বিশ্বমঞ্চে দ্বিতীয় অধ্যায়ের অপেক্ষায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। ইউরোপিয়ান প্লে-অফে ইতালির মত পরাশক্তিদের হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। ব্রাজিল ২০১৪ বিশ্বকাপের পর এবারই দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে খেলবে ইউরোপের দেশটি। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে `ড্রাগনস‘রা নতুন স্বপ্ন নিয়ে হাজির হচ্ছে। কোচ সার্জেই বারবারেজের অধীনে দলটি আবারও নিজেদের সোনালি প্রজন্মের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে। অধিনায়ক ও সর্বোচ্চ গোলদাতা এডিন জেকোর নেতৃত্বে দলটি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করতে চায়। বিশ্বকাপে বসনিয়ার গ্রুপ ও সূচি গ্রুপ ‘বি’-তে খেলবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক কানাডা, সুইজারল্যান্ড ও কাতার। বিশ্বকাপে সূচি:* ১২ জুন: কানাডা বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা- টরন্টো স্টেডিয়াম* ১৮ জুন: সুইজারল্যান্ড বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা- লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম* ২৪ জুন: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা বনাম কাতার- সিয়াটলের লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়াম কোচ সার্জেই বারবারেজ ২০২৪ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন সাবেক তারকা ফুটবলার সার্জেই বারবা
দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। ইউরোপিয়ান প্লে-অফে ইতালির মত পরাশক্তিদের হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। ব্রাজিল ২০১৪ বিশ্বকাপের পর এবারই দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে খেলবে ইউরোপের দেশটি।
কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে `ড্রাগনস‘রা নতুন স্বপ্ন নিয়ে হাজির হচ্ছে। কোচ সার্জেই বারবারেজের অধীনে দলটি আবারও নিজেদের সোনালি প্রজন্মের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে। অধিনায়ক ও সর্বোচ্চ গোলদাতা এডিন জেকোর নেতৃত্বে দলটি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করতে চায়।
বিশ্বকাপে বসনিয়ার গ্রুপ ও সূচি
গ্রুপ ‘বি’-তে খেলবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক কানাডা, সুইজারল্যান্ড ও কাতার।
বিশ্বকাপে সূচি:
* ১২ জুন: কানাডা বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা- টরন্টো স্টেডিয়াম
* ১৮ জুন: সুইজারল্যান্ড বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা- লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম
* ২৪ জুন: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা বনাম কাতার- সিয়াটলের লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়াম
কোচ সার্জেই বারবারেজ
২০২৪ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন সাবেক তারকা ফুটবলার সার্জেই বারবারেজ। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি জার্মান বুন্দেসলিগায় হামবুর্গ, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, বেয়ার লেভারকুসেন ও ইউনিয়ন বার্লিনের মতো ক্লাবে খেলেছেন।
জাতীয় দলের হয়ে ৪৭ ম্যাচে করেছেন ১৭ গোল। কোচ হিসেবে এটি তার প্রথম বড় দায়িত্ব। ৪-৪-২ ফরমেশনে অভিজ্ঞতা ও তরুণদের মিশেলে দল গড়ে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দিয়েছেন তিনি।
যেভাবে বিশ্বকাপে জায়গা পেল বসনিয়া
ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বে গ্রুপ ‘এইচ’-এ ৮ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয় বসনিয়া। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট হারালেও রোমানিয়া, সাইপ্রাস ও সান মারিনোর বিপক্ষে দারুণ পারফর্ম করে তারা।
প্লে-অফে প্রথমে ওয়েলসকে টাইব্রেকারে হারায় বসনিয়া। কার্ডিফে নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে এডিন জেকোর হেডে সমতা ফেরে, এরপর টাইব্রেকারে জেতে দলটি।
ফাইনালেও একই নাটকীয়তা। ইতালির বিপক্ষে ১-১ সমতায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। ইতালির পিও এসপোজিতো ও ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে শট মিস করলে শেষ শট থেকে গোল করে বসনিয়াকে বিশ্বকাপে তোলেন তরুণ এসমির বাজরাকতারেভিচ।
বিশ্বকাপে বসনিয়ার ইতিহাস
* কনফেডারেশন: উয়েফা
* সেরা ফল: গ্রুপ পর্ব (২০১৪)
* প্রথম বিশ্বকাপ: ব্রাজিল ২০১৪
* বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: ২ বার (২০১৪, ২০২৬)
* মোট রেকর্ড:
* ম্যাচ: ৩
* জয়: ১
* ড্র: ০
* হার: ২
* গোল: ৪
* হজম: ৪
প্রথম বিশ্বকাপ: ব্রাজিল ২০১৪
বসনিয়ার প্রথম বিশ্বকাপ ছিল ২০১৪ সালে ব্রাজিলে। সেই দলে ছিলেন মিরালেম পিয়ানিচ, এডিন জেকো, আসমির বেগোভিচ ও সিয়াদ কোলাসিনাচের মতো তারকারা।
প্রথম ম্যাচে মারাকানায় আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হারলেও ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি করেন ভেদাদ ইবিশেভিচ। এরপর নাইজেরিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিশ্চিত হয়। তবে শেষ ম্যাচে ইরানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আসর শেষ করে তারা।
স্মরণীয় মুহূর্ত
বিশ্বকাপে বসনিয়ার সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ইরানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় দিয়ে। পিয়ানিচের সৃজনশীলতা আর জেকোর নেতৃত্বে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছিল দলটি। জেকো গোল করার পাশাপাশি দলকে অনুপ্রাণিত করেন, আর শেষ গোলটি করেন আভদিয়া ভরসায়েভিচ।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে বসনিয়ার চারটি গোল চারজন আলাদা খেলোয়াড় করেছেন।
* ভেদাদ ইবিশেভিচ: ১ গোল
* মিরালেম পিয়ানিচ: ১ গোল
* এডিন জেকো: ১ গোল
* আভদিয়া ভরসায়েভিচ: ১ গোল
২০২৬ বিশ্বকাপে জেকো এককভাবে শীর্ষে উঠতে পারেন। ৪০ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার দেশের হয়ে ইতোমধ্যে রেকর্ড ৭৩ গোল করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে বসনিয়ার সম্ভাবনা
বয়সী হলেও জেকো এখনও দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। পাশাপাশি তরুণ এসমির বাজরাকতারেভিচ, কেরিম আলাইবেগোভিচদের পারফরম্যান্স নতুন আশার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পেরোনোই হবে বসনিয়ার প্রথম লক্ষ্য। তবে ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ওঠার পর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর দলটি যে কোনো প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?