ হাজার টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, গত ১ এপ্রিল ওই বৃদ্ধ স্টেশনে এসে টাকা পরিশোধ করেন। ওই টাকা ৬ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

রেলস্টেশন মাস্টার বলেন, ‘রেলওয়েতে এভাবে পুরোনো বকেয়া বা দায়মুক্তির টাকা পরিশোধের আইনি বিধান রয়েছে। মফিজুল ইসলাম এসে যখন বিষয়টি খুলে বললেন, আমরা তার মানসিকতায় মুগ্ধ হয়েছি।’

আমিনুল ইসলাম/এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow