ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে সরকার

নতুন অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে বেড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়। সে হিসাবে নতুন বাজেটে গত বছরের মূল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি, তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার

ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে সরকার

নতুন অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে বেড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়। সে হিসাবে নতুন বাজেটে গত বছরের মূল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি, তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ হাজার কোটি টাকা কম ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার, যা জিডিপির ২ দশমিক ২৮ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যদিও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৯৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ২৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের মোট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৪ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক খাত থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ঋণপ্রাপ্তি কমে যায়, যা বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মার্চ শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সুদহার সমন্বয় করলে প্রকৃত ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও দুর্বল, এমনকি ঋণাত্মকও হতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow