• গত আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনায় মামলা হয়েছে ১১৪৫টি
• ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মামলা হয়েছিল ৭৬৩টি
• গত ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীতে ২৮৯টি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল ৭৫৮ জন ছিনতাইকারী
• ১১৫ জনই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, আবার জড়িয়েছেন অপরাধে
বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধীরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই সামাল দিতে পারছে না সরকার। নানাভাবে চাঁদাবাজি ছাড়াও একের পর এক খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেই চলছে।
রাজধানীর উত্তরায় এক দম্পতিকে কোপানো ও টাঙ্গাইলে বাসে ডাকাতি-শ্লীলতাহানির ঘটনার রেশ না কাটতেই গত রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বনশ্রীতে বাসায় ফেরার সময় এক জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে গুলি ও কুপিয়ে জখম করে ১৬০ ভরি স্বর্ণালংকার ও এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার ভিডিওচিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আতঙ্ক তৈরি হয়।
- আরও পড়ুন
- দেশে ফিরতেই র্যাব পরিচয়ে প্রবাসীর ২১ লাখ টাকা ডাকাতি, গ্রেফতার ১
- রাজধানীতে যুবককে গুলি করে মোবাইল ও টাকা ছিনতাই|
- মনে অইছিন ডাকাতরা মাইরা ফালাইবো, আল্লাহ বাঁচাইছে
- ডাকাতের বাড়িতে অভিযান, সাত চোরাই গরু উদ্ধার
শুধু বনশ্রীর ঘটনা নয়, বিগত কয়েক মাসে একের পর এক অপরাধের ঘটনা সামনে এসেছে।
গত মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের লক্ষণের বাধা এলাকায় শিক্ষাসফরের তিনটি বাসে ডাকাতি ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার ঘাটাইল-সাগরদীঘি সড়কের লক্ষণের বাধা এলাকায় পাহারা দিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসী।
এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে নওগাঁর পত্নীতলায় সড়কে গাছ ফেলে একটি বাস ও একটি মাইক্রোবাসে ডাকাতি হয়। একই রাতে ঢাকার আশুলিয়ার জিরানীতে নিজ বাসায় ডাকাতের গুলিতে আহত হন অভিনেতা আজিজুর রহমান আজাদ। ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় তার পায়ে তিনটি গুলি করা হয়। তার মা ও স্ত্রীও আহত হন।
২১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় তিনজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে একটি মেসেজে লেখা ছিল ‘কালু, জাসদ গণবাহিনী’।
শীর্ষ অপরাধী থেকে শুরু করে যারা নানা ধরনের অপরাধ করছে তাদের অপারেশন ডেভিল হান্টের আওতায় আনা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ যাতে স্বস্তি নিয়ে নিরাপদে কর্মস্থলে যেতে পারে এবং তার প্রিয়জনের কাছে ফিরতে পারে সেই নিশ্চয়তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিতে হবে। -সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক
পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিককালে ডাকাতি ও দস্যুতার (ছিনতাই) ঘটনায় মামলা বেড়েছে। গত জানুয়ারিতে দেশে ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৪২টি, যা গত বছর ২০২৪ সালের একই মাসের তুলনায় ৯৯টি বা ৬৯ শতাংশ বেশি। ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনায় গত ডিসেম্বরে মামলা হয়েছে ২৩০টি, যা গত ২০২৩ সালের একই মাসের তুলনায় ৯৫টি বা ৭০ শতাংশ বেশি।
- আরও পড়ুন
- টঙ্গীতে ছিনতাইকারী সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
- ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে সবাই প্রতিরোধ গড়ে তুলি: ডিএমপি কমিশনার
- নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় মানুষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করছে কী?
- রাজধানীজুড়ে পুলিশের ৫০০ টহল টিম, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ২৮৯
সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনায় মামলা হয়েছে এক হাজার ১৪৫টি, যা ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের তুলনায় ৩৮২টি বা ৫০ শতাংশ বেশি।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ধানমন্ডির একাংশ ও মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেশি অবনতি হয়।
মোহাম্মদপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মোহাম্মদপুরের কিছু এলাকায় ছিনতাইকারীদের এত দৌরাত্ম্য যে দিনের বেলায়ও বের হতে ভয় করে।
- আরও পড়ুন
- ১৯ দিনে অপারেশন ডেভিল হান্টে গ্রেফতার সাড়ে ১০ হাজার ছাড়ালো
- আতঙ্কে সারারাত কাটলো রাজধানীবাসীর
- সেনা-র্যাব-পুলিশ-বিজিবির পোশাক কেনা যায় মার্কেটে, বাড়ছে অস্থিরতা
- চট্টগ্রামে ছিনতাইকারী গ্যাংয়ের চার সদস্য গ্রেফতার
রাজধানীর আরও অনেক এলাকায় বেড়েছে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য। কেবল নীরব সড়কে নয়, যানজটে আটকে থাকা যানবাহনেও হচ্ছে ছিনতাই। যাত্রাবাড়ীর কাজলা পেট্রলপাম্প এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাতে জটে আটকে পড়া যানবাহনের যাত্রী-চালক মাঝেমধ্যে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছেন। পথচারীরাও বাদ যাচ্ছেন না। এছাড়া কিছু সড়কে বাতি নষ্ট থাকায় অন্ধকারাচ্ছ সড়কে হচ্ছে ছিনতাই।
আইনশৃঙ্খলার এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ দাবিতে গত রোববার গভীর রাতে বিক্ষোভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এরপর রাত ৩টায় বারিধারায় নিজ বাসভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগের দোসররা। তাদের হাতে প্রচুর টাকা রয়েছে। সেসব টাকা দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। কিন্তু সেই সুযোগ তারা পাবে না। তাদের সবার ঘুম হারাম করে দেব।
- আরও পড়ুন
- ১২০০ টাকার জন্য হত্যা, গ্রেফতার ৩
- সন্ত্রাসী যত শক্তিশালীই হোক রক্ষা পাবে না: ডিবি প্রধান
- ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার ১৫
- উত্তরায় দুই যুবককে ফুটওভার ব্রিজে ঝুলিয়ে পেটালো জনতা
নিজের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা চায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হোক। সেটাই করার চেষ্টা করছি। সফল হলে পদত্যাগের প্রসঙ্গ আসবে না।’
একই সুরে কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও। তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি খারাপের পেছনে রাজনৈতিক দলের প্রচেষ্টা রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতিতে সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে বলে জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘টাকা থাকলে, বদ মতলব থাকলে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার মতো অনেক কিছু করা যায়। আমাদের ব্যর্থতা আছে, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।’
- আরও পড়ুন
- টাঙ্গাইলে শিক্ষাসফরের তিন বাসে ডাকাতি
- সারাদেশে ২১৮ টহলদল মোতায়েন, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি
- ঝিনাইদহে ধানখেতে গোলাগুলি, চরমপন্থী নেতাসহ নিহত ৩
- লুট হওয়া ১৪০০ অস্ত্র, আড়াই লাখ গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার হয়নি
অপরাধ বৃদ্ধির কারণ
পুলিশের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বেশ কিছু থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়াসহ লজিস্টিকস ঘাটতিতে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। নতুন সরকারের অধীনে পুলিশের কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি। এই সীমাবদ্ধতা অপরাধীরা কাজে লাগাচ্ছে। এ সুযোগে কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বেকারত্বের কারণে কিছু মানুষ অপরাধের পথে পা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে রাতের শেষ ভাগে পুলিশের টহল কম থাকায় ছিনতাইকারীরা এ সময় টার্গেট করে অপরাধ করছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার তৎপরতায় ঘাটতি রয়েছে।
‘চোর ধরে আনলেও সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাইরে ডিউটি করে ভুক্তভোগীদের সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। ঝুঁকি নিতে হচ্ছে প্রতিদিন।’- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন এসআই
দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, এমন পরিস্থিতির নেপথ্য কারণ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ পুলিশ বাহিনীতে রয়েছে। তাদের গা-ছাড়া ভাব রয়েছে। এছাড়া ওই সময়ে পুলিশে সুবিধাভোগীদের একটি অংশও রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ অনেক অপরাধী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। পুলিশের যথাযথ টহল, নজরদারি, সক্রিয়তা না থাকার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা।
- আরও পড়ুন
- চলন্ত বাসে ডাকাতি-শ্লীলতাহানির ঘটনার ৩ দিন পর মামলা
- স্বাভাবিক হয়নি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উদ্বেগ বাড়ছেই
- বাড়ছে আতঙ্ক, ‘মব জাস্টিস’ থামানোর তাগিদ
- কেমন হলো পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম?
পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা মূলত এখন কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চান না। কেবল নির্ধারিত সময় ধরে থানায় ডিউটি করাই এখন তাদের প্রধান কাজ। দৈনিক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা এবং থানার ভেতরে টেবিলওয়ার্কের দিকেই তাদের বেশি মনোযোগ। বাইরে ডিউটি করতে গেলে নানান ধরনের অপরাধের শিকার হয়ে ভুক্তভোগীরা তাদের কাছে আসেন। কিন্তু তাদের জন্য তেমন কিছুই করার থাকে না। ছিনতাইকারীকে ধরতে গেলেও হামলার শিকার হতে হয় তাদের। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত টহল এবং তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চোর ধরে আনলেও সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাইরে ডিউটি করে ভুক্তভোগীদের সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। ঝুঁকি নিতে হচ্ছে প্রতিদিন।’
কয়েকশ ছিনতাইকারী গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু তারা আবার আদালত থেকে জামিন নিয়ে একই ছিনতাই কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে।- র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান
জামিন পেয়ে আবার জড়াচ্ছে অপরাধে
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীতে ২৮৯টি মামলায় ৭৫৮ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১১৫ জনই জামিনে বেরিয়ে গেছেন। অনেক ক্ষেত্রে জামিন পেয়ে যাচ্ছেন অল্প দিনের মধ্যে। যেমন গত ১৬ জানুয়ারি সূত্রাপুর থানার দস্যুতার এক মামলায় ফাইম খান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি পরদিনই জামিন পেয়ে যান।
- আরও পড়ুন
- মোহাম্মদপুরে দুজন নিহত, ৫ জন আটকের বিষয়ে যা বলছে আইএসপিআর
- আইনশৃঙ্খলায় স্বস্তি ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ
- পুলিশের অস্ত্র লুট নিরাপত্তার জন্য হুমকি, শিগগির অভিযান
- পুলিশের ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, আহত ৫
পুলিশ বলছে, জামিন পেয়ে অপরাধীরা আবার অপরাধে জড়াচ্ছে।
আর র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, কয়েকশ ছিনতাইকারী গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু তারা আবার আদালত থেকে জামিন নিয়ে একই ছিনতাই কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে।
সরকারপক্ষের আইনজীবীদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও অনুরোধ জানিয়ে র্যাবের মহাপরিচালক বলেন, আদালতে ছিনতাইকারীদের কার্যকলাপ ও এর ভয়াবহতা, জনজীবনে কী পরিমাণ অশান্তি তৈরি করছে তা তুলে ধরেন, যাতে আদালত জামিন দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
- আরও পড়ুন
- হাতিরঝিলে ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ গোলাগুলি, কলা বিক্রেতাসহ গুলিবিদ্ধ ২
- কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানা থেকে অস্ত্র উদ্ধার
- পুলিশের গাড়িতে বসেও কুপিয়ে মারার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা
- কবজি কেটে উল্লাসের ভিডিও টিকটকে দিতো ‘কবজি কাটা গ্রুপ’
অপরাধীদের অপারেশন ডেভিল হান্টের আওতায় আনা প্রয়োজন
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র সব সময় বোঝা যায় না। যে ঘটনাগুলোর অভিযোগ পুলিশে কাছে যায় সেগুলোই মামলা বা সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিবদ্ধ করে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে যান না ঝামেলার ভয়ে। গণঅভ্যুথানের ছয় মাস পরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ায় মানুষের মনে নিরাপত্তা প্রশ্নে ভয়ের মাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, শীর্ষ অপরাধী থেকে শুরু করে যারা নানান ধরনের অপরাধ করছে তাদের অপারেশন ডেভিল হান্টের আওতায় আনা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ যাতে স্বস্তি নিয়ে নিরাপদে কর্মস্থলে যেতে পারেন এবং তার প্রিয়জনের কাছে ফিরতে পারেন সেই নিশ্চয়তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাশিত মাত্রায় ঘুরে দাঁড়াতে হবে। অন্যথায় এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি খারাপ হবে।
একটি গোষ্ঠী চায় না বাংলাদেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাক। সেটার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। -আইজিপি বাহারুল আলম
যা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, রাতে ছিনতাই বেড়েছে। দিনেও ছিনতাই বেড়েছে। ছিনতাই প্রতিরোধে মেট্রোপলিটন পুলিশ, র্যাব ও অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট যৌথ অভিযান শুরু করেছে। আমরা দেখি এভাবে উন্নতি হয় কি না। না হলে আমাদের অন্য পরিকল্পনায় যেতে হবে।
আইজিপি বলেন, একটি গোষ্ঠী চায় না বাংলাদেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাক। সেটার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, দেশব্যাপী চুরি, ছিনতাই, খুন ও ডাকাতি প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিরতিহীনভাবে অতিরিক্ত টহল মোতায়েনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
- আরও পড়ুন
- অপরাধের হটস্পট চিহ্নিত, সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে: সেনাসদর
- মোহাম্মদপুরে প্রকাশ্যে পিস্তল বের করে কাউন্সিলরের ভাইয়ের হুমকি
- কুমিল্লায় সোনার দোকানে ডাকাতি, র্যাবের জালে ডাকাত সর্দার
ঢাকার নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঢাকা শহরে ছিনতাইয়ের প্রবণতা একটু বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং দু-একটি ঘটনা ভাইরাল হওয়ায় আমরা ছিনতাইকারী এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছি। একটা ঘটনা যখন হয়, সমাজে একটা প্যানিক সৃষ্টি হয়, যা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে। এটা থেকে মানুষকে বের করে আনার জন্য আমরা আরও বেশি অ্যাকটিভ। ছিনতাইকারীদের ধরা এবং তাদের দমন করার জন্য আমাদের ডিএমপির সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, এপিবিএন, এটিইউ সব এজেন্সি যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।’
শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে কারামুক্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের মনিটরিংয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না এবং তাদের সঙ্গে চুরি-ছিনতাইয়ের অপরাধে যুক্ত তাদের কোনো যোগসাজশ থাকতে পারে কি না জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘অবশ্যই যোগসাজশ আছে। উনারা (জামিন পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী) বের হয়ে এসে উনাদের গ্রুপগুলো সংঘটিত করে আবার অ্যাক্টিভ (সক্রিয়) হয়েছে। আমরা অনেক চাঁদাবাজ ধরেছি।’
টিটি/এমএমএআর/জিকেএস