বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর জর্ডানের অনন্য নজির
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে জর্ডান ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যবহারের দিক দিয়েও ফুটবল বিশ্বে অনন্য নজির স্থাপন করেছে দলটি। গ্রুপ ‘জে’-তে থাকা জর্ডান টুর্নামেন্ট শুরু করে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হারের মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামলেও শেষ পর্যন্ত আর জয় তুলে নিতে পারেনি তারা। ম্যাচের প্রথমার্ধে নাজার আল-রাশদানের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল কোচ জামাল সেলামির দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে আলজেরিয়া সমতায় ফেরে নাধির বেনবাউলির গোলে এবং ৮২তম মিনিটে আমিন গুইরির জয়সূচক শটে ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। এই পরাজয়ের পরই জর্ডানের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে যায়। পরের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জিতলেও পয়েন্ট ও হেড-টু-হেড সমীকরণের কারণে তাদের আর পরের রাউন্ডে ওঠার সুযোগ ছিল না। তবে বিদায়ের হতাশার মাঝেও মাঠের বাইরের আচরণে আলোচনায় উঠে আসে জর্ডান। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুম সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রেখে যায় দলটি। শুধু তা
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে জর্ডান ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যবহারের দিক দিয়েও ফুটবল বিশ্বে অনন্য নজির স্থাপন করেছে দলটি।
গ্রুপ ‘জে’-তে থাকা জর্ডান টুর্নামেন্ট শুরু করে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হারের মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামলেও শেষ পর্যন্ত আর জয় তুলে নিতে পারেনি তারা। ম্যাচের প্রথমার্ধে নাজার আল-রাশদানের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল কোচ জামাল সেলামির দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে আলজেরিয়া সমতায় ফেরে নাধির বেনবাউলির গোলে এবং ৮২তম মিনিটে আমিন গুইরির জয়সূচক শটে ম্যাচ নিজেদের করে নেয়।
এই পরাজয়ের পরই জর্ডানের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে যায়। পরের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জিতলেও পয়েন্ট ও হেড-টু-হেড সমীকরণের কারণে তাদের আর পরের রাউন্ডে ওঠার সুযোগ ছিল না।
তবে বিদায়ের হতাশার মাঝেও মাঠের বাইরের আচরণে আলোচনায় উঠে আসে জর্ডান। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুম সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রেখে যায় দলটি। শুধু তাই নয়, স্টেডিয়াম কর্মীদের জন্য রেখে যায় মিষ্টি ও অন্যান্য উপহার, সঙ্গে ছিল হৃদয়ছোঁয়া একটি বার্তাও।
ফিফার টিকটক ভিডিওতে দেখা যায়, জর্ডান দলের বার্তায় লেখা ছিল— ‘জর্ডানের প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতাকে সত্যিই অবিস্মরণীয় করে তোলার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আপনাদের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিক আতিথেয়তা আমাদের দল ও সমর্থকদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।’
বার্তায় আরও বলা হয়, কৃতজ্ঞতার ছোট্ট উপহার হিসেবে তারা জর্ডানের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি রেখে গেছে, যা তাদের সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার প্রতীক।
এই আচরণ বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের মুগ্ধ করে। ফিফার পোস্টে এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘ম্যাচ হেরেছে, কিন্তু আমাদের হৃদয় জিতেছে।’
অন্য একজন লেখেন, ‘এটি অসাধারণ সংস্কৃতি, জর্ডান দলকে সম্মান।’ আরেকজন বলেন, ‘তারা সেরা।’ কেউ লিখেছেন, ‘জর্ডানিয়ান হিসেবে গর্বিত।’
একজন জর্ডান সমর্থক বলেন, ‘আমরা হারলেও লাখ লাখ মানুষের হৃদয় জিতেছি। আমাদের সংস্কৃতিই এমন—আমরা যেখানেই যাই, জায়গা আগের চেয়ে ভালো করে রেখে আসি। এজন্যই আমরা গর্বিতভাবে ‘নাশামা’ নামে পরিচিত।’
ফিফাও এই ঘটনাকে প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছে, ‘চূড়ান্ত সম্মান। এমনভাবেই জর্ডান তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুম রেখে গেছে।’
What's Your Reaction?