বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন

ফারাক্কা বাঁধের কারণে উজানের মিঠা পানির প্রবাহ বন্ধ শিল্প-কারখানার বর্জ্য পড়ছে সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদীতে ২৩ বছরে ২৭ বার আগুন নানান সমস্যায় হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট—এ দুই কারণেই বনের প্রাণ-প্রকৃতি মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় মনুষ্য সৃষ্ট কাণ্ডে বেশি হুমকিতে রয়েছে সুন্দরবন। প্রাকৃতিকভাবে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হলেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যাগুলো বনের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি সাধন করছে। এর সঙ্গে রয়েছে ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব। ফারাক্কার কারণে উজানের মিঠা পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লবণাক্ততা কুঁড়ে খাচ্ছে সুন্দরবনকে। রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন সুন্দরবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বন বিভাগ, পরিবেশবিদ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অসংখ্য নদী-খাল রয়েছে। এসব নদী-খালে রয়েছে মাছের প্রাচুর্যতা। কিন্তু অতি মুনাফালোভী জেলেরা এসব খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছেন। এতে মাছের প্রজনন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিষমিশ্রিত মাছ খেয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সেইসঙ্গে বিষমিশ

বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন
  • ফারাক্কা বাঁধের কারণে উজানের মিঠা পানির প্রবাহ বন্ধ
  • শিল্প-কারখানার বর্জ্য পড়ছে সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদীতে
  • ২৩ বছরে ২৭ বার আগুন

নানান সমস্যায় হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট—এ দুই কারণেই বনের প্রাণ-প্রকৃতি মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় মনুষ্য সৃষ্ট কাণ্ডে বেশি হুমকিতে রয়েছে সুন্দরবন। প্রাকৃতিকভাবে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হলেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যাগুলো বনের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি সাধন করছে। এর সঙ্গে রয়েছে ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব।

ফারাক্কার কারণে উজানের মিঠা পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লবণাক্ততা কুঁড়ে খাচ্ছে সুন্দরবনকে। রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন সুন্দরবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন

বন বিভাগ, পরিবেশবিদ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অসংখ্য নদী-খাল রয়েছে। এসব নদী-খালে রয়েছে মাছের প্রাচুর্যতা। কিন্তু অতি মুনাফালোভী জেলেরা এসব খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছেন। এতে মাছের প্রজনন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিষমিশ্রিত মাছ খেয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সেইসঙ্গে বিষমিশ্রিত পানি বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। এই পানি পান করছে বনের পশু-পাখী। ফলে হুমকিতে রয়েছে সুন্দরবনের প্রাণীকূল।

‘সুন্দরবন দিয়ে প্রবাহমান পশুর নদী দূষণ হচ্ছে কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে। সরকারি সংস্থা সিইইজিএসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পশুর নদীর পানিতে বিষাক্ত সিসার (মার্কারি) পরিমাণ বাড়ছে। নদীতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১০ গুণ মার্কারি বেড়েছে। এতে জলজ প্রাণীর ক্ষতি ও বায়ু দূষণে মানুষেরও ক্ষতি হচ্ছে’

শিল্প দূষণে সুন্দরবনের ক্ষতিও কোনো অংশে কম নয়। সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) শিল্পায়ন গড়ে উঠেছে। এসব শিল্প-কারখানার বর্জ্য পড়ছে সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদীতে। আর পশুর নদীর জোয়ার-ভাটায় তা প্রবেশ করছে বনের অভ্যন্তরে। আর এতে বনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়তই।

প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণের শিকারও সুন্দরবন। সম্প্রতি এক গবেষণায় সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলা, পশুর ও রুপসা নদীর ১৭ প্রজাতির মাছে মাইক্রো প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে। এই মাইক্রো প্লাস্টিকের কণার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি মিলেছে সুন্দরবনের হরিণা চিংড়িতে। এ মাছে মানবদেহে ক্যানসার ও লিভার ঝুঁকি বাড়ছে। সম্প্রতি ব্রাজিলের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন

সূত্র বলছে, সুন্দরবনের বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী পাচারে আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো এসব অপরাধীদের গ্রেফতার করতে না পারা। ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) গবেষণা অনুযায়ী, বন্যপ্রাণী অপরাধের মাত্র ৩০ শতাংশ আসামি গ্রেফতার হন। মামলায় সাজা কম ও মামলার দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। তাই মামলা শেষে আবার তারা অপরাধে জড়াচ্ছেন।

‘সুন্দরবনের নদীতে তেল, কয়লা, সার ও ক্লিংকার বোঝাই জাহাজডুবিতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে জীববৈচিত্র্যের। নৌযান থেকে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। নৌযানের ঢেউয়ে বনে ভাঙন ধরছে। নদীতে বিলীন হচ্ছে গাছপালা। নৌযানের বিকট শব্দে বন্যপ্রাণীর বিচরণ ও প্রজনন বিঘ্নিত হচ্ছে। একই কারণে ডলফিনের অভয়াশ্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’

সুন্দরবনের ৫৫ ভাগ এলাকাই অভয়াশ্রম। সেই অভয়াশ্রমও এখন আর নিরাপদ নেই বলছেন গবেষকরা। নিষিদ্ধ অভয়াশ্রমে এক শ্রেণির অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সহায়তায় সারা বছরই মাছ শিকার করেন অসৎ জেলেরা। ফলে অভয়াশ্রমও ধ্বংস হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
সুন্দরবনে দস্যুতায় ফিরছেন আত্মসমর্পণকারীরা, নেপথ্যে দুই কারণ
সুন্দরবনে ‘বনবাস’ যেন এক অনন্ত শান্তি
মিরসরাইয়ের বুকে যেন তৈরি হচ্ছে আরেক সুন্দরবন
সুন্দরবনে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে বন বিভাগের উদ্যোগ
ফের চালুর উদ্যোগ, কর্মসংস্থান হবে হাজারো মানুষের
সুন্দরবনে নষ্ট হচ্ছে জব্দ হাজারো নৌকা-ট্রলার

সুন্দরবনের নদীতে তেল, কয়লা, সার ও ক্লিংকার বোঝাই জাহাজডুবিতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে জীববৈচিত্র্যের। নৌযান থেকে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। নৌযানের ঢেউয়ে বনে ভাঙন ধরছে। নদীতে বিলীন হচ্ছে গাছপালা। নৌযানের বিকট শব্দে বন্যপ্রাণীর বিচরণ ও প্রজনন বিঘ্নিত হচ্ছে। একই কারণে ডলফিনের অভয়াশ্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে সুন্দরবন। এতে বন্যপ্রাণীর ক্ষয়ক্ষতি, প্রজনন সমস্যা ও প্রাণীকূলের সুপেয় পানির আধার বিনষ্ট হচ্ছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ না থাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে। এতে বনের অনেক গাছপালা মারা যাচ্ছে। বনের প্রাণীকূলের ওপরও এ প্রভাব পড়ছে।

বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন

সুন্দরবন দিয়ে প্রবাহমান পশুর নদী দূষণ হচ্ছে কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে। সরকারি সংস্থা সিইইজিএসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পশুর নদীর পানিতে বিষাক্ত সিসার (মার্কারি) পরিমাণ বাড়ছে। নদীতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১০ গুণ মার্কারি বেড়েছে। এতে জলজ প্রাণীর ক্ষতি ও বায়ু দূষণে মানুষেরও ক্ষতি হচ্ছে।

‘সুন্দরবন সুরক্ষা ও বন নির্ভরশীলদের জীবন-জীবিকা এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমরা কাজ করছি। বন অপরাধ দমনে সোচ্চার আছি। বনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কোনো সুযোগ নেই। কাউকেই বন ঘিরে কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন করতে দেওয়া হবে না’—বন প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) তথ্যমতে, সুন্দরবনের মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে বাঘ, ভোঁদড়, শকুন ও কচ্ছপ। বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে বানর, মেছোবিড়াল ও উইদ বিড়াল। আর সংকটাপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে বনবিড়াল, বাগডাশ, ইরাবতি ডলফিন ও শুশুক।

২৩ বছরে ২৭ বার আগুন

সুন্দরবনে একের পর এক আগুন লাগায় বনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে আসছে। গত ২৩ বছরে ২৭ বার আগুন লেগেছে। যার সব কটিই পূর্ব সুন্দরবন এলাকায় এবং লোকালয়-সংলগ্ন ভোলা নদীর পাশের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের বনাঞ্চলে।

এসব আগুনের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, বেশির ভাগ আগুন লেগেছে জেলে-মৌয়ালদের অসাবধানতায়। যদিও এ নিয়ে বনজীবীদের দ্বিমত আছে। আগুনে অন্তত ৭০ একর বনভূমি পুড়েছে।

‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’-এর কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী মো. নুর আলম শেখ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের গর্বিত অভিভাবক আমরা। সুন্দরবন রক্ষায় আমরা ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।’

‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, ‘সুন্দরবনে ধ্বংসযজ্ঞ অনেকদিন ধরেই চলমান। এর বিশালতার কারণে আমরা খালি চোখে সরল চিন্তায় এখনো এই অপূরণীয় ক্ষতি বুঝতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বেপরোয়া শিল্পায়নকে সঠিকভাবে পুনরায় পরিকল্পিত টেকসই শিল্পায়নে রূপান্তর করতে হবে।’

বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন

বন সংক্রান্ত অপরাধ দমনে টহল বাড়ানো হয়েছে বলে জানান সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আমাদের অধিক তৎপরতার কারণে এবার চলতি শুষ্ক মৌসুমে বনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এখনো ঘটেনি। এছাড়া পর্যটকদের মাধ্যমে যে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ হচ্ছিল, সেটাও আমরা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আর বড় একটা দূষণ হচ্ছে মোংলা বন্দরের পিকনিক কর্নার থেকে। সেখানে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ ঘটছে। এটা বন্দর কর্তৃপক্ষের দেখা প্রয়োজন। শিল্প দূষণে যে ক্ষতি হচ্ছে, সেটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে পরিবেশ অধিদপ্তর।’

পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার বিভাগীয় উপপরিচালক শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘মোংলা বন্দরে যেসব শিল্প কলকারখানা রয়েছে তা দিয়ে কোনো তরল বর্জ্য বের হয় না। এলপিজি ফ্যাক্টরিগুলো দিয়ে তেমন দূষণ হয় না। আর সিমেন্ট ফ্যাক্টরির মাধ্যমে বায়ু দূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তারপরও প্রতিবছর ও ছয় মাস পর পর ওই এলাকার বায়ু পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফ্যাক্টরিগুলোকে বিভিন্ন বিধিনিষেধের আওতায় আনা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবনের মধ্যদিয়ে জাহাজ চলাচলে যে দূষণ হচ্ছে, সেটিকে রোধ করতে গেলে আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে। দূষণ রোধে আমরা পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে সতর্কও করছি।’

বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবন

এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আমাদের অর্জন হলো বিগত ২৩ বছরে বনে ২৭ বার আগুন লেগেছে, এবার কিন্তু লাগেনি। কারণ বন বিভাগের নিয়মিত টহল ও ড্রোন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিষ দেওয়া দুর্বৃত্ত যে জোনে ধরা পড়বে, সেই জোনের বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবনের সঙ্গে লোকালয়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। খাল খনন ও ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছে, যাতে দুর্বৃত্ত বনে প্রবেশ করতে না পারে এবং বন্যপ্রাণী যেন লোকালয়ে আসতে না পারে। এতে অপরাধ কমার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা হবে।’

বন বিভাগের কঠোরতায় বন অপরাধও কমে আসছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দস্যুতা নির্মূল করা হচ্ছে। প্রশাসনের তৎপরতায় অনেক দস্যু আটক হয়েছে। একটি বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে। ট্যুরিজম ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে এবার জুন, জুলাই ও আগস্টের নিষিদ্ধ সময়ে শুধু করমজলে পর্যটক পরিবহন চালু রাখা হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দরবন সুরক্ষা ও বন নির্ভরশীলদের জীবন-জীবিকা এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমরা কাজ করছি। বন অপরাধ দমনে সোচ্চার আছি। বনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কোনো সুযোগ নেই। কাউকেই বন ঘিরে কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন করতে দেওয়া হবে না।’

এএইচএস/এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow