ব্যায়ামের জন্য কখন ইলেকট্রোলাইট দরকার, কখন নয়

জিমে বা রানিং করার সময় ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক অনেকের কাছে এক ধরনের ‘প্রয়োজনীয় পানীয়’ হয়ে গেছে। এগুলো দ্রুত শক্তি জোগায়, রিকভারি ভালো করে এবং পারফরম্যান্স বাড়ায়, এভাবেই প্রচার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেলিব্রেটি অ্যাথলেটরা গরম আবহাওয়ায় শক্তিশালী ট্রেনিংয়ের সময় এগুলো ব্যবহার করতেন। এখন এগুলো সাধারণ মানুষ—যারা জিমে যায়, অফিসে কাজ করা বা দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যস্ত মানুষদের জন্যও প্রচলিত হয়ে গেছে। বাজারে আছে স্পোর্টস ড্রিংক, পাউডার, স্যাশে সব মিলিয়ে প্রতিদিনের খরচ কয়েকশ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। ইলেকট্রোলাইট বলতে বুঝায় এমন খনিজ যা আমাদের শরীরে নড়াচড়া, পেশি ও দেহের পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। যেমন—সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম। লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস নিউট্রিশন গবেষক প্রফেসর গ্রেম ক্লোজ বলেন, অধিকাংশ মানুষ এমন পানীয় কিনে অপ্রয়োজনীয় খরচ করছেন। ‘শুধু বিশেষ পরিস্থিতিতে দরকার’ প্রফেসর ক্লোজ বোঝান, সাধারণত শরীরের ইলেকট্রোলাইট লেভেল স্বাভাবিকভাবে স্থিতিশীল থাকে। তাই দৈনন্দিন ব্যায়ামের সময় শরীরের ইলেকট্রোলাইট কমে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ মানুষ ঠি

ব্যায়ামের জন্য কখন ইলেকট্রোলাইট দরকার, কখন নয়
জিমে বা রানিং করার সময় ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক অনেকের কাছে এক ধরনের ‘প্রয়োজনীয় পানীয়’ হয়ে গেছে। এগুলো দ্রুত শক্তি জোগায়, রিকভারি ভালো করে এবং পারফরম্যান্স বাড়ায়, এভাবেই প্রচার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেলিব্রেটি অ্যাথলেটরা গরম আবহাওয়ায় শক্তিশালী ট্রেনিংয়ের সময় এগুলো ব্যবহার করতেন। এখন এগুলো সাধারণ মানুষ—যারা জিমে যায়, অফিসে কাজ করা বা দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যস্ত মানুষদের জন্যও প্রচলিত হয়ে গেছে। বাজারে আছে স্পোর্টস ড্রিংক, পাউডার, স্যাশে সব মিলিয়ে প্রতিদিনের খরচ কয়েকশ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। ইলেকট্রোলাইট বলতে বুঝায় এমন খনিজ যা আমাদের শরীরে নড়াচড়া, পেশি ও দেহের পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। যেমন—সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম। লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস নিউট্রিশন গবেষক প্রফেসর গ্রেম ক্লোজ বলেন, অধিকাংশ মানুষ এমন পানীয় কিনে অপ্রয়োজনীয় খরচ করছেন। ‘শুধু বিশেষ পরিস্থিতিতে দরকার’ প্রফেসর ক্লোজ বোঝান, সাধারণত শরীরের ইলেকট্রোলাইট লেভেল স্বাভাবিকভাবে স্থিতিশীল থাকে। তাই দৈনন্দিন ব্যায়ামের সময় শরীরের ইলেকট্রোলাইট কমে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ মানুষ ঠিকঠাক খাবার খেলে যথেষ্ট ইলেকট্রোলাইট পায়। আমাদের খাদ্যে লবণ থাকে, এবং ফল ও সবজিতে পটাসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে।’ কিন্তু দীর্ঘসময় বা খুব তীব্র ব্যায়ামের সময়, যেখানে প্রচুর ঘাম হয়, তখন ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। প্রফেসর ক্লোজ বলেন, ‘দীর্ঘসময় ব্যায়াম করলে, বিশেষ করে যারা অনেক ঘামেন, তখন সোডিয়াম যুক্ত ইলেকট্রোলাইট নেওয়াটা ভালো হতে পারে। এটি খেলে শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে।’ এ ছাড়া ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক পান করলে তৃষ্ণা বেড়ে যায়, ফলে কেউ বেশি পানি পান করতে পারে, যা দীর্ঘ ব্যায়ামের সময় জরুরি। ‘পানি পান করলেই চলে’ সাধারণ ব্যায়ামের জন্য, যেমন জিম, হালকা দৌড় বা ৫ কিলোমিটারের রান, ইলেকট্রোলাইটের প্রয়োজন নেই। প্রফেসর ক্লোজ আরও বলেন, শুধু পানি পান করলেই যথেষ্ট। আপনার টাকাও বাঁচবে। যদি কেউ শুধু স্বাদের জন্য ইলেকট্রোলাইট পান করে, বা এতে ব্যায়ামের সময় বেশি পানি পান করতে উৎসাহ পান, তাও খারাপ কিছু নয়। তবে দামি পাউডার কেনার বদলে তিনি সহজ ঘরে তৈরি সমাধান সাজেস্ট করেন। সহজ হোমমেড ইলেকট্রোলাইট মিশ্রণ দুই-তৃতীয়াংশ পানি এক-তৃতীয়াংশ ফলের রস (যেমন আনারসের রস) এক চিমটি লবণ এটি প্রায় ৬% কার্বোহাইড্রেট ও ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ সমাধান বলেন জানান তিনি। সকালের শুরুতেই ইলেকট্রোলাইট নেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং একটি ওমলেটের মধ্যে থাকা ইলেকট্রোলাইট একটি স্যাশের চেয়ে অনেক বেশি, তাই সকালের খাবার খাওয়া বেশি কার্যকর। ইলেকট্রোলাইট আপনাকে দ্রুত বা শক্তিশালী করবে না স্পোর্টস ড্রিংকের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মূলত কার্বোহাইড্রেটের জন্যই আছে। কারণ, শরীর মাত্র ৭০-৯০ মিনিটের হাই-ইনটেনসিটি ব্যায়ামের জন্য যথেষ্ট কার্বোহাইড্রেট জমা রাখতে পারে। সেই সময়ের বেশি ব্যায়াম করলে এ ধরনের ড্রিংক সাহায্য করতে পারে। কিন্তু সোডিয়াম ছাড়া অন্যান্য খনিজ যেমন ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম বা ফসফরাসের অতিরিক্ত চাহিদা সাধারণ ব্যায়ামের জন্য নেই। শরীর নিজেরাই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। প্রফেসর ক্লোজ বলেন, ‘ব্যায়ামের সময় শুধু পানি, কার্বোহাইড্রেট ও সোডিয়াম ঠিক রাখতে হবে।’ কখন ইলেকট্রোলাইট দরকার দীর্ঘ, তীব্র বা গরম আবহাওয়ায় ব্যায়ামের সময় ইলেকট্রোলাইট দরকার হতে পারে। দৈনন্দিন ব্যায়ামের জন্য এটি মোটেই জরুরি নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক পারফরম্যান্স বাড়ায় এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। যদি কোনো প্রোডাক্ট ১০% পারফরম্যান্স বাড়াবে বলে দাবি করে, বুঝে নিন তা সত্য নয়। সূত্র : বিবিসি

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow