বেনাপোল বন্দরের শেডে হাঁটুপানি, ভিজছে কোটি টাকার আমদানিপণ্য
টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের একাধিক শেডে হাঁটুপানি জমে ভারত থেকে আমদানি করা কোটি কোটি টাকার পণ্য পানিতে ভিজে ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে উদ্বেগে রয়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, পানি অপসারণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগও চলছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যশোরের বেনাপোল এলাকায় টানা বৃষ্টি শুরু হয়। আজ রোববার (১২ জুলাই) অবিরাম বর্ষণে বন্দরের তিন নম্বর গেটসংলগ্ন পাঁচটি শেডে পানি ঢুকে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত পণ্য তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালানো হলেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর হওয়া সত্ত্বেও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই শেড ও ইয়ার্ডে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে শত শত কোটি টাকার আমদানিপণ্য ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃপক্ষের দ
টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের একাধিক শেডে হাঁটুপানি জমে ভারত থেকে আমদানি করা কোটি কোটি টাকার পণ্য পানিতে ভিজে ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে উদ্বেগে রয়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, পানি অপসারণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগও চলছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যশোরের বেনাপোল এলাকায় টানা বৃষ্টি শুরু হয়। আজ রোববার (১২ জুলাই) অবিরাম বর্ষণে বন্দরের তিন নম্বর গেটসংলগ্ন পাঁচটি শেডে পানি ঢুকে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত পণ্য তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালানো হলেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর হওয়া সত্ত্বেও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই শেড ও ইয়ার্ডে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে শত শত কোটি টাকার আমদানিপণ্য ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রায় শতাধিক আমদানিকারক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অধিকাংশ পণ্যের বীমা না থাকায় ক্ষতিপূরণের সুযোগও নেই বলে দাবি করেন তারা।
ব্যবহারকারীদের ভাষ্য, পানি নিষ্কাশনের জন্য অতীতে কমিটি গঠন করা হলেও তার কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। গত বর্ষায় কয়েকদিন তৎপরতা থাকলেও পরে আর কোনো পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী মো. আব্দুল করিম বলেন, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বন্দরের ভেতরে চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি শেডে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে। প্রতিবছর বন্দরের বিভিন্ন ফি ও ভাড়া বাড়লেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার প্রতিফলন নেই। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণ করায় প্রতিবছর বর্ষায় একই সংকট তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বেনাপোল কাস্টমসের মাধ্যমে সরকার বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও বন্দরের মৌলিক অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। শেডে পানি ঢুকে পণ্য নষ্ট হওয়ায় ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে কয়েকটি শেডে পানি ঢুকে কিছু পণ্য ভিজেছে। পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণের কাজ চলছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি নিষ্কাশনে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টি থেমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।