বৈদ্যুতিক গাড়িতে বড় ছাড়, কমবে দাম, বাড়বে বিনিয়োগ

পরিবেশ সুরক্ষায় দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) ও ই-বাইককে আরও সহজলভ্য করতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ই-বাইকে ব্যাপক শুল্ক ও কর ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ ও ‘নজিরবিহীন ছাড়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের মতো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাও। এমন পরিপ্রেক্ষিতে দেশে এই শিল্পে বিনিয়োগ বেড়ে আরও প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বছরে এখন ৪০ হাজার ই-বাইক ও স্কুটার বিক্রি হলেও ২০৩১ সালের মধ্যে তা অন্তত পাঁচ গুণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ই-বাইক ও স্কুটারে পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ৫০ হাজার ডলারের (প্রায় ৬১ লাখ ৪০ হাজার টাকা) নিচের বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশের বাজারে আরও বেশি চীনা ও জাপানি প্রযুক্তির বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রসার ঘটতে পারে। তবে দাম বাড়তে পারে বিএমডব্লিউ, মার্সেডিজ বেঞ্জ ও আউডির মতো দামি ও ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ির। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার দেশে বর্তমানে টেসলা, মার্সেডিজ বেঞ্

বৈদ্যুতিক গাড়িতে বড় ছাড়, কমবে দাম, বাড়বে বিনিয়োগ

পরিবেশ সুরক্ষায় দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) ও ই-বাইককে আরও সহজলভ্য করতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ই-বাইকে ব্যাপক শুল্ক ও কর ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ ও ‘নজিরবিহীন ছাড়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের মতো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাও। এমন পরিপ্রেক্ষিতে দেশে এই শিল্পে বিনিয়োগ বেড়ে আরও প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বছরে এখন ৪০ হাজার ই-বাইক ও স্কুটার বিক্রি হলেও ২০৩১ সালের মধ্যে তা অন্তত পাঁচ গুণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ই-বাইক ও স্কুটারে পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ৫০ হাজার ডলারের (প্রায় ৬১ লাখ ৪০ হাজার টাকা) নিচের বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশের বাজারে আরও বেশি চীনা ও জাপানি প্রযুক্তির বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রসার ঘটতে পারে। তবে দাম বাড়তে পারে বিএমডব্লিউ, মার্সেডিজ বেঞ্জ ও আউডির মতো দামি ও ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ির। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার

দেশে বর্তমানে টেসলা, মার্সেডিজ বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ, আউডি, বিওয়াইডি, ডিপাল ও এমজি ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হচ্ছে। এসব গাড়ির দাম প্রায় ৪০ লাখ টাকা থেকে শুরু হয়ে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যমতে, গত ১৮ জুন পর্যন্ত ৮২৬টি বৈদ্যুতিক গাড়ি বিআরটিএ থেকে নিবন্ধন নিয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে চারটি, ২০২২ সালে দুটি, ২০২৩ সালে ৩৮টি, ২০২৪ সালে ৬৬টি ও ২০২৫ সালে ২৩৮টি বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন হয়েছে। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত নিবন্ধন নিয়েছে ৪৭৮টি বৈদ্যুতিক গাড়ি।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্সেডিজ বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ ও আউডি- এই তিন ব্র্যান্ড মিলিয়ে বছরে ২০০ থেকে ২৫০টির বেশি গাড়ি বিক্রি হয়। সম্প্রতি বিওয়াইডি দুই ধাপে ৯০টি বৈদ্যুতিক গাড়ি গ্রাহকের হাতে তুলে দিয়েছে। সমানতালে ডিপাল ও এমজি ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়িও বিক্রি হচ্ছে এখন।

বৈদ্যুতিক গাড়িতে বড় ছাড়, কমবে দাম, বাড়বে বিনিয়োগঅর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করেন, ছবি: পিআইডি

বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রসারে বাজেটে যা বলা হয়েছে

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। বাজেটে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন ও সংযোজন এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল ও চার্জিং অবকাঠামো আমদানিতে ব্যাপক শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।

বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে শুল্ক-কর অব্যাহতি

জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহনের বিকল্প হিসেবে দেশে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করতে বাজেটে শুল্ককর রেয়াতি সুবিধা দিয়ে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

যে সব প্রতিষ্ঠান চার চাকা ও তিন চাকার বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের বডি তৈরি, ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং এবং সংযোজন সম্পন্ন করার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চমূল্য সংযোজন করবে, তাদের ক্ষেত্রে উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়া সব ধরনের শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যে সব প্রতিষ্ঠান পার্টস সংযোজন ও পেইন্টিং কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কিছুটা কম মূল্য সংযোজন করবে, তাদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয় বাজেটে।

একই সঙ্গে স্থানীয় বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের উপকরণ ও কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশের অতিরিক্ত ভ্যাট এবং অন্য সব ধরনের শুল্ক-কর থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিয়ে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। এসব রেয়াতি সুবিধা ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখা হবে।

বৈদ্যুতিক গাড়িতে বড় ছাড়, কমবে দাম, বাড়বে বিনিয়োগবিওয়াইডির বৈদ্যুতিক গাড়ি, ছবি: বিওয়াইডি

বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতেও শুল্ক ছাড়

পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় অথবা অনুরূপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান সব শুল্ক-কর এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক বাস-ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া সব শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন বর্ধিত করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

বর্তমানে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি উচ্চ করভারের কারণে সর্বসাধারণের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের লক্ষ্য করে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।

প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল আমদানিতেও শুল্ক হ্রাস

জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষায় প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল ব্যবহার বাড়াতে ২০০০ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক গাড়ির শুল্ক-কর হারে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এসব গাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক গাড়ির ধরন ভেদে কমানোর এবং ১৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

ফলে ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে মোট করভার ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ দশমিক ৪৩৭ শতাংশ হবে এবং দুই হাজার সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ হবে।

চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে সব ধরনের শুল্ককর প্রত্যাহার

বৈদ্যুতিক গাড়ির নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সবচেয়ে জরুরি দেশব্যাপী বিস্তৃত চার্জিং নেটওয়ার্ক। এজন্য পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের জন্য আমদানি পর্যায়ে মোট করভার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।

একই সঙ্গে ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন আমদানির ক্ষেত্রে উৎসে কর হার ৫ শতাংশ থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

নিবন্ধন ও নবায়নে অগ্রিম আয়কর কমানোর প্রস্তাব

বাজেটে সব ধরনের বৈদ্যুতিক গাড়ি বিআরটিএতে নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অগ্রিম আয়কর কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে অগ্রিম আয়কর দুই লাখ টাকা হলেও তা কমিয়ে সক্ষমতার ভিত্তিতে স্তরভিত্তিক হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত সক্ষমতার ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা, ৩০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৫০ হাজার, ৪০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৭৫ হাজার ও ৪০০ কিলোওয়াটের বেশি সক্ষমতার ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৈদ্যুতিক গাড়িতে বড় ছাড়, কমবে দাম, বাড়বে বিনিয়োগডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, ফাইল ছবি

জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে মোট করের বোঝা ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৪ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে আমদানি করা বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ি নিবন্ধনের অগ্রিম আয়কর (এআইটি) দুই লাখ থেকে কমিয়ে গাড়িভেদে ২৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা করা হয়েছে। ফলে ক্রেতারা বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনতে উৎসাহিত হবেন। স্থানীয়ভাবে তিন ও চার চাকার বৈদ্যুতিক গাড়ির বডি তৈরি, ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঁচামাল আমদানিতে ৩ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি বাদে বাকি সব শুল্ক-কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা দেশে নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বাইক ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনে উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করবে বলে আমরা মনে করি। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের মোট শুল্ক ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য করায় দ্রুত দেশব্যাপী চার্জিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।’

তাসকীন আহমেদ আরও বলেন, ‘এখনো দেশের বেশির ভাগ মানুষ জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত মধ্যম গাড়ির ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং বিষয়টি বিবেচনায় রেখে গবেষণাভিত্তিক নীতি প্রণয়ন করা জরুরি বলে আমরা ঢাকা চেম্বার মনে করছি। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের বিকাশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ, চার্জিং নেটওয়ার্ক ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।’

দাম বাড়তে পারে উচ্চমূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন ও জাপানের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম কমলেও উচ্চমূল্যের অর্থাৎ ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম বাড়বে। আগে সব ধরনের গাড়িতে ৯৩ শতাংশ শুল্ক থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী ৪২ থেকে ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বেড়েছে। অর্থাৎ ৫০ হাজার ডলারের বেশি দামের বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে খরচ আরও বেড়েছে।

তথ্য বলছে, আগে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে একক রেট অর্থাৎ ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ শুল্ক ছিল। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, ২৫ হাজার ডলারের নিচের বৈদ্যুতিক গাড়িতে শুল্ক কমিয়ে ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলারের গাড়িতে কর ৮০ দশমিক ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। তবে, ৫০ হাজারের ওপর থেকে এক লাখ ডলার পর্যন্ত গাড়িতে শুল্ক বেড়ে হয়েছে ১৩৬ শতাংশ, দুই লাখ ডলার পর্যন্ত ১৬০ শতাংশ ও দুই লাখ ডলারের বেশি দামের গাড়িতে শুল্ক দাঁড়িয়েছে ২২৪ শতাংশ।

বৈদ্যুতিক গাড়িতে বড় ছাড়, কমবে দাম, বাড়বে বিনিয়োগআউডির বৈদ্যুতিক গাড়ি, ছবি: আউডি

জানতে চাইলে আউডি বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড (সেলস) সাফায়েত বিন তৈয়ব জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি খাতের সম্ভাবনা অনেক। কম দামের যেসব মডেল দেশে আসছে, সেগুলো শুল্ক সুবিধার কারণে বেশি লাভবান হবে। তবে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের মানসম্পন্ন বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর দাম বেশি হওয়ায় সেগুলো সাধারণত ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ডলার মূল্যের ক্যাটাগরিতে পড়ে এবং তুলনামূলক কম সুবিধা পাবে। ফলে সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর দাম আরও বাড়বে। এতে এসব গাড়ির বিক্রি নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে এবং বাজারে বিক্রির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশে বিএমডব্লিউর হেড অব সেলস মো. আব্দুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশে আগে সব ধরনের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ শল্ক ছিল। একাধিক স্ল্যাবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী কম দামি বৈদ্যুতিক গাড়িতে শুল্ক কমলেও দামি গাড়িতে শুল্ক বেড়েছে। ফলে কম দামের গাড়ির দাম কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু উচ্চমূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়িতে শুল্ক বাড়ায় দাম আরও বাড়তে পারে।’

আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিএমডব্লিউর অধিকাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি উচ্চমূল্যের স্ল্যাবের মধ্যে পড়েছে। আমাদের যেসব গাড়ির মূল্য এক লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি, সেগুলোর ওপর শুল্ক ৯৩ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ১৬০ শতাংশ হয়েছে। ফলে এসব গাড়ির দাম কমার পরিবর্তে আরও বাড়বে। অনেক ক্ষেত্রে তা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।’

বৈদ্যুতিক গাড়িতে বড় ছাড়, কমবে দাম, বাড়বে বিনিয়োগবিএমডব্লিউর বৈদ্যুতিক গাড়ি, ছবি: বিএমডব্লিউ

বিএমডব্লিউর এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমাদের যেসব গাড়ি আগে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হতো, সেগুলোর মূল্য এখন কয়েক কোটি টাকার ঘরে পৌঁছে যেতে পারে। বাজেটের প্রভাব বিশ্লেষণ করে আমরা শিগগির চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করবো।’

এ বিষয়ে মার্সেডিজ বেঞ্জ বাংলাদেশের হেড অব সেলস ফয়সাল আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার এখনো ছোট। মার্সেডিজ বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ ও আউডি- এই তিন ব্র্যান্ড মিলিয়ে বছরে ২০০ থেকে ২৫০টির বেশি গাড়ি বিক্রি হয়। তাই লাক্সারি বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারের আকার এখনো সীমিত।’

তবে সামগ্রিকভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ি খাতের জন্য বাজেট ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ফয়সাল। বলেন, ‘চীনা ও জাপানি ব্র্যান্ডের অনেক গাড়ি ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পড়ে। আগে এসব গাড়ির ওপর ৯৩ শতাংশ কর ছিল, এখন তা অনেকটাই কমেছে। ফলে বিওয়াইডি, চেরি, চ্যাংগানসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ির দাম পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। এ কারণে বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে বলে আমরা মনে করছি।’

বৈদ্যুতিক গাড়িতে বড় ছাড়, কমবে দাম, বাড়বে বিনিয়োগবিওয়াইডির বৈদ্যুতিক গাড়ি, ছবি: বিওয়াইডি

এদিকে, দেশে চীনা ও জাপানি বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বাড়ছে। সম্প্রতি বিওয়াইডি দুই ধাপে ৯০টি বৈদ্যুতিক গাড়ি গ্রাহকের হাতে তুলে দিয়েছে।

বিওয়াইডি বাংলাদেশের চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের জাগো নিউজকে বলেন, আমরা মনে করি এবারের বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য দেওয়া কর ও ভ্যাট সুবিধা বাংলাদেশের অটোমোবাইল খাতে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এটি শুধু বৈদ্যুতিক গাড়িকে আরও বেশি মানুষের নাগালের মধ্যে আনবে না, একই সঙ্গে গ্রাহকদের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক গাড়িকে বিবেচনা করার আগ্রহও বাড়াবে।

‘বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকারের উদ্যোগ শুধু গাড়ির দাম কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি চার্জিং অবকাঠামো, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি বৈদ্যুতিক গাড়ির ইকোসিস্টেম তৈরির পথও আরও শক্তিশালী করবে। আমরা বিশ্বাস করি, সরকারের নীতিগত সহায়তা, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এবং ক্রমবর্ধমান গ্রাহক সচেতনতা একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশে টেকসই ও স্মার্ট মোবিলিটির নতুন অধ্যায় তৈরি হবে।’

ইমতিয়াজ নওশের বলেন, বাংলাদেশে ইলেকট্রিক প্যাসেঞ্জার ভেহিক্যালের বাজার এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এর প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা অত্যন্ত শক্তিশালী। অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতিগত সহায়তা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং গ্রাহকদের মধ্যে অপারেটিং কস্ট ও পরিবেশগত সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে আগামী কয়েক বছরে এই বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে। বর্তমানে বাজারে আগ্রহ ও গ্রহণযোগ্যতা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। আমরা মনে করি ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক গাড়ি বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেগমেন্টে পরিণত হবে এবং ধীরে ধীরে মূলধারার অটোমোবাইল বাজারের বড় অংশ হয়ে উঠবে। বিওয়াইডি বাংলাদেশ হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, আগামী দিনের প্রতিযোগিতা শুধু গাড়ি বিক্রির নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, গ্রাহক অভিজ্ঞতা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার।

ই-বাইকে রেয়াতি সুবিধা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশে ই-বাইক উৎপাদনকারী শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশীয় ই-বাইক উৎপাদন শিল্পে বিদ্যমান শুল্ককর অব্যাহতি সুবিধা আরও বিস্তৃত ও সহজ করার লক্ষ্যে ই-বাইক উৎপাদনকারী ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে পার্টস ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনে নিয়োজিত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করছি।

ফলে বাজারে ই-বাইকের দাম আরও কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈদ্যুতিক গাড়িতে বড় ছাড়, কমবে দাম, বাড়বে বিনিয়োগরাইডো ব্র্যান্ডের স্কুটার, ছবি: রাইডো

দেশে বিদ্যুৎচালিত স্কুটারের মধ্যে রাইডো ব্র্যান্ডের স্কুটারই সবচেয়ে সাশ্রয়ী। প্রায় ৫০ হাজার টাকায়ও এই ব্র্যান্ডের স্কুটার কেনা যায়।

রাইডোর হেড অব মার্কেটিং শরীফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাজেটে বৈদ্যুতিক ই-বাইক, ই-স্কুটার, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট ব্যাটারি শিল্পে ভ্যাট এবং শুল্কে যে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে, এটি বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। বিশেষ করে ই-বাইকের ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ পর্যন্ত নামিয়ে আনা ও স্থানীয় উৎপাদনে বিভিন্ন কর সুবিধা দেওয়ার ফলে উৎপাদন খরচ কমবে ও বিনিয়োগ বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে দুই-চাকার বৈদ্যুতিক স্কুটারের বাজার বছরে প্রায় ৪০ হাজার ইউনিটের পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের ইভি নীতি, জ্বালানি ব্যয়ের চাপ, শহুরে যাতায়াতের প্রয়োজন ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনের চাহিদার কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক দুই-চাকার গাড়ির বাজার পাঁচ থেকে সাত গুণ বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ব্যবহারকারী, ডেলিভারি সেবা, করপোরেট ফ্লিট ও শহুরে কমিউটিং এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে।’

২০২৫ সালে ই-বাইক বিক্রিতে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈদ্যুতিক গাড়িতে বড় ছাড়, কমবে দাম, বাড়বে বিনিয়োগআকিজ, ইয়াদিয়া, রিভো ও ওয়ালটনের বিদ্যুৎচালিত স্কুটার, কোলাজ ছবি 

দেশে বিদ্যুৎচালিত স্কুটারের মধ্যে ইয়াদিয়া, রিভো, আকিজ, ওয়ালটন, রাইডো ও এটলাস  উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ইয়াদিয়া স্কুটার বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে রানার।

রানার অটোমোবাইল পিএলসির চিফ বিজনেস অফিসার মুহাম্মাদ আবু হানিফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে বেড়েছে। জ্বালানি সংকটের সময় ই-বাইক ও স্কুটার বিক্রি ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে, কারণ এটা পরিবেশবান্ধব ও খরচ কম। একবার চার্জ দিলে মাত্র ১৪-১৫ টাকা খরচ হয় ও ১০০ কিলোমিটার চলে। পেট্রোলচালিত বাইকে এক কিলোমিটার চললে সাড়ে চার টাকা খরচ হয়, আর বিদ্যুতে এক কিলোমিটার চললে ১৪ পয়সা খরচ হয়। জ্বালানি সংকটের পর থেকে মানুষ এখন এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন।’

তেলচালিত গাড়িতে বাড়তি কর

পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ডিজেল, অকটেন বা পেট্রোলচালিত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে এবং পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে মধ্যম সারির ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনবিশিষ্ট আমদানিকৃত গাড়ির ওপর বিদ্যমান সামগ্রিক করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে অন্যান্য গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করভার অপরিবর্তিত থাকবে বলে তিনি জানান।

রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আবদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বৈদ্যুতিক গাড়ি খাত নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো দেশে এখনো বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। চার্জিং সুবিধা, রক্ষণাবেক্ষণ, সার্ভিস, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষ জনবল- সবকিছুই এখনো উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। ইঞ্জিনচালিত (আইসি) গাড়ি থেকে আমরা ধীরে ধীরে হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে এগিয়েছি। এ খাতে একটি গ্রহণযোগ্য পরিবেশও তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ গাড়িই হাইব্রিড। তাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল হাইব্রিড গাড়ি আরও কিছু নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে। কিন্তু বাজেটে সেই সুযোগ না দিয়ে পুরো গুরুত্ব বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত গাড়ির ওপর শুল্ক ও করের বোঝা বেড়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আমরা কীভাবে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেব, সেটিই এখন একটি বড় প্রশ্ন। আর বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার ভবিষ্যতে কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

 ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ও নজিরবিহীন ছাড়’

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে সরকারের ঐতিহাসিক ও সংস্কারমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করে পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ। সংস্থাটির মতে, ‘...বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌর উপকরণের শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) শিল্পকে যে নজিরবিহীন ছাড় দেওয়া হয়েছে, তা দেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন বা ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি।’

ইএইচটি/এমএমএআর/এমএফএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow