বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া, মরদেহ ফেরত আনার দাবি বাবার

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে হত্যার শিকার নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মাদারীপুরে তার বাড়িতে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে স্বজনরা ভিড় করে আছেন। তার মৃত্যুর খবরটি তারা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দুপুরের এটিএম বাজার এলাকার জহির উদ্দিন আকন ও আলভী বেগম দম্পতির মেয়ে। বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুরের এটিএম বাজার এলাকার জহির উদ্দিন আকন বহু বছর ধরে ঢাকার মিরপুরে থাকেন। গ্রামের বাড়িতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ঈদের সময় আসতেন। বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান একজন প্রৌকশলী। বৃষ্টিও ছিলেন প্রচণ্ড মেধাবী। তাই উচ্চশিক্ষা নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান। শনিবার সকালে তার পরিবার বৃষ্টির নিহতের খবর জানতে পারেন। এরপর তার গ্রামের বাড়িতে সেই খবর পৌঁছালে আত্মীয়-স্বজন

বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া, মরদেহ ফেরত আনার দাবি বাবার

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে হত্যার শিকার নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মাদারীপুরে তার বাড়িতে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে স্বজনরা ভিড় করে আছেন। তার মৃত্যুর খবরটি তারা কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দুপুরের এটিএম বাজার এলাকার জহির উদ্দিন আকন ও আলভী বেগম দম্পতির মেয়ে। বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুরের এটিএম বাজার এলাকার জহির উদ্দিন আকন বহু বছর ধরে ঢাকার মিরপুরে থাকেন। গ্রামের বাড়িতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ঈদের সময় আসতেন। বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান একজন প্রৌকশলী। বৃষ্টিও ছিলেন প্রচণ্ড মেধাবী। তাই উচ্চশিক্ষা নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান।

বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া, মরদেহ ফেরত আনার দাবি বাবার

শনিবার সকালে তার পরিবার বৃষ্টির নিহতের খবর জানতে পারেন। এরপর তার গ্রামের বাড়িতে সেই খবর পৌঁছালে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা ভিড় করেন। নেমে আসে এক গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের দাবি দ্রুত বৃষ্টির মরদেহ খুঁজে বের করে দেশে আনা হোক। পাশাপাশি অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

বৃষ্টির চাচাতো বোন তুলি আকন বলেন, ‘বৃষ্টি আপু অনেক মেধাবী ছিলেন। অনেক ভালো ছিলেন। সকালে জাহিদ ভাইয়া (বৃষ্টি বড় ভাই) তার ফেসবুকে আপু মারা যাওয়া নিয়ে পোস্ট দেন, তা দেখে আমরা প্রথমে জানতে পারি। তবে এর আগে থেকেই আপু নিখোঁজ ছিলেন। কীভাবে, কেন তাকে হত্যা করা হলো, তা আমরা কিছুই জানি না। তার এক সহপাঠীকেও হত্যা করা হয়েছে। শুনেছি তার মরদেহ পাওয়া গেছে। কিন্তু আপুর মরদেহ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।’

বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া, মরদেহ ফেরত আনার দাবি বাবার

তার আরেক চাচাতো বোন ফজিলা আক্তার বলেন, ‘আমরা কিছুতেই এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। আমরা অপরাধীদের শাস্তি চাই। আর বৃষ্টির মরদেহ দেশে আনার দাবি জানাই।’

বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন বলেন, ‘বৃষ্টি অনেক মেধাবী ছিল। সে বেঁচে থাকলে হয়ত দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারতো। কিন্তু তার আগেই তাকে হত্যা করা হলো। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’

বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া, মরদেহ ফেরত আনার দাবি বাবার

বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যায় বৃষ্টি। ফ্লোরিডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। সব শেষ গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টির সঙ্গে আমাদের কথা হয়। এরপর থেকেই বৃষ্টি নিখোঁজ। পরবর্তীতে আমরা বৃষ্টি ও তার সহপাঠীর মৃত্যুর খবর পাই।

তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই। এটা নিশ্চিত হয়েছি। তার মরদেহ উদ্ধার করে দেশে আনার দাবি জানাই। দোষীদের শাস্তি চাই।

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, আমি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি বৃষ্টি নামে মাদারীপুরের এক শিক্ষার্থী আমেরিকায় মারা গেছেন। এক্ষেত্রে মূল কাজ করবে দূতাবাস। আমার কাছে তার পরিবার যদি কোনো সহযোগিতা চায়, আমি সেটা করবো। দূতাবাস যদি স্থানীয় কোনো তথ্য চায় সেটাও দিতে পারবো।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এফএ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow