ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে হত্যা, ৫ জনের দোষ স্বীকার

রাজধানীর আদাবরে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে আবুল বাশার বাদশাহকে (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় পাঁচ আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।  শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি দেওয়া পাঁচ আসামি হলেন- নিরব, রিপন, সুমন মিয়া, মজনু মিয়া ও শহীদ। একই সঙ্গে মিজান নামের আরেক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। জানা গেছে, আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করেন। মিজান ছাড়া বাকি পাঁচ আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে মিজানকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে পাঁচজনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং সব আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা সিএমএম আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার র‍্যাব ও ডিবি পুলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। র‍্যাব জামালপুর সদর থান

ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে হত্যা, ৫ জনের দোষ স্বীকার

রাজধানীর আদাবরে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে আবুল বাশার বাদশাহকে (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় পাঁচ আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। 

শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দি দেওয়া পাঁচ আসামি হলেন- নিরব, রিপন, সুমন মিয়া, মজনু মিয়া ও শহীদ। একই সঙ্গে মিজান নামের আরেক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

জানা গেছে, আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করেন। মিজান ছাড়া বাকি পাঁচ আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

অন্যদিকে মিজানকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে পাঁচজনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং সব আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা সিএমএম আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার র‍্যাব ও ডিবি পুলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। র‍্যাব জামালপুর সদর থানার কাজীর আখ এলাকা থেকে সুমনকে এবং ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে শহীদকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে ডিবি পুলিশ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থেকে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে। 

এ ছাড়া শুক্রবার (৩ জুলাই) সোয়েব হোসেন সোয়াইব ও মো. কবির নামে সন্দেহভাজন আরও দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন রাত দেড়টার দিকে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিল জয়লাভ করার পর নিরব নামের এক যুবক উচ্চশব্দে বাঁশি বাজাতে থাকেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত হৃদরোগে আক্রান্ত হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি বাঁশি বাজাতে নিষেধ করলে নিরব ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারতে উদ্যত হন। স্থানীয় লোকজন তখন বিষয়টি থামিয়ে দেন। পরে হাবিবুর রহমানের ভাগনে সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি মীমাংসার জন্য মোহাম্মদপুর থানাধীন নবোদয় হাউজিংয়ের তার অফিসে আসামিদের ডাকেন।

এরপর ৩০ জুন দুপুর ১২টার দিকে আসামিরা সাদ্দামের পথরোধ করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সাদ্দাম নিজেকে হাবিবুর রহমানের ভাগনে পরিচয় দিলে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার কপালে আঘাত করেন। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে স্থানীয় হাসান মিয়া লেদু নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজার এলাকার একটি দোকানে সালিসের আয়োজন করেন।

গত ১ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে সালিসে আসামিরা উপস্থিত হলেও বিষয়টি নিয়ে তাদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে তারা নবোদয় চার রাস্তার মোড়ে ওত পেতে থাকেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালিস শেষে আবুল বাশার বাদশা ও সাদ্দাম হোসেন ওই মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় আসামিরা সুইচ গিয়ার ও চাপাতি নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে আবুল বাশার বাদশাহর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাদ্দাম হোসেন বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় নিহত আবুল বাশারের স্ত্রী মোসা. স্মৃতি আক্তার বাদী হয়ে শনিবার (৪ জুলাই) আদাবর থানায় একটি মামলা করেছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow