বিভাজন ভুলে এক বাংলাদেশ হিসেবে দাঁড়াতে হবে: আমান আযমী

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী। তিনি বলেন, তুমি-আমি বা পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজন ভুলে আমাদের আমরা অর্থাৎ এক-একক বাংলাদেশ হিসেবে দাঁড়াতে হবে। তিনি জানান, দীর্ঘ আট বছর আয়নাঘরে বন্দি থাকার পর জীবন ফিরে পেয়ে তিনি দেশের মানুষের কল্যাণে এবং একটি সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গঠনে আত্মনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ইনডিজেনাস আইডেন্টিটি ইজ ইরিলিভেন্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আযমী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংবেদনশীল ইস্যুগুলোকে কখনোই তাদের (স্থানীয় বাসিন্দাদের) দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা হয় না। ফলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না সেখানকার অধিবাসীদের প্রকৃত কষ্ট বা চাওয়া-পাওয়াগুলো আসলে কী। পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকট নিরসনে তিনি তার অতীত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি নিজ উদ্যোগে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টসের দীর্ঘমেয়াদী সমাধা

বিভাজন ভুলে এক বাংলাদেশ হিসেবে দাঁড়াতে হবে: আমান আযমী

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী। তিনি বলেন, তুমি-আমি বা পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজন ভুলে আমাদের আমরা অর্থাৎ এক-একক বাংলাদেশ হিসেবে দাঁড়াতে হবে।

তিনি জানান, দীর্ঘ আট বছর আয়নাঘরে বন্দি থাকার পর জীবন ফিরে পেয়ে তিনি দেশের মানুষের কল্যাণে এবং একটি সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গঠনে আত্মনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ইনডিজেনাস আইডেন্টিটি ইজ ইরিলিভেন্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

আযমী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংবেদনশীল ইস্যুগুলোকে কখনোই তাদের (স্থানীয় বাসিন্দাদের) দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা হয় না। ফলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না সেখানকার অধিবাসীদের প্রকৃত কষ্ট বা চাওয়া-পাওয়াগুলো আসলে কী।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকট নিরসনে তিনি তার অতীত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি নিজ উদ্যোগে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টসের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান এবং বাংলাদেশের একটি কার্যকর জাতীয় নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নের জন্য দুটি পৃথক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করে কিংবা কে কবে এসেছে তা নিয়ে বিতর্ক করে সমস্যা সমাধান হবে না। কে কবে এসেছিল তা এখন পুরোপুরি অকার্যকর বিষয়। এটি আসলে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ, যা আমাদের বিভাজন করে রাখে।

তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জাতীয় পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ, গবেষণাধর্মী চিন্তাবিদ ও ফিল্ড নলেজসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী ও বাস্তবমুখী কমিটি গঠনের দাবি জানান।

আবদুল্লাহিল আমান আযমী আরও বলেন, আমরা এমন একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছি যেখানে সামরিক ও বেসামরিক সব সেক্টরের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা থাকবেন। আমরা প্রতিটি দ্বারে দ্বারে যাব এবং ঐক্যের জন্য আহ্বান জানাবো। তুমি-আমি বা পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজন ভুলে আমাদের আমরা অর্থাৎ এক -একক বাংলাদেশ হিসেবে দাঁড়াতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম গবেষণা ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) উদ্যোগে ‘ইনডিজেনাস আইডেন্টিটি ইজ ইরিলিভেন্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সিএইচআরএফের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খাঁন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, সাংবাদিক মারুফ কামাল খান এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রব প্রমুখ।

টিটি/এএমএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow