বিয়ের আশ্বাসে বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে মামলা

বগুড়ার সোনাতলায় বিয়ের আশ্বাসে এক বিধবাকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে বগুড়ার প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের বিচারক আনোয়ারুল ইসলাম বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনিব্যবস্থা নিতে সোনাতলা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী নাহিদ পারভেজ জনি। মামলার অভিযুক্তরা হলেন- বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সাতবেকী গ্রামের সাদিক বেপারি (২৫), একই গ্রামের ঋাতু মিয়া (২৩) এবং হাঁসরাজ গ্রামের হিরু মিয়া (৩০)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে তিনি বগুড়া সদরে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। সোনাতলায় বোনের বাড়িতে আসা-যাওয়ার সুবাদে প্রধান আসামি সাদিক বেপারী তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। প্রথমে তা প্রত্যাখ্যান করলেও পরবর্তীতে মোবাইল ও ইমো অ্যাপে নিয়ম

বিয়ের আশ্বাসে বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে মামলা

বগুড়ার সোনাতলায় বিয়ের আশ্বাসে এক বিধবাকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে বগুড়ার প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

আদালতের বিচারক আনোয়ারুল ইসলাম বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনিব্যবস্থা নিতে সোনাতলা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী নাহিদ পারভেজ জনি।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন- বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সাতবেকী গ্রামের সাদিক বেপারি (২৫), একই গ্রামের ঋাতু মিয়া (২৩) এবং হাঁসরাজ গ্রামের হিরু মিয়া (৩০)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে তিনি বগুড়া সদরে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। সোনাতলায় বোনের বাড়িতে আসা-যাওয়ার সুবাদে প্রধান আসামি সাদিক বেপারী তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। প্রথমে তা প্রত্যাখ্যান করলেও পরবর্তীতে মোবাইল ও ইমো অ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সাদিক তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন এবং বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন।

সবশেষ গত ১৬ জুলাই বিয়ের কথা বলে ভুক্তভোগীকে সোনাতলার চরপাড়া বাসস্ট্যান্ডে ডেকে নেন সাদিক। সেখানে অন্য দুই আসামি ঋাতু ও হিরুর সহায়তায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। পরবর্তীতে কাজি ডাকার অজুহাতে তাকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নেওয়া হয়। গভীর রাতে কাজি না আসার কথা বলে অন্য দুজন কেটে পড়লে সাদিক ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকে আবার ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অন্য দুই আসামির সহায়তায় সাদিক পালিয়ে যান। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা বিষয়টি পুলিশ কেস উল্লেখ করে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে পুলিশ মামলা না নেওয়ায় পরবর্তীতে আদালতে আবেদন করেন ওই নারী।

এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ওসি কবির হোসেন জানান, আদালতের আদেশের কপি এখনো হাতে পৌঁছায়নি। কাগজ পেলেই মামলা রেকর্ড করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow