বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের শতবর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা

ঐতিহাসিক বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রংপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ জুলাই বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার সংগঠন আত্মসভার উদ্যোগে শহরের বিকন মোড়ে গড়ন আর্ট গ্যালারিতে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। ‘বাংলার মুসলিম চিন্তার অগ্রগতির তত্ত্বতালাশ’ শীর্ষক আলোচনায় প্রাবন্ধিক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক, গবেষক ও বাংলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা মামুন সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞানের বিকাশ ও বুদ্ধির দীপ্তি, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে যার কোনো বিকল্প নেই। শিখা-গোষ্ঠীর অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র, পরমতসহিষ্ণুতা, উদারনৈতিকতা ও বহুত্ববাদী চিন্তাধারা উন্নত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে আদর্শ হিসেবে কাজ করতে পারে। এখানেই শতবর্ষে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য।’ মূল বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, লেখক ও গবেষক ড. সঞ্জয় সরকার, বাংলা একাডেমির সহকারী সম্পাদক, আভিধানিক ও প্রাবন্ধিক রাজীব কুমার সাহা এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম পলাশ

বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের শতবর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা

ঐতিহাসিক বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রংপুরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ জুলাই বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার সংগঠন আত্মসভার উদ্যোগে শহরের বিকন মোড়ে গড়ন আর্ট গ্যালারিতে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। ‘বাংলার মুসলিম চিন্তার অগ্রগতির তত্ত্বতালাশ’ শীর্ষক আলোচনায় প্রাবন্ধিক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক, গবেষক ও বাংলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা মামুন সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞানের বিকাশ ও বুদ্ধির দীপ্তি, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে যার কোনো বিকল্প নেই। শিখা-গোষ্ঠীর অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র, পরমতসহিষ্ণুতা, উদারনৈতিকতা ও বহুত্ববাদী চিন্তাধারা উন্নত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে আদর্শ হিসেবে কাজ করতে পারে। এখানেই শতবর্ষে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য।’

মূল বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, লেখক ও গবেষক ড. সঞ্জয় সরকার, বাংলা একাডেমির সহকারী সম্পাদক, আভিধানিক ও প্রাবন্ধিক রাজীব কুমার সাহা এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম পলাশ।

আভিধানিক ও প্রাবন্ধিক রাজীব কুমার সাহা বলেন, ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি বহুমাত্রিক ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। শিখা পত্রিকা এ আন্দোলনের তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক অভিভাবক হিসেবে আধুনিক শিক্ষা, ভাষা-সাহিত্যের বিকাশ, নারীচেতনার উন্মোচন, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও মুক্ত মননের পক্ষে গভীর ও সুসংবদ্ধ বৌদ্ধিক পরিসর তৈরিতে সবিশেষ ভূমিকা রেখেছে।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সঞ্জয় সরকার বলেন, ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন কেবল ১৯২৬ সালের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয় বরং এটি শতবর্ষ পরেও আমাদের চিন্তা ও মননের স্বাধীনতা রক্ষার অমূল্য দিকনির্দেশনা। মুক্তচিন্তার চর্চা ছাড়া সমাজে প্রগতি ও মানবকল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আজকের তরুণ প্রজন্মকে অন্যায্য প্রথা ও অন্ধবিশ্বাস ভেঙে মুক্তবুদ্ধির চর্চায় এগিয়ে আসতে হবে। তবেই এই শতবর্ষ উদযাপন সার্থক হবে।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ তৎকালীন বাঙালি মুসলমানের উন্নয়নের স্বার্থে যে শিক্ষাদর্শন বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছিল, সে দর্শন বাস্তবায়ন করতে পারলে শুধু বাঙালি মুসলমান না বরং সমস্ত বাঙালি ও বাংলাদেশির জন্য তা বিশেষ গুরুত্ববহ হবে। শিক্ষার আধুনিকায়ন ও বিজ্ঞানভিত্তিক-জ্ঞাননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাই পারে বর্তমান বাংলাদেশকে পথ দেখাতে।’

আত্মসভার কর্মাধ্যক্ষ কবি মীর রবি বলেন, ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সাম্প্রতিককালে কী রূপ পরিগ্রহ করেছে, তা ইতিহাসের আলোকে বিচার করার তাগিদ থেকেই এ আয়োজন। শিখা গোষ্ঠীর শতবর্ষে দাঁড়িয়ে সেই ঐতিহ্য পর্যালোচনা করাও আবশ্যক ছিল। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের শতবর্ষে আত্মসভা আয়োজিত মুসলিম চিন্তার অগ্রগতির তত্ত্বতালাশ তারই বিনম্র নিবেদন।’

আয়োজনের সূচনা হয় শিল্পী ইসরাত জাহান কাকনের সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। শুরুতেই আত্মভাষণ দেন আলোকচিত্রী ফিরোজ চৌধুরী। আলোচনা সভা বিষয়ে জবাবদিহিতা করেন কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অনিন্দ্য আউয়াল। আত্মপাঠ কারমাইকেল কলেজ ইউনিটের পক্ষে কথা বলেন নুরনবী ইসলাম। সমাপনী বক্তব্য রাখেন কবি মনজিল মুরাদ লাভলু। উপস্থিত সুধীজনের মধ্যে অভিমত প্রকাশ করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ আলম, অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিরিনা খাতুন, অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুর রাজ্জাক, শিক্ষক সুনীল সরকার প্রমুখ।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow