বৃক্ষমেলায় খুঁজে নিন আপনার পছন্দের গাছ

রাজধানীর ব্যস্ততা, যানজট আর কংক্রিটের অরণ্যের মাঝেও যেন হঠাৎ করে জন্ম নিয়েছে সবুজের স্বপ্নরাজ্য। সারি সারি ফুল, ফল, বনজ ও শৌখিন গাছের সমারোহে শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠ এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলা। মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬ শেষ পর্যায়ে পৌঁছাতেই বেড়েছে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ভিড়। গাছ কেনার পাশাপাশি প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতেই প্রতিদিন পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। গত ৯ জুলাই শুরু হওয়া জাতীয় বৃক্ষমেলা চলবে আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত। সময় যত ফুরিয়ে আসছে; ততই জমে উঠছে মেলার পরিবেশ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্টলগুলোতে মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। কেউ খুঁজছেন ছাদ বাগানের জন্য উপযুক্ত ফলের চারা, কেউ আবার ঘর সাজানোর জন্য বেছে নিচ্ছেন বাহারি পাতাবাহার কিংবা ফুলের গাছ। অনেকে আবার শুধু সবুজের সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক স্টল থেকে আরেক স্টলে। এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছের বিশাল সমাহার দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। ফুল, ফল ও বনজ গাছের পাশাপাশি আছে শৌখিন ও দুর্লভ প্রজাতির অসংখ্য চারা। বিশেষ করে বি

বৃক্ষমেলায় খুঁজে নিন আপনার পছন্দের গাছ

রাজধানীর ব্যস্ততা, যানজট আর কংক্রিটের অরণ্যের মাঝেও যেন হঠাৎ করে জন্ম নিয়েছে সবুজের স্বপ্নরাজ্য। সারি সারি ফুল, ফল, বনজ ও শৌখিন গাছের সমারোহে শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠ এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলা। মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬ শেষ পর্যায়ে পৌঁছাতেই বেড়েছে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ভিড়। গাছ কেনার পাশাপাশি প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতেই প্রতিদিন পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ।

গত ৯ জুলাই শুরু হওয়া জাতীয় বৃক্ষমেলা চলবে আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত। সময় যত ফুরিয়ে আসছে; ততই জমে উঠছে মেলার পরিবেশ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্টলগুলোতে মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। কেউ খুঁজছেন ছাদ বাগানের জন্য উপযুক্ত ফলের চারা, কেউ আবার ঘর সাজানোর জন্য বেছে নিচ্ছেন বাহারি পাতাবাহার কিংবা ফুলের গাছ। অনেকে আবার শুধু সবুজের সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক স্টল থেকে আরেক স্টলে। এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছের বিশাল সমাহার দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। ফুল, ফল ও বনজ গাছের পাশাপাশি আছে শৌখিন ও দুর্লভ প্রজাতির অসংখ্য চারা।

tree

বিশেষ করে বিদেশি জাতের রাম্বুটান, পারসিমন, আজওয়া খেজুর, পাকিস্তানি আনার এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় জাতের আমের চারা দর্শনার্থীদের বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। কেউ দাম জেনে কিনছেন, কেউ আবার ভবিষ্যতে লাগানোর পরিকল্পনায় তথ্য সংগ্রহ করছেন। মেলায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা দেখা যাচ্ছে ছাদ বাগানের উপযোগী ফলের গাছ এবং ঘর সাজানোর শৌখিন উদ্ভিদের।

তবে শুধু কেনাকাটাই নয়, বৃক্ষমেলা এখন অনেকের কাছে বিনোদনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। প্রতিটি নার্সারির সবুজে ঘেরা পরিবেশে হাঁটছেন দর্শনার্থীরা, গাছপালা দেখছেন, ছবি তুলছেন, ভিডিও ধারণ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতি ধরে রাখতে নানা বয়সী মানুষের সেলফি ও গ্রুপ ছবির ব্যস্ততাও চোখে পড়ে। বিশেষ করে শিশুরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাছ থেকে দেখে দারুণ উচ্ছ্বসিত।

tree

মেলার আরেকটি বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বাঁশের বিশেষ একটি নার্সারি। সাধারণ ফুল বা ফলের চারার বাইরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশের সংগ্রহ কৌতূহলী দর্শনার্থীদের টেনে নিচ্ছে এই স্টলে। এই স্টলের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন হলো বাঁশ পাতার চা। মেলায় এটিই একমাত্র স্টল, যেখানে দর্শনার্থীরা বাঁশ পাতার চায়ের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বৃক্ষমেলা শুধু গাছ কেনাবেচার একটি আয়োজন নয়; এটি প্রকৃতিপ্রেম, পরিবেশ সচেতনতা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়েরও একটি উৎসব। দ্রুত নগরায়ণের এই সময়ে এমন আয়োজন মানুষকে আবারও গাছের কাছে ফিরতে উদ্বুদ্ধ করছে।

মেলায় ঘুরে বেড়ানোর এক ফাঁকে দেখা যায়, এক দর্শনার্থীর হাতে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারায় ভরা একটি ব্যাগ। নতুন কিছু চারা কেনার জন্য তিনি নার্সারির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলছিলেন। কাছে গিয়ে আলাপ হলে জানা যায়, তার নাম মইনুল ইসলাম। তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন চাকরিজীবী। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও শখ থেকেই নিজের বাসার ছাদে গড়ে তুলেছেন ফুলের বাগান। সেখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ৩০০টিরও বেশি গাছ আছে। বিশেষ করে ক্যাকটাস ও এডেনিয়ামের সংগ্রহই বেশি। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর বৃক্ষমেলায় আসার চেষ্টা করি। এখানে একসঙ্গে অনেক ধরনের দেশি-বিদেশি গাছ পাওয়া যায়। তাই নতুন সংগ্রহ করার ভালো সুযোগ থাকে। এবার ২০ হাজার টাকার গাছ কিনেছি। বিশেষ করে অর্কিড ও অ্যারোপ্ল্যান্টের চারা সংগ্রহ করেছি।’

tree

বিভিন্ন নার্সারি ঘুরে নিজের পছন্দের চারা ও গাছ দেখছেন চাকরিজীবী আলামিন। একজন সঙ্গীকে নিয়ে তিনি বাড্ডা এলাকা থেকে মেলায় এসেছেন। ঘুরে দেখার পাশাপাশি নিজের ছাদ বাগানের জন্য বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা কেনার ইচ্ছেও রয়েছে। আলামিন বলেন, ‘বৃক্ষমেলায় আসতে আমার সব সময়ই ভালো লাগে। কারণ এক জায়গায়, এক ছাদের নিচেই প্রায় সব ধরনের দেশি-বিদেশি গাছ পাওয়া যায়। নতুন গাছ সম্পর্কে জানারও সুযোগ থাকে। এবার পার্টিন, লোকাল আপেল হাইব্রিড ও টেরিনিয়াম প্ল্যান্ট কেনার পরিকল্পনা আছে। তবে দাম এবার একটু বেশি মনে হচ্ছে।’

নিজের বাগান করার গল্প তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে প্রথমে শখ করে অ্যাকুয়ারিয়ামে মাছ পালন শুরু করি। মাছ চাষে সফল না হওয়ার পর নতুন কিছু করার চিন্তা করি। শুরুতে বাসার ছাদে একটি পেয়ারা ও একটি বরই গাছ লাগিয়েছিলাম। মা সেগুলোর পরিচর্যা করতেন। এরপর ধীরে ধীরে গাছের প্রতি ভালোবাসা আরও বেড়ে যায়। একটা পর্যায়ে একটি ছাদ বাগানই গড়ে তুলি। তাই সুযোগ পেলেই নতুন নতুন গাছ সংগ্রহ করি।’

tree

জাতীয় বৃক্ষমেলায় প্রথমবার ঘুরতে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল। রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর থেকে মায়ের সঙ্গে মেলায় এসেছেন তিনি। ফয়সাল বলেন, ‘এবারই প্রথম জাতীয় বৃক্ষমেলায় এলাম। এক জায়গায় এত ধরনের গাছ আগে কখনো দেখিনি। পরিবেশটা খুবই ভালো লেগেছে। বাসার ছাদ ও বারান্দা ছোট পরিসরের হওয়ায় সেখানেই বিভিন্ন রকমের গাছ লাগানো হয়। তাই এবার আম, মাল্টা, পেয়ারা ও তেজপাতার চারা কিনেছি।’

দিনের অন্য সময়ের তুলনায় বিকেলের দিকে বৃক্ষমেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় ক্রমেই বাড়তে থাকে। গাছপ্রেমী মানুষ, পরিবার-পরিজন ও বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow