বোরো ধানে ত্রিমুখী সংকট, দুচিন্তায় কৃষক

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে হাওরজুড়ে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তেল সংকট, শ্রমিকের অভাব আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠের সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে গভীর শঙ্কায় পড়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৩৯টি ছোট-বড় হাওরে এবার প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। মাঠের ধান পেকে গেলেও তা কাটতে গিয়ে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় হারভেস্টার মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া চড়া মজুরি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। সংকট মেটাতে স্থানীয় বালু মহালগুলোর কাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘন ঘন কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকদের কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে আগাম বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৮ এপ্রিল থেকে জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে অন্তত ৮০ শতাংশ পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে নাইন্দা হাওরে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিক আবুল কাশেম ও রুবেল মিয়া প্

বোরো ধানে ত্রিমুখী সংকট, দুচিন্তায় কৃষক

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে হাওরজুড়ে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তেল সংকট, শ্রমিকের অভাব আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠের সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে গভীর শঙ্কায় পড়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।

উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৩৯টি ছোট-বড় হাওরে এবার প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। মাঠের ধান পেকে গেলেও তা কাটতে গিয়ে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় হারভেস্টার মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া চড়া মজুরি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। সংকট মেটাতে স্থানীয় বালু মহালগুলোর কাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

ঘন ঘন কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকদের কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে আগাম বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৮ এপ্রিল থেকে জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে অন্তত ৮০ শতাংশ পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে নাইন্দা হাওরে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিক আবুল কাশেম ও রুবেল মিয়া প্রতিদিন ৭০০ টাকা মজুরিতে পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় হারভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পানিতে নেমেই ধান কাটতে হচ্ছে শ্রমিকদের।

স্থানীয় কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ধানের ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু তেল সংকটে হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। আবার বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর ঝড়-বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির ভয় তো আছেই।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশ্রাফুল আলম খাঁন বলেন, আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ কালবেলাকে জানান, কৃষকদের হারভেস্টার ব্যবহারে জ্বালানি সরবরাহ সহজ করতে প্রত্যয়ন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বালু মহালে শ্রমিক নিয়োগ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে এবং ইউপি চেয়ারম্যানদেরও সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow