বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের ইশতেহার ঘোষণা

10 hours ago 1

আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেল। প্যানেলের পক্ষ থেকে ৮টি প্রস্তাবনায় মোট ৫০ দফা দাবি সম্বলিত ইশতেহার উপস্থাপন করে প্যানেলটি।

শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের, জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার ও এজিএস প্রার্থী আশরেফা খাতুন ইশতেহার পাঠ করেন।

ইশতেহারে ৮ প্রস্তাবনায় মোট ৫০টি দাবি উপস্থাপন করা হয়। প্রথম প্রস্তাবনা হলো রাজনৈতিক। সেখানে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় রাজনীতির মহড়া, অস্ত্রের ঝনঝনানি ও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে জীবন, কর্ম, জ্ঞান, দক্ষতা ও সেবাভিত্তিক নাগরিক তৈরি করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা। হল ও একাডেমিক অঙ্গনে দলীয় রাজনৈতিক কাঠামো বন্ধ করা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, নিপীড়ন ও জুলুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার প্রস্তাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবনা হলো একাডেমিক ও প্রশাসনিক। এর অধীনে রয়েছে গণতান্ত্রিক সংস্কার, প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগের স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন, ওয়ান স্টপ সলিউশন ও প্রশাসনিক ভবনের অধিকাংশ কাজ পেপারলেস করা।

এছাড়াও এ প্রস্তাবনায় লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের পরিধি বৃদ্ধি, আধুনিক ক্লাসরুম ও পাঠদানের জন্য ক্লাসে ডিজিটাল উপকরণ নিশ্চিত, ল্যাব ফ্যাসিলিটির আধুনিকায়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন, দশতলা বিশিষ্ট একটা স্বতন্ত্র স্টাডি স্পেস নির্মাণ, ক্রেডিট ট্রান্সফার, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রাস্তা ও হলের সম্মুখভাগ আলো ও সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় প্রস্তাবনায় রয়েছে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার। এখানে, ওয়ান কার্ড অল সার্ভিসের মাধ্যমে লাইব্রেরি একসেস, স্বাস্থ্য সেবা, পরিবহন সেবা, ক্যান্টিন সেবা, হলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান সিট নীতিমালার বাস্তবায়ন, আবাসন সংকট দূরীকরণে চাহিদাপত্র অনুযায়ী হলে শিক্ষার্থীদের এটাচমেন্ট দেয়া, আবাসন সংকট পরিপূর্ণ দূরীকরণ পর্যন্ত যারা সিট পাবে না তাদের আবাসন ভর্তুকির আওতায় আনা, প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরুর এক সপ্তাহ আগে সিট নিশ্চিত করা এবং স্নাতকোত্তর রেজাল্ট প্রকাশের এক সপ্তাহ পরে সিট ছেড়ে দেওয়া।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা, মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন ও সব শিক্ষার্থীর জন্য ল্যাপটপ নিশ্চিতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সুদবিহীন লোনের ব্যবস্থা করা হবে।

চতুর্থ প্রস্তাবনায় রয়েছে স্টুডেন্ট ডিগনিটি। এর মধ্যে রয়েছে দাড়ি-টুপি, বোরকা-হিজাবসহ পোশাক ও আঞ্চলিকতা কেন্দ্রিক মোরাল পুলিশিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত এবং ভিন্নধর্মাবলম্বী, জাতিসত্তা ও মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বৈষম্য বন্ধ করা।

৫ম প্রস্তাবনা হলো ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি। এর মধ্যে রয়েছে স্টারলিংকের মাধ্যমে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সেবার আওতায় নিয়ে আসা, সব একাডেমিক বিল্ডিং ও হলকে এডুরোমের মাধ্যমে ফ্রি ও ফাস্ট ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে আসা।

এ প্রস্তাবনায় আরও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য পৃথক চক্রাকার বাসের ব্যবস্থা করা, ওয়ান কার্ড অল সার্ভিস সেবা চালু, ডাকসু ও টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার খাবারে ভর্তুকি দেওয়া ও মান বৃদ্ধি করা, সোশ্যাল সায়েন্স, মোকাররম ও কাজী মোতাহর হোসেন ভবনে ক্যান্টিন ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন করা।

৬ষ্ঠ প্রস্তাবনায় রয়েছে ক্যারিয়ার ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল লাইব্রেরি ও সায়েন্স লাইব্রেরির আধুনিকায়ন, ২৪ ঘন্টা লাইব্রেরি সেবা নিশ্চিত, ই লাইব্রেরি চালু করা এ এফবিএসের ডাটা সেন্টার চালু করা। ক্যারিয়ার ক্লাব প্রতিষ্ঠা, আউটসোর্সিং ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, বিজনেস ও উদ্যোক্তাদের জন্য হাব তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

৭ম প্রস্তাবনা- কালচারাল ও স্পোর্টসভিত্তিক। এর অধীনে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মিউজিয়াম ও কালচারাল সেন্টার তৈরি, আধুনিক গেইমসরুম এবং জিমনেসিয়াম স্থাপন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধি, হলভিত্তিক খেলার মাঠগুলোকে সংস্কার ইত্যাদি।

৮ম ও শেষ প্রস্তাবনা হলো নারী শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা সম্বলিত। এ প্রস্তাবনায় রয়েছে নারী হলগুলোতে খেলাধুলার সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি, সমাজকল্যাণ এরিয়াতে ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি, সেন্ট্রাল মসজিদসহ অন্যান্য জায়গায় নারীদের নামাজের স্থান প্রসারিত করা, অনাবসিক মেয়েদের হলে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার দেওয়া, জনপরিসর বা কমন স্পেসগুলো নারীবান্ধব করা ইত্যাদি।

এফএআর/এমআইএইচএস/জেআইএম

Read Entire Article